শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

টাকা ব্যাংক এবং জনগণ

টাকা ব্যাংক এবং জনগণ : ছোট বেলায় অংকে খুব কাঁচা ছিলাম না। এখনও যোগ-বিয়োগ-পূরণ আর ভাগের মতো বিষয়গুলো মোটামুটি বুঝতে পারি। সমস্যায়ও পড়তে হয় একই কারণে। যেমন ব্যাংক খাতসহ দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে বিগত কয়েক মাস আর বছরের হিসেব কষতে গিয়ে রীতিমতো ‘খেই’ হারিয়ে ফেলতে হচ্ছে। এজন্য দায়ী অবশ্য আমার মতো কয়েকজন মাত্র ব্যক্তি নন। বৃহত্তর অর্থে সরকারকে তো টেনে আনতে হবেই, বিশেষ করে বলতে হবে রেকর্ড সৃষ্টিকারী সাবেক অর্থমন্ত্রী সম্পর্কে। কারণ, বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে, ২০১৮ সালে কোনো এক উপলক্ষে জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রথমবারের মতো ‘ডিফেন্ডিং পজিশনে’ দেখা গিয়েছিল। নিজের জন্য নয়, ওই ‘পজিশনে’ গিয়েছিলেন তিনি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য।
পাঠকদেরও মনে পড়তে পারে, সরকার সে বছর সকল ব্যাংককে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০১৮ সালের ১ জুলাই ছিল এই নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্ধারিত তারিখ। অন্যদিকে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এমন কিছু চাতুরিপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করেছিল, যার ফলে সমস্যা উল্টো আরো জটিল হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী ও মেয়াদী হিসাবে সুদের হার কমিয়ে এমনকি তিন থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা এরকম একটি চাতুরিপূর্ণ কৌশল। এ ব্যাপারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন এবিবি’র যুক্তি ছিল, সরকারই তো সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে বলেছে।
আসলেও কি সরকার সেরকম কিছু বলেছিল বা নির্দেশ দিয়েছিল? বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনার মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যসহ অর্থনীতির মন্দা দূর করাই ছিল সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো সম্ভাবনাময় সে পথে পা বাড়ায়নি। কাগজেপত্রে সুদের হার এক ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বললেও প্রতিটি ব্যাংককেই সে সময় সাধারণ মানুষের আমানতের বিপরীতে সুদের হার কমানোর ব্যাপারেই বেশি তৎপর দেখা গেছে। কোনো কোনো ব্যাংক এই হার এমনকি তিন শতাংশেও নামিয়ে এনেছিল। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার কমানোর ব্যাপারে সে একই ব্যাংকগুলো কিন্তু নিয়েছিল ‘ধীরে চলো’ কৌশল!  
এমন অবস্থাকে আমানতকারীদের তথা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সুদসহ খেলাপি ঋণের অর্থ আদায়, অর্থ পাচার ও ব্যাংকের মূলধন আত্মসাত প্রতিহত করা এবং জালিয়াতির মতো প্রমাণিত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী ও মেয়াদী হিসাবে সুদের হার কমানোর কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকে টাকা জমানোর ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক কমে গেছে। সেজন্যই ব্যাংকগুলোতে মারাত্মক তারল্য সংকট দেখা দিয়েছিল। জরুরি প্রয়োজনে এবং পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর পক্ষে তাই আর নতুন ঋণ দেয়া সম্ভব হয়নি। এখনও যথেষ্ট পরিমাণে ঋণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাংক তো বটেই, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিও।
এই সংকট কাটিয়ে উঠে ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক ও লাভজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হলে জাল-জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার এবং কঠোর শাস্তি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদসহ বিশেষজ্ঞরা। দাবি উঠেছিল রাজনৈতিক অঙ্গনেও। বর্তমান ও সাবেক ব্যাংকার এবং বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বভিন্ন ব্যাংক থেকে ‘বেরিয়ে’ গেছে সে অর্থ অবশ্যই ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবেই ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষ তথা আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে তারল্য সংকট যেমন কাটিয়ে ওঠা যাবে তেমনি সম্ভব হবে নতুন পর্যায়ে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম চালু করাও। সে লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত সকল ব্যাংককে এই মর্মে নির্দেশ দেয়া, ব্যাংকগুলো যাতে সুদসহ ঋণের অর্থ আদায়ের ব্যাপারে বেশি চেষ্টা চালায় এবং খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরে। ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
অন্যদিকে তখনকার রেকর্ড সৃষ্টিকারী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিন্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ব্যাপারে আগ্রহ দেখানোর পরিবর্তে বলে বসেছিলেন, বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনাটা ‘অত্যন্ত কঠিন টার্গেট’। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে ব্যাংকগুলোর ‘আরো কিছু সময় লাগবে’। এজন্যই অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে এ ব্যাপারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি, নিতে পারেনি। এমন অবস্থায় ব্যাংক খাতে বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা  প্রকাশ করা হলে তার জবাবে মিস্টার মুহিত বলেছিলেন, সেটা হবে না। কারণ, সমগ্র বিষয়টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘দেখভাল’ করবে।
‘অত্যন্ত কঠিন টার্গেট’ এবং ‘ব্যাংকগুলোর আরো কিছু সময় লাগবে’- অর্থমন্ত্রীর এই কথা দুটির মধ্য দিয়ে আরো একবার পরিষ্কার হয়েছিল, জনগণ এবং জাতীয় অর্থনীতির সর্বনাশ ঘটলেও অর্থমন্ত্রী মুহিত ‘ব্যাংক বান্ধব’ হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। জালিয়াত চক্রকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগকেও তাই পাত্তা দেননি মিস্টার মুহিত।
সে অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ৯ শতাংশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই সবদিক চিন্তা করা দরকার ছিল। তাছাড়া মাননীয় অর্থমন্ত্রী ‘দেখভাল’ করার কথা যতোই বলুন না কেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো যে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব কম নির্দেশনাই মেনে চলে সে বিষয়ে অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক তো এমনকি নিজেদের মূলধনও ‘সাবাড়’ করে ফেলেছে। সাধারণ আমানতকারীদের সঞ্চিত অর্থও লোপাট করেছে অনেক ব্যাংক। এরই পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের আড়াল নিয়ে আত্মসাত করার অনেক অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের কোনো একটি অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের কারণে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কিংবা নেয়নি ইচ্ছাকৃতভাবেই। ব্যর্থ ও অক্ষম সে একই ব্যাংকের ওপর অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকার যখন ‘দেখভাল’ করার দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছিল তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে পারেননি জনগণের সচেতন অংশ।
প্রাসঙ্গিক অন্য কিছু বিষয়ও উল্লেখ ও লক্ষ্য করা দরকার। সরকার বাণিজ্যিক ঋণের বিপরীতে সুদের হার এক ডিজিটে তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ওই নির্দেশের দোহাই দিয়ে সাধারণ আমানতকারীদের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছিল। কোনো কোনো ব্যাংক এই হার এমনকি ৩ থেকে ৫ শতাংশেও নামিয়ে এনেছিল। এর ফলে বহু আমানতকারী তাদের টাকা উঠিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
এমন অবস্থায় তারল্য সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংকটও আরো ঘনীভূত হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে সংকটের লক্ষণও দেখা গিয়েছিল। কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন এবং এটা সত্যও যে, সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে উঠিয়ে নেয়ার পরিবর্তে আমানতকারীরা ব্যাংকে বেশি পরিমাণে টাকা জমা রাখবেন। এর ফলে একদিকে ব্যাংকের তারল্য সংকট কেটে যাবে এবং অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর বাণিজ্যিক ঋণ দেয়ার সক্ষমতা বাড়বে। এভাবে সব মিলিয়েই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
কিন্তু অতি সহজ এ কথাটাই সরকার বুঝতে পেরেছিল বলে মনে হয় না। বুঝলে প্রথমত সুদের হার ঢালাওভাবে এক ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ জারি করা হতো না-যার বাস্তবায়ন করা অর্থমন্ত্রীর নিজের কথায়ই ‘অত্যন্ত কঠিন টার্গেট’। একই সঙ্গে তিনিই আবার সবকিছু ‘দেখভাল’ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংককে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি এবং পারবেও না- তারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল সে সময়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তখনকার গভর্নর ফজলে কবির এ প্রসঙ্গে কিছু কথা শুনিয়েছিলেন। রাজধানীতে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। এটা ব্যাংকগুলোর জন্য অশনি সংকেত। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে এবং প্রতিটি ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সেদিনের বক্তব্যে অর্থ পাচার এসেছিল বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে। হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তো বটেই, তিনি এমনকি আমদানির আড়ালেও বিপুল অর্থ পাচার হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রফতানি কমলেও তার তুলনায় আমদানি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।  
অর্থমন্ত্রী যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সবকিছু ‘দেখভাল’ করার দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন সে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিজেই যখন আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেন তখন নিশ্চয়ই উদ্বিগ্ন হতে হয়। উল্লেখ্য, ওই অর্থবছরে দেশের রফতানি আয় যেমন অনেক কমে গিয়েছিল তেমনি আশংকাজনক পতন ঘটেছিল বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় প্রধান খাত রেমিট্যান্সেও। এ বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি তার সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে জানিয়েছিল, ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এবং একমাত্র তৈরি পোশাক তথা গার্মেন্ট ছাড়া সকল পণ্যের রফতানির ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছিল আট কোটি ৩১ লাখ ডলার। একইভাবে রেমিট্যান্সেও পতন ঘটেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছিলেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের তথা রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক কমে গেছে।
‘ডিজিটাল হুন্ডি’র কথাও এসেছিল রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার একটি বিশেষ কারণ হিসেবে। দেশের ভেতরে ব্যাংকগুলোর কড়াকড়ি ও জটিলতার পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে বহুদিন ধরেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। অবৈধ পন্থায় প্রবাসীদের পাঠানো টাকা স্বজনদের হাতে পৌঁছে গেলেও লাফিয়ে কমে যাচ্ছিল আইনসম্মত পথে দেশের আয়। রেমিট্যান্সের হিসাবও এর ভিত্তিতেই করা হয়েছিল।
এভাবে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার কমানোর আড়ালে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার পদক্ষেপ থেকে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়া, আমদানির নামে বিপুল অর্থ পাচার এবং ব্যাংকের প্রতি মানুষের সন্দেহ ও অবিশ্বাস পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের পর্যালোচনায় দেখা যাবে, দেশের অর্থনীতি আসলেও সর্বনাশের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। একই কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহীদের মধ্যেও ভীতি-আতংক কেবল বেড়েই চলছিল। তারা তাই দেশ থেকে অবৈধ পথে পাচার করেছে লক্ষ হাজার কোটি টাকা। এজন্যই সব মিলিয়ে শিল্প-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির প্রতিটি খাতে সংকট ক্রমাগত আরো মারাত্মক হয়ে উঠেছিল। উদ্বেগের কারণ হলো, বিভিন্ন আইনের ভীতি ও আতংকের কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সম্প্রতি কমে এলেও বাস্তবে পরিস্থিতিতে এখনও আশান্বিত হওয়ার মতো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি। দেশের ব্যাংক খাত এখনও বিপন্নই রয়েছে।
বলা দরকার, এমন অবস্থা অবশ্যই চলতে দেয়া যায় না। ব্যাংক খাতসহ জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হলে সরকারের উচিত অবিলম্বে জালিয়াতি প্রতিহত করা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা। বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনাসহ সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত কঠোর নজরদারি করা। ব্যাংকগুলো যাতে সুদের হার কমানোর নামে সাধারণ আমানতকারীদের বিপুল মুনাফাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না করতে পারে সে বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। সব ধরনের প্রতারণা ও চৌর্যবৃত্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার। না হলে খেলাপি ঋণের বিষয়টি তো স্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান হবেই, ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং অবিলম্বে ইতিবাচক ব্যবস্থা নেয়া দরকার সুচিন্তিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ