শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মিডিয়া-পলিটিক্স ও প্রপাগান্ডা মডেল থিওরি

তারেকুল ইসলাম : ঢাবির সদ্য সাবেক ভিপি নূর সম্প্রতি একাত্তর টিভি বয়কটের ডাক দিয়েছেন। দেশের ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ ও বিরোধী দলগুলো এতদিন যেটা করতে পারেননি, সেটাই নূর করে দেখিয়েছেন এবং তার একাত্তর টিভি বর্জন ও বয়কটের ডাকে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে দেশের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। বস্তুতপক্ষে, একাত্তর টিভি আদৌ সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার বেসিক কোড অব এথিক্স ও প্রফেশনালিজম ধারণ করতে পেরেছে কিনা-এই প্রশ্ন এখন আলোচনার দাবি রাখে। কেন না এর আগেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরীও টেলিভিশনটির এক টকশোতে অংশগ্রহণকালীন প্রস্থান করেছেন এই বলে যে, ‘একাত্তর টিভিতে কোনো ভদ্র একাডেমিশিয়ান কোনো আলোচনায় অংশ নিতে পারে না।’ বিতর্কিত মডারেটিং এবং টার্গেট আলোচকদের ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে চ্যানেলটির বিরুদ্ধে। দৃশ্যত, চ্যানেলটি যতটা না মিডিয়া হিসেবে, তারচেয়েও বেশি পেইড প্রপাগান্ডা এপারেটাস (propaganda apparatus) হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।     
এছাড়া, প্রায়সময়ই আমরা দেখেছি, একাত্তর টিভিসহ সেকুলার ঘরানার টিভি চ্যানেলগুলো মাদরাসা, আলেম-ওলামা এবং ইসলামী মূল্যবোধসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোকে তাদের মিডিয়া কভারেজে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করে উপস্থাপন করার প্রয়াস চালিয়েছে। এসব ইস্যুতে তারা পাবলিকের নিজস্ব মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও বুঝ-জ্ঞানকে থোড়াই কেয়ার করেছে। এক্ষেত্রে তাদের মিডিয়া এজেন্ডা ও মিডিয়া বায়াস একাকার হয়ে গেছে। এসব পেইড মিডিয়া উক্ত ইস্যুগুলোতে একপাক্ষিক, অবাস্তব, বানোয়াট অথবা খণ্ডিতভাবে সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাদের বিশেষ রাজনৈতিক বা আদর্শিক এজেন্ডা পূরণের চেষ্টা করেছে (এক্ষেত্রে ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনকালীন সেকুলার মিডিয়াগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য)। মিডিয়ার এই দিকটি নিয়ে এডওয়ার্ড সাইদ তার “Covering Islam: How the Media and the Experts determine how we see the rest of the worldÓ eB‡q wj‡L‡Qb: ÒIt ought to go without saying that the media are profit-seeking corporations and therefore, quite understandably, have an interest in promoting some images of reality rather than others. They do so within a political context made active and effective by an unconscious ideology, which the media disseminate without serious reservations or opposition.Ó (Page: 49, Vintage Editionদিতে আরেক ইস্যু ফাঁপিয়ে তোলা- এসবই দালাল মিডিয়াগোষ্ঠী দক্ষতার সাথে করে আসছে। ‘এজেন্ডা সেটিং থিওরি’ দিয়ে দালাল মিডিয়াগোষ্ঠীর এসব কেরামতি সহজে বুঝা যায়। সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বেই mass media কর্তৃক এজেন্ডা ঠিক করে নেওয়াকে বলা হয় এজেন্ডা সেটিং; অর্থাৎ কোন কোন্ ইস্যুকে অন্যান্য ইস্যুগুলোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব ও ফোকাস দেয়া হবে এবং কোন্ কোন্ ইস্যু পাবলিককে খাওয়াতে হবে- এসবই আগেভাগে ঠিক করে নেওয়ার বিষয়াদি এজেন্ডা সেটিং তত্ত্বেরই আলোচনার অংশ। এজেন্ডা সেটিং প্রায়ই মিডিয়া-বায়াস দ্বারা তাড়িত হয়-বিশেষত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোতে। কিছু পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম এজেন্ডা সেটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মিডিয়া-এজেন্ডাকে পাবলিক এজেন্ডার ঊর্ধ্বে স্থান দেয়; অর্থাৎ তাদের মিডিয়া-এজেন্ডাকে পাবলিক এজেন্ডায় রূপ দেয়ার চেষ্টা করে। উদাহরণ স্বরূপ: এইমুহূর্তে একাত্তর টিভি চলমান ধর্ষণের মহামারি ইস্যুতে ইসলামের নির্ধারিত ‘পর্দা ও পোশাক নীতি’র বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব মিডিয়া-এজেন্ডাকে ফোকাস করেছে দেখা যাচ্ছে; অথচ তারা ধর্ষণের আর অন্যসব কারণকে প্রকারান্তরে আড়াল করে দিয়েছে। এমনকি ধর্ষণের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়েও তাদের কোনো ফোকাস লক্ষ করা যাচ্ছে না; এর ফলে এইসময়ে ধর্ষণের রাজনৈতিক ফেনোমেনন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পাবলিক ডিবেটকে নিছক পর্দা ও পোশাকের তর্কে পর্যবসিত করায় বস্তুত সুবিধা হয়েছে সরকারেরই। দালাল মিডিয়া এভাবে এজেন্ডা সেটিংয়ের মাধ্যমে স্ট্যাবলিশমেন্টের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে, লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম পরিসরে এখনো আশানুরূপ প্রফেশনালিজম গড়ে ওঠেনি। এর কারণ হলো, এদেশের বেশিরভাগ মিডিয়াই হলো কর্পোরেট মালিকানাধীন মিডিয়া। ফলে প্রফেশনালিজমের টার্মস বিবেচনায় এরা স্বাধীন বা স্বতন্ত্র হতে পারেনি। তাই কর্পোরেট মিডিয়াগুলোকে সহজেই প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ক্ষমতাসীন মহল এবং সেটাই বিদ্যমান ও দৃশ্যমান। এই বিষয়টি প্রপাগান্ডা মডেলের আলোচনার অংশ। প্রপাগান্ডা মডেল তত্ত্বের প্রবর্তক হলেন নোয়াম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস. হারম্যান। ১৯৮৮ সালে তারা তাদের যৌথভাবে লেখা “Manufacturing Consent: The Political Economy of the Mass Media” নামক বইয়ে সবিস্তারে এই তত্ত্বের অবতারণা করেন। সাংবাদিকতার একাডেমিক পড়াশোনায় এই বইটি অবশ্যপাঠ্য। যাই হোক, এই প্রপাগান্ডা মডেলের আলোকে এখন আমাদের দেশের মিডিয়ার বিষয়াশয় নিচে আলোচনা করবো।
প্রপাগান্ডা মডেল থিওরি বলে যে, মিডিয়ায় প্রচারিত বা প্রকাশিত সংবাদের উপাদানগুলো ৫টি ফিল্টার বা ছাঁকনির মধ্যদিয়ে যায় এবং এর ফলে অডিয়েন্স যেই নিউজগুলো পায়, সেগুলো আসলে ফিল্টারিং করে তৈরি করা। অনেক সময় অতিরঞ্জিত করে বানোয়াট নিউজ ও রিপোর্টও প্রচার করা হয়, যেটাকে আমরা হলুদ সাংবাদিকতা বলি। যাই হোক, উক্ত ৫টি ছাঁকনিই নির্ধারণ করে দেয় কোন্ নিউজ কতটুকু ও কতদিন প্রকাশিত হবে, কিভাবে প্রকাশিত হবে, মিডিয়ার কোন জায়গায় স্থান পাবে এবং কতটুকু কভারেজ পাবে। সেই ‘five filters of the mass media’ হলো:
এক. মালিকানা (Ownership) : কর্পোরেট মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও মিডিয়া হাউসগুলোর পক্ষে স্বাধীন ও স্বচ্ছ সাংবাদিকতার চর্চা করা সম্ভব হয়না। তাদের মালিক কর্পোরেট কোম্পানির স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো নিউজ বা রিপোর্ট তারা করতে পারে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের এডিটোরিয়াল পলিসি ও মিডিয়া-এজেন্ডাও নির্ধারিত হয় কোম্পানির স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই; ফলে তারা বস্তুনিষ্ঠতার নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা আদর্শিক কাঠামোর মধ্যে পতিত হয়। এখন আমাদের দেশের মূলধারার সংবাদপত্র ও মিডিয়া হাউসগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলের মালিক কোনো-না-কোনো কর্পোরেট গ্রুপ। একাত্তর টিভির কথাই ধরুন। এটি মেঘনা গ্রুপ কর্তৃক ফান্ডেড। আর এই মেঘনা গ্রুপও সম্পূর্ণভাবে আ’লীগ তথা সরকারপন্থী। তাহলে একাত্তর টিভি নীতিগতভাবেই সরকারপন্থী হওয়ার কথা এবং সেটাই তো প্রতীয়মান। তারপর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি চ্যানেলের মালিক সালমান এফ রহমান। তিনি এখন বর্তমান সরকারের একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টার এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা। তারপর ডিবিসি নিউজ চ্যানেলের মালিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা। এছাড়া, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা হলো ট্রান্সকম গ্রুপ; এই গ্রুপটির মরহুম চেয়ারম্যান পত্রিকা দুটির সেকুলার নীতির সমর্থক ছিলেন। এরকম আরো অনেক সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল বিভিন্ন কর্পোরেট গ্রুপ কর্তৃক মালিকানাধীন; ফলে এদের মিডিয়া-এজেন্ডা বেশিরভাগ সময়ই পাবলিক এজেন্ডার বিপরীত হতে দেখা যায়। তাই, এসব কর্পোরেট মিডিয়াকে কেন দালালি করতে দেখা যায় কিংবা কখনো কখনো এরা কেন গণবিরোধী মিডিয়া-এজেন্ডা অবলম্বন করেÑসেসবের ফাংশন বুঝার জন্য প্রপাগান্ডা মডেলের এই প্রথম ছাঁকনিটা বেশ কার্যকর।
দুই. বিজ্ঞাপন (Advertising) : অধিকাংশ মিডিয়ার আয় আসে মূলত বিজ্ঞাপন থেকেই। বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান প্রচুর বিজ্ঞাপন দেয় মিডিয়ায়। ফলে কখনো ওসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাদের বিজ্ঞাপন গ্রহীতা মিডিয়াগুলো সে বিষয়ে ফিল্টারিং করে নিউজ প্রকাশ করে অথবা কোনো নিউজ করা থেকে বিরত থাকে; আবার কখনো কখনো উল্টো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গেয়ে নিউজ করতে দেখা যায়। এছাড়া, সরকারের সমালোচক মিডিয়াগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য সরকার বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দেয়; যেমন: আমার দেশ পত্রিকাকে চাপে রাখার জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার, যদিও পত্রিকাটি আপস করেনি। ফলে আর্থিক স্বার্থে অনেক মিডিয়াই সরকারের সাথে আপস করে চলে এবং সরকার প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত হতে পারে এমন নিউজ তারা ফিল্টারিং করে প্রকাশ করে অথবা কখনো কখনো ব্ল্যাকআউটও করে দেয়!  
তিন. মিডিয়া এলিট (The Media Elite) : ফ্যাসিবাদপন্থী সেক্যুলার সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় আমরা বেশকিছু বায়াসড বুদ্ধিজীবী ও বক্তাকে কথা বলতে বা লিখতে দেখি। এমন বায়াসড মিডিয়া এলিটদের মধ্যে কিছু রাজনীতিবিদ ও আমলাও রয়েছেন। এদের কৃত্রিম ফেইস ভ্যালুর কারণে এদেশের সেক্যুলার মিডিয়াগোষ্ঠী নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেকিং ও ব্যয়মূলক গবেষণার পরিবর্তে এসব বায়াসড মিডিয়া এলিটদের থেকে প্রাপ্ত বক্তব্য ও তথ্যের মাধ্যমে ফিল্টারিংপূর্বক তাদের মিডিয়া-এজেন্ডা সেট করে এবং তদনুসারে সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আর এসব মিডিয়ায় বেশিরভাগ টকশোতেই মডারেটরের পক্ষপাত (media bias) দৃষ্টিকটূভাবে লক্ষণীয়।  
চার. ফ্ল্যাক (Flak) : কোনো মিডিয়া যখন কোনো ইস্যুতে একদমই ভিন্নমত প্রকাশ করে, তখন ঐ মিডিয়াকে নানা ট্যাগ, মামলা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ : ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরু হলে আমার দেশ পত্রিকা তখন ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সাথে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’ শিরোনামে লিড নিউজ করে। সেসময় আমার দেশ পত্রিকাকে ‘জামাত-শিবিরের দালাল’, ‘রাজাকারদের পত্রিকা’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী পত্রিকা’ ইত্যাকার ট্যাগ ও অপবাদ দিয়ে পত্রিকাটিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া, স্কাইপি কেলেঙ্কারি প্রকাশের কারণে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়। কোনো নিউজ বা রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের ট্যাগ, অপবাদ ও মামলাকেই এই ফিল্টারে ‘ফ্ল্যাক’ বলে অভিহিত করা হয়। এভাবেই সাংবাদিক ও মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিউজ ও রিপোর্টকে ফিল্টারিং করতে বাধ্য করা হয়।
পাঁচ. কমন শত্রু (The common Enemy) : সম্মতি উৎপাদন ও সমর্থন তৈরির জন্য ক্ষমতাসীনরা একটা কমন শত্রু বা টার্গেট ঠিক করে- যেমন : জামায়াত-শিবির তথা ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’। জামাত-শিবির হলেই পেটানো জায়েজ, গুম-খুন করা জায়েজ এবং ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’ ট্যাগ লাগিয়ে মানবাধিকার হরণ করাও জায়েজÑএমন একটা ধারণা মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের সম্মতি বা কনসেন্ট আদায় করার প্রয়াস আমরা দেখেছি। এই তথাকথিত রাজনৈতিক কমন শত্রুর জুজু দেখিয়ে বিরোধী দলগুলোকে বছরের পর বছর দমন করা হয়েছে এবং নিজেদের সমস্ত অবৈধতাকে বৈধ করার অপচেষ্টা এখনো যথারীতি চলছে। এক্ষেত্রে তথাকথিত প্রগতিশীল সেক্যুলার মিডিয়াগোষ্ঠীকে কোলাবোরেটরের ভূমিকায় দেখা গেছে। উল্লেখ্য, কোল্ড ওয়ারের সময় আমেরিকা ও ইউরোপের কমন শত্রু ছিল কমিউনিজম; কিন্তু নাইন ইলেভেনের পর তাদের সেই কমন শত্রু হয়ে দাঁড়ায় ইসলাম। এই কমন শত্রুর জুজু দেখিয়েই ইসলামবিরোধী ‘ওয়ার অন টেররে’র নামে আফগানিস্তান ও ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসন এবং টনে টনে বোমা হামলা করে মিলিয়ন মিলিয়ন নিরীহ মুসলমান হত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে পাশ্চাত্য মিডিয়া। আমাদের সেক্যুলার মিডিয়াগোষ্ঠীও সেই ইসলামবিরোধী ‘ওয়ার অন টেররে’র সাথে তাল মিলিয়ে জামায়াত-শিবিরের বিরোধিতার নামে এদেশে ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং স্ট্যাবলিশমেন্টের মসনদকে পাকাপোক্ত করেছে।
যাই হোক, এই প্রপাগান্ডা মডেল অনুযায়ী কর্পোরেট-স্পন্সরড মিডিয়াগোষ্ঠী প্রধানত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট’ তথা সম্মতি উৎপাদনের জন্যই কাজ করে থাকে। তার মানে এদেশের কর্পোরেট-স্পন্সরড সেকুলার মিডিয়াগোষ্ঠী উপরোল্লেখিত ফাইভ ফিল্টারস থেকে মুক্ত নয়; ফলে দিনদিন গণমাধ্যমের চরিত্র হারিয়ে এরা স্ট্যাবলিশমেন্টের ভাড়াটে প্রচারযন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ