বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীকে একটা মিথ্যা অপবাদ-অপব্যাখ্যার মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে

বিএফইউজের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজীর গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীকে একটা মিথ্যা অপবাদ, অপব্যাখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ বিশেষ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশে একব্যক্তির শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। এই আওয়ামী লীগের সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। শুধুমাত্র জনগণকে বোকা বানানোর জন্য তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে একব্যক্তির শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। আমরা অনেক বলেছি, আমরা এই মানববন্ধন, মিছিল, হরতাল বহুত কিছু করেছি। আমরা এখন পর্যন্ত এই সরকারের টনক নড়াতে পারিনি। কারণ তারা বিশেষ বিশেষ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আছে।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএফইউজের সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতা শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে ছড়াকার আবু সালেহ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক আবদুল করীম, শামীমুর রহমান শামীম, প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, প্রকৌশলী ফখরুল আলম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুল ইসলাম, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা বেগম, জাসাসের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ পেশাজীবী নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক হয়েছে। এভাবে আর চলতে পারে না। আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই- অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, অবিলম্বে জনগণের চোখের ভাষা পড়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যাথায় জনগণের উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হবে সেই ঢেউয়ে আপনারা সবাই ভেসে যাবেন।
মির্জা ফখরুল জনগণের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আর নিশ্চুপ হয়ে থাকবেন না। যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে আজকে যদি আমরা প্রতিবাদ না করি, রুখে না দাঁড়াই তাহলে ১৯৭১ সালের আমরা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা যে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই-সংগ্রাম করেছিলাম, যে গণতন্ত্রকে আমরা ছিনিয়ে নিয়ে আসছিলাম সেই গণতন্ত্রকে তারা আবার হরণ করেছে। সুতরাং আমাদের সবাইকে আজকে রুখে দাঁড়াতে হবে, অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে, আমাদের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘দানবীয়-হাইব্রিড-স্বৈরাচারী-পুতুল সরকারের’ বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বানও জানান তিনি।
সরকার ভিন্নমতকে স্তব্ধ করতে চায় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য তারা (সরকার) আজকে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষ যারা ভিন্নমত পোষণ করে লেখালেখি করে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো কথা বলে তখনই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। যে মামলাতে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী সাহেবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি একটা মিথ্যা অপবাদ, একটা অপব্যাখ্যা। দেশের বিশিষ্ট এ সাংবাদিক নেতাকে আইনের একটা অপব্যাখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে বিনা জামিনে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এটা একটি বিষয় নয়, অনেক সাংবাদিককে আজকে নির্যাতন করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের হত্যা করা হয় তার কোনো বিচার হয় না। আজকে সাংবাদিকরা লিখতে ভয় পান কারণ যে আইন করা হয়েছে সেই আইনগুলোর কারণে তারা আর লিখতে সাহস করেন না। সারাদেশে একটা ভয়ের, একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে- রেইন অব ট্রেরর এবং সেটা করে তারা জোর করে বন্দুকের জোরে ক্ষমতার জোরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা আজকে ক্ষমতায় টিকে আছে। অবিলম্বে রুহুল আমিন গাজী, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের মুক্তি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন নির্বাচন খেলা করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন ও সরকার যৌথভাবে এই নির্বাচনকে তাদের একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্যে। তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করছে। নির্বাচনের নামে তারা আজকে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, একটা প্রমাণ আমি দিচ্ছি। ঢাকা-১৮ উত্তরাতে যে উপ-নির্বাচন হচ্ছে সেই নির্বাচনে আমাদের দলের একজন নেতা মোস্তফা যিনি কমিশনার প্রার্থী হয়েছিলেন গত রাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে আক্রমণ করে ভাংচুর করেছে। গত শনিবার সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে আমাদের প্রার্থী  রেজা সাহেবকে (সেলিম রেজা) সারাদিন ঘরের মধ্যে আটক করে রাখা হয়েছিলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ