রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

মৌলভীবাজার কাশিমপুর পাম্প হাউজে পাম্প ক্রয়ে ৩৪ কোটি টাকার দুর্নীতি ॥ দুদকের মামলা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্প হাউজের পাম্প ক্রয়ে ৩৪ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবোর একাধিক প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান। তিনি জানান গত বুধবার দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান এ মামলা করেন। মামলার বাদী দুদক। মামলার আসামীরা হলেন- পাউবোর যান্ত্রিক সরঞ্জাম বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী চৌধুরী নজমুল আলম, পাউবোর পাবনা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক এসএম শহিদুল ইসলাম, ঢাকা যান্ত্রিক (পাম্প হাউস) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, ঢাকার কেন্দ্রীয় যান্ত্রিক সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো আবু তালেব, ঢাকা যান্ত্রিক (পাম্প হাউজ) বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এম গোলাম সরওয়ার, পাউবোর নকশা সার্কেল-৩ (যান্ত্রিক) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্বাছ আলী, ডিজাইন সার্কেল-১ ঢাকার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল বাছিত ও চাঁদপুর যান্ত্রিক উপ-বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রুহুল আমিন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা এবং জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম। মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি দামে পাম্প কিনেছেন। অনুসন্ধানে ৮টি পাম্পের প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অথচ বিল হিসেবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে আদায় করেছে ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এতে সরকারের ৩৪ কোটি ৪২ লাখ ১৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।  উল্লেখ্য ১৯৮৩ সালে মৌলভীবাজার ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের ২৪ হাজার হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতা ও বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য হাওরের কাশিমপুরে ৮টি হাইড্রো ইলেকট্রিক্যাল পাম্প স্থাপন করেছিলো পাউবো। দীর্ঘদিন পাম্পগুলো পানিনিষ্কাশন করায় দূর্বল হয়ে পরে যার ফলে দ্বিতীয়বারের মতো নতুন পাম্প স্থাপন করার উদ্দ্যোগ নেয় পাউবো। এ প্রকল্পে ৮টি পাম্প স্থাপনের মূল্য দেখানো হয় ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যার প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ ৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোডের প্রধান প্রকৌশলী চৌধুরী নজমুল আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ