রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

শাক-সবজি চাল আলুসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার তোলা ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন নেভাতে সরকারের কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না। বৃদ্ধি পাওয়া সবজির দাম কোন অবস্থাতেই কমছে না। আর সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে না। নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের মত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। অবশ্য গত সপ্তাহে একশ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি ও শসার দাম কমে এসেছে। বাজারে এখন ৫টি সবজির কেজি একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁপে বাদে বাকি সবজিগুলোর কেজি ৫০ টাকার উপরে।
এদিকে দুই দফায় আলুর দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার খুচরায় আলুর কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও ৪৫ টাকার নিচে মিলছে না কোথাও। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী এখনও আলুর কেজি ৫০ টাকা বিক্রি করছেন।
গতকাল শুক্রবার বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতো এখনো শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও উস্তার কেজি একশ টাকার ঘরে রয়েছে। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে শিমের দাম কিছুটা কমে ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এক কেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
এই সবজিগুলোর পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুল, কচুর লতি। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।
লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।
এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, সবজির দাম বেশি হলেও গত সপ্তাহের তুলনায় আজ বেশিরভাগ সবজি কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক কেজি শসা একশ টাকা বিক্রি করেছি, আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি। ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি।
এদিকে আগের বাড়তি দাম রয়েছে ডাল, চিনি ও ভোজ্য তেলের বাজারে। বাজারে প্রতি কেজি ডাবলি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা কেজি দরে।  
বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
আগের চড়া দাম রয়েছে চালের বাজারে। এসব বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, পায়জাম ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৫৮ টাকা, জিরা মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, নাজির ৫৫ টাকা ও পোলাও চাল (খোলা) ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
বাজারে প্রতি কেজি খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, গরু গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।
কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি বয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা, সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
দাম বেড়েছে ছোট মাছের। কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৬০০ টাকা, বাগদা ও গলদা ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে।
অপরিবর্তিত আছে অন্য সব মাছের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি শিং (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই (আকারভেদে) ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, কাতল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কৈ মাছ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০ টাকা, মিরর কাপ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ