বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

যেখানেই দুর্নীতি পাচ্ছি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন

* সাংবাদিকরা যেভাবে যা খুশি  রিপোর্ট করতে পারেন বাধা দেইনি
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যেখানে দুর্নীতি পাচ্ছি, সে আমার যত দলের হোক, কর্মী হোক যে যেই হোক, আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাতে আমাদের বিরোধী যারা তাদের লেখার সুযোগ হচ্ছে বলার সুযোগ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ তো দুর্নীতি করছে কিন্তু এই কথাটা কেউ চিন্তা করছে না আওয়ামী লীগ তো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না, সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গতকাল রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুক্ত হন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। অন্যদিকে ইন্টার কন্টিনেন্টালে হোটেলে ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীসহ বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতারাসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুভার্গ্য ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সেই সম্ভাবনাটা সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ হয়ে যায়। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আমরা এরপরে কি দেখি? যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কারা? এদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি। যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে, মা-বোনদেরকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে গণহত্যা চালানোর সহযোগিতা তরেছে এবং লুটপাট করেছে অগ্নিসংযোগ করেছে, মূলত তারাই ১৯৭৫’র পর সরকার গঠন করে এবং তারাই ক্ষমতায় চলে আসে। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের একদিকে যেমন জীবন দিতে হয় আর আদর্শচ্যুত হয়ে যায় বাংলাদেশ, দিকহারা একটি দেশ। লক্ষ্যবস্তু কিচ্ছু নেই। সামনে কোনো লক্ষ্য ছিল না। এমনি একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতাদখল করেছিল, তারা একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। দুর্নীতির দরজা খুলে দিয়েছিল, ঋতখেলাপির কালচার শুরু করেছিল। লুটপাটের সুযোগ অবাধে করে দিয়ে এমন একটি শ্রেণি তৈরি করে দিয়ে যায়, যাতে তাদের ওপর নির্ভর করে যেন তারা চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে এবং তখন আমাদের অনেকেই তাদের সাথে হাতও মিলিয়েছিল। তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এরকমও ছিল এবং যারা আমাদের স্বাধীনতার সমর্থন করেনি, দেশী-বিদেশী চক্র তারাই তাদেরকে সমর্থন দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘আস্তে আস্তে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেই হারিয়ে যায়। জাতির পিতার নামটাই মুছে ফেলা হয়। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ হয়। যে জয় বাংলা’র স্লোগান দিয়ে লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করেছে, দেশ স্বাধীন করে দিয়ে যাই। সেই স্লোগানও বাতিল করে দেয়া হয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে উল্টো দিকে দেশটা চলতে শুরু করে।
যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, ত্যাগের কথা ভুলে যায়, বীরত্বের কথা ভুলে যায়। সে জাতির উন্নতি কখনো হয় না। ২১টা বছর কিন্তু সেই অন্ধকার যুগেই বাংলাদেশের মানুষকে কাটাতে হয়েছে। কথাটা আমার হয়ত পছন্দ সবার নাও হতে পারে। শুধু আমি আপনাদেরকে বলেবো, সাংবাদিক হিসাবে, আপনারা একটু তুলনা করে দেখেন।
‘মাত্র ১১বছর একটানা আমরা ক্ষমতায়। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ ক্ষমতায় ছিলাম। সেই সময় অনেকগুলো কাজ আমরা হাতে নিয়েছিলাম দেশের উন্নয়নে, যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ করে যেতে পারিনি। এরপর ২০০৮’র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯’র সরকার গঠন করে এই ২০২০ পর্যন্ত আমরা এখন সরকারে। এই এত অল্প সময়ের মধ্যে যদি দেশের এতো উন্নতি করা যেতে পারে, দারিদ্র্যের হার যদি ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামানো যেতে পারে। মাথাপিছু আয় যদি বৃদ্ধি করা যায়? অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায় তাহলে ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল কেন করতে পারেনি? পারে নাই সেটা না, এটা তাদের নীতির ব্যাপার ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেয়া, বাংলাদেশের মানুষকে অসহায় করে রাখা, দরিদ্র করে রাখা, দরিদ্র হাড্ডিসার মানুষগুলোকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে সাহায্যের নামে টাকা এনে সেই টাকা অধীনস্ত করা, পকেটস্থ করা, দুর্নীতিটাকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করা।’
তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপরেই গুম খুন, থেকে শুরু করে কেউ কথা বললে তাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসত, সেরকম একটি অবস্থা ছিল বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এদেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করেছে, সেটা হল সরকার জনগণের সেবক। আমি সেই ঘোষণাটাই প্রথম দিয়েছিলাম। আর সেইভাবেই সেই নীতি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার স্বপ্নটা পূরণ করবার জন্য। যে জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে বিশ্বে মর্যাদা অর্জন করেছিল ৭৫’র ১৫ আগস্টের পর সেই ভুলুন্ঠিত হয়েছিল। বিদেশের মানুষ জানত যে মানুষটি আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিল, তাকেই আপনারা হত্যা করলেন?’
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অন্তত এইটুকু দাবি আমি করতে পারি, বর্তমানে কিন্তু সেই অবস্থাটা আমাদের আছে। আমরা অর্জন করেছি। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই এখন বাংলাদেশকে সবাই মর্যাদার চোখে দেখে। বাংলাদেশ পারে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসলে সংবাদপত্র তো বলে সমাজের দর্পণ। কাজেই সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে সেটা যেন অন্তত মানুষের চিন্তা চেতনাটা যেন অন্তত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় তাদের ভিতর মানবতা বোধটা যেন থাকে, তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে। একটা সময় আমাদের দেশে ছিল যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেয়া হতো। আমাদের সরকার কিন্তু আমরা তা করছি না। যেখানে যে রিপোর্ট হচ্ছে আমরা যা খবর পাচ্ছি যতটুকু! কোথাও কোন দুর্নীতি বা কোথাও কোনো ধরনের অন্যায় হলে পরে আমরা কিন্তু কখনো এই চিন্তা করি না যে এটা করলে এর সঙ্গে আমার দল জড়িত কি না বা আমার অমুক জড়িত কি না বা আমার পার্টির বদনাম হবে কি না সরকারের বদনাম হবে কিনা আমরা কিন্তু সেই চিন্তা কখনো করি না। আমি চিন্তা করি যেখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। হ্যাঁ, এটা নিতে গিয়ে হয় এমন অনেক সময় দোষটা আমাদের উপরেই এসে পড়ে। ধরলেও আওয়ামী লীগ সরকারই বোধহয় দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়।’
প্রধানমন্ত্রীর এর কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘দুর্নীতির বীজ বপন করে গিয়েছে ‘৭৫ পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। আর তারা দুর্নীতিটাকে প্রশ্রয় শুধু দেয়া নয় নিজেরা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আমরা কিন্তু সেটা কখনো করছি না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। বাংলাদেশে হলি আর্টিজানের মতো বহু ঘটনা ঘটেছে। অনেকে ভেবেছিল এটি বোধ হয়, বাংলাদেশ একা সামাল দিতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা এটা সামাল দিয়েছিলাম এবং পরবর্তী সময়ে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের পুলিশ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আনসার বাহিনী থেকে শুরু করে যতগুলো সংগঠন আছে সবাইকে সক্রিয় করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা দেশের মানুষ, তাদের সচেতনতা এবং জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটা মানসিকতা গড়ে তোলা। মানুষ যদি সঙ্গে না থাকে মানুষ যদি পাশে না থাকে তাহলে কোনো জায়গায় কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং সেভাবেই কাজ করি। কারণ আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলি।’
সমালোচনায় কোনো আপত্তি নেই, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘সমালোচনার মধ্য দিয়েই অনেক কিছু জানা যায়। আপনারা রিপোর্ট করেন এবং যে যেভাবে যা খুশি আপনারা কিন্তু রিপোর্ট করতে পারেন। সেখানে আমরা কোনো বাধা দেইনি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতাও কিন্তু আপনাদের সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভায় একটা বক্তব্যে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলন, ‘বিপ্লবের পর যেকোনো দেশ কোনো যুগে এতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে নাই, যা আমরা করছি। আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও বিশ্বাস করি। এই জন্য আপনাদের কোনো কাজে কখনো কোনোরকম হস্তক্ষেপ করি নাই। বিপ্লবের পরে ছয় মাসের মধ্যে আপনারা যতখানি স্বাধীনতা পেয়েছেন ততখানি স্বাধীনতা এদের পূর্বে কেউ পায় নাই। আমার সরকার সংবাদ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে এমন নজির কেউ দিতে পারবে না।’
‘কথাগুলো সত্য। আপনারা জানেন, এখন তো অনেকেই এখন অল্প বয়সের তখন জন্মই হয় নাই। যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করে ২৫ মার্চ। তখন কিন্তু অনেকগুলি পত্রিকা তারা পুড়িয়ে দেয়। খুব বেশি পত্রিকা আমাদের ছিল না। প্রত্যেকটা সংবাদপত্র অফিসে তারা হামলা চালায়। স্বাধীনতার পর এমন একটা অবস্থা হয় এই সব সংবাদপত্র চালানো তাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই কিন্তু উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদেরকে সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন, সরকারি বেতন সবাই পেতেন সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়েছিলেন। সেটাকে হয়তো অন্যভাবে দেখা হয়েছে, ওনি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছেন! কারণ তখন কারও বেতন দেবার মতো বা সাংবাদিক চালানোর মতো কোনো ক্ষমতা ছিল না। আর্থিক সেই অবস্থাটা ছিল না। সেই দায়িত্বটাও তিনি নিয়েছিলেন এবং তখন সকলকেই সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়েছিলেন।’
‘দুর্ভাগ্য হল আমার নিজের দেখা, যারা সরকারি চাকরি পেয়েছিল তারাই বেশি সমালোচনা করত। যে কারণে আমি যখন ১৯৯৬ সালে সরকারে আসি, তখন দুটি পত্রিকা সরকারি ছিল। আমি সেগুলি যখন বেসরকারি করে দিতে যাই বা সরকারি কোনো পত্রিকা থাকবে না বন্ধ করে দিতে যাই, তখন একসময়কার সমালোচকরা তারা যেহেতু সরকারি বেতন-টেতন পেতেন, তারা আন্দোলনও করে, অনশনও করে। কেন সেটা আমরা বন্ধ করবো। তখন আমার বাবা নাকি রাষ্ট্রীয়করণ করেছে বলে আপনারা আন্দোলন করেছেন, সমালোচনা করেছেন, এখনো করে যান। তার মানে রাষ্ট্রীয়করণ করে কোনো সংবাদপত্র রাখবো না। এটা আমার সিদ্ধান্ত।‘
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কাজেই আমি সবাইকে বলবো একটা দায়িত্ববোধ নিয়ে চলতে হবে। দায়িত্ববোধটা হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর ইতোমধ্যে আমরা আমাদের জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। গণমাধ্যমকর্মীদেরও চাকরি সুরক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী চাকরি শর্তাবলি আইন, যেটা আগে কখনো ছিল না। তাছাড়া সম্প্রচার খাতে স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রচার আইন প্রণয়নেরও কাজ চলছে। এই কমিশনটা গঠন হওয়ার সাথে সাথে সম্প্রচার আইনও আমরা করে দেব। যাতে করে আমি বলবো, বাস্তবমুখী কাজ হয়। অহেতুক সমালোচনায় মানুষকে বিভ্রান্ত করে যেন একটা হলুদ সাংবাদিকতা যেন না থাকে। আর অনলাইনেও অন্তত সমাজভিত্তিক, মানবিক কল্যাণ, মানুষের উন্নয়নের দিকে যেন কাজে দৃষ্টি থাকে, সেই ধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই জন্য বললাম, আপনারা রিপোর্ট করেন এবং আপনারা জানেন, আপনারা দেখেছেন; যে যেভাবে যা খুশি আপনারা কিন্তু রিপোর্ট করতে পারেন। সেখানে আমরা কোনো বাধা দেইনি। ঠিক স্বাধীনতার পর জাতির পিতাও কিন্তু আপনাদের সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন। তার জীবনটাও কিন্তু সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যখন কোলকাতায় পড়াশোনা করতেন তখন যে পত্রিকা, একবার একটা পত্রিকা বের করা হয়েছিল সাপ্তাহিক মিল্লাত। তার সঙ্গে উনি জড়িত ছিলেন। সেটা বেশিদিন চলেনি। এরপর ইত্তেহাদ নামে একটি পত্রিকা বের হয়, সে পত্রিকার সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। হাসেম সাহেব মূলত দায়িত্বে ছিলেন সে পত্রিকার। কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর পাকিস্তান হওয়ার পর যখন সবাই বাংলাদেশে চলে আসে তখন ইত্তেফাক বের করা হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অর্থে। এই ইত্তেফাক পত্রিকাটা, তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া এটার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগের জন্য তিনি আর একটি পত্রিকা বের করেছিলেন ‘নতুন দিন’ নামে। সেই পত্রিকার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলার বাণী সপ্তাহিক বের করেন। সেটা মার্শাল ল’ জারির পর গ্রেফতার হন এবং এরপর যখন তিনি মুক্তি পান সেই ১৯৬১ সালের দিকে তখন থেকে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী বের করেন। এভাবে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি, আমিও বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য। কাজেই সেভাবেই আমি আপনাদের দেখি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ