রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

প্লাটিনাম জুট মিলে শ্রমিকদের পাওনা আগে পাওয়ার জন্য ঘুষ বাণিজ্য

খুলনা অফিস: প্লাটিনাম জুট মিল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা পরিশোধের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার অবসায়নকৃত শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের মাঝে প্রথমদিনে ৪৫ জন শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করে মিল কর্তৃপক্ষ। তবে এরই মধ্যে অসহায় শ্রমিকদের সাথে আগে টাকা পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে মিল কর্তৃপক্ষ ও সিবিএ নেতাদের ঘুষ বাণিজ্য শুরু হয়েছে।

প্লাটিনাম জুট মিলের রিপিয়ারিং বিভাগের শ্রমিক সুফিয়ান বলেন, আমাকে পাওনা টাকা আগে পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক নেতা ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আমি তাকে ২০ হজার টাকা দিতে সম্মত হই। শুধু আমি একা না, আমার মত অনেকে টাকা ঘুষ দিয়ে পাওনা টাকা নিয়েছে। প্রায় ৪০ জন শ্রমিককে এ সব নেতাদের টাকা দিতে হয়েছে। তাছাড়া অনেক শ্রমিক গত ২০১৩ সালে অবসরে গেলে এখনও পর্যন্ত তারা পাওনা টাকা পায়নি। যে কারণে ৭ জন শ্রমিকের একটি তালিকা আগে দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা জমা দেয়া হয়। প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক এনায়েত উল্লাহ বলেন, অনেক অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক পাওনা এখনও পর্যন্ত বুঝে পায়নি। এ সব শ্রমিক তাদের গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন, সেই সুযোগ বুঝে শ্রমিক নেতা একটি তালিকা করে বিভিন্ন উপায়ে টাকা হাতিয়ে নিতে তৎপর রয়েছেন। প্লাটিনাম জুট মিল এমপ্লয়ীজ সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোন বিষয় তার জানা নেই। চলতি বছরের ১ জুলাই প্লাটিনামসহ দেশের ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বিজিএমসি। কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় ১৩%-২৭% অতিরিক্ত সুবিধাসহ অবসায়ন এবং ২০১৩ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রেক্ষিতে খুলনা প্লাটিনাম জুট মিলের স্থায়ী শ্রমিকদের নগদ ও সঞ্চয় বাবদ ৪২৮ কোটি টাকার বরাদ্দ আসে। বদলি শ্রমিকদের পাওনা বাবদ ১৯ কোট টাকা। যার মধ্যে গত সোমবার থেকে চেক বিতরণ শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। প্লাটিনাম জুট মিলের এমপ্লয়িজ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, শ্রমিকদের নামের তালিকা দিয়ে আগে টাকা দেয়ার জন্য অনেক নেতার সুপারিশ ছিল। তবে এদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। 

প্লাটিনাম জুট মিলের প্রধান হিসাব রক্ষক নন্দন দাশ বলেন, শ্রমিকদের কাছ টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প পরিচালক গোলাম রাব্বানি বলেন, শ্রমিকদের নামের তালিকা পাঠানোর বিষয়ে কারোর কাছ থেকে কোন টাকার অভিযোগ তিনি পাননি। তালিকা প্লাটিনাম জুট মিলের এমপ্লয়িজ বিভাগ থেকে ও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান শ্রম প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের বিষয়ে বলেছেন শ্রমিকরা পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কাউকে কোন অতিরিক্ত টাকা দিবে না। তারপর এ ধরনের অভিযোগ ওঠা দুঃখজনক। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ