সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশ-ভারত নতুন রেলপথ উদ্বোধন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী -দোরাইস্বামী

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অনেক গভীর-অকৃত্রিম।  ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে। ভারতীয় অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলে বহু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে- ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্প সমাপ্তও হয়েছে। হাইকমিশনার বলেন- শুধু রেল সেক্টরে নয়, দেশের উন্নয়নে ভারত সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।  দু’দেশের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তা দিনদিন আরও উন্নত হবে।  দু’দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন ঘটাতে চায় ভারত।  একইসঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।
গতকাল বুধবার বিকালে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে।  ভারতের সহযোগিতায় রেলওয়েতে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার রেলে আরও সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দু’দেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা রেলপথ দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দু’দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলোর চালু করা যায় কিনা, কিংবা চালু করতে হলে কী কী করতে হবে- তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দু’দেশের মধ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উদ্বোধনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেন চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  দু’দেশের মধ্যে নতুন রেলপথ ও ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে আগামী ২৬ মার্চকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প চালু হলে ভারতীয় ট্রেন যশোরের বেনাপোল থেকে সহজে ও কম সময়ে ঢাকায় আসতে পারবে। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সিরাজগঞ্জে একটি কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপো নির্মাণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে সৈয়দপুরে একটি নতুন কোচ তৈরির কারখানা নির্মাণ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা থাকবে বলে হাইকমিশনার জানিয়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়েতে ক্যাটারিং সার্ভিস এবং ট্রেনিং একাডেমি উন্নয়নেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রেলপথ সচিব মো. সেলিম রেজা ও রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান।
এলসি করা ২০ হাজার টন পেঁয়াজ ছাড় করেছে ভারত
স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে এলসি করা ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ছাড় করা হয়েছে। বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো সময় দেয়া শুরু করতে পারবে ভারত। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন দুই দেশের আবহাওয়া ভালোর দিকে তাই কিছুটা হলেও আমরা চেষ্টা করবো দেয়ার জন্য।  
বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে দুদেশেই সংকট রয়েছে সেটা আমরা বুঝি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মূলত ঘাটতি হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চাই। এখানে কোনো রাজনীতি বা উদ্দেশ্যমূলক কিছু নেই।
তিনি বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রসহ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী প্রদেশগুলোতে প্রচুর বৃষ্টি ও বন্যার জন্য এবছর পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে ও নষ্ট হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম স্থানীয় বাজারে অনেক বেড়ে যায়। এখন দুই দেশের আবহাওয়া ভালো হয়ে গেছে। এলসি করা ২০ হাজার টন পেঁয়াজ ছাড় করা হয়েছে। তাই আশা করছি, সব কিছু ঠিক থাকলে শিগগির এলসি করা ২০ হাজার টন পেঁয়াজ দেয়া শুরু করতে পারবো। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অকৃত্রিম বন্ধু। দুই দেশের জন্য কৃষি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কৃষিখাতে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ