ঢাকা, মঙ্গলবার 1 December 2020, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের জন্য ৬০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের সহায়তায় প্রায় ৬০ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা দেশ ও সংস্থা।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি এসেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে ভার্চুয়াল ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় ভিকটিম বাংলাদেশ এবং এ সংকটের উৎপত্তি ও সমাধান যেখানে নিহিত সেই মিয়ানমারও সম্মেলনে অংশ নেয়।

সম্মেলনে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপক চেষ্টা সত্ত্বেও তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারাও হতাশ। তারা জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে কালক্রমে তারা মানব পাচার, উগ্রবাদ, মাদক চোরাচালানসহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সম্মেলনে সদ্য ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই-বিগান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। সুতরাং মিয়ানমারকে এতে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিগান বলেন, গোটা এশিয়া অঞ্চলের জন্য চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘের স্থায়ী ৫ সদস্যকে এক এবং অভিন্ন অবস্থান নিতে হবে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ২০০ মিলিয়ন ডলারের নয়া তহবিল প্রদানের ঘোষণা দেন মার্কিন তিনি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, “আজকে সর্বমোট ৫৯৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সংকটে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তার জোরাল অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।”

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এসব শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ