বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

নবেম্বরে খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে আগামী নবেম্বর মাসেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে না বলে ধারণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এবার কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তা জানাতে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
নবেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি না, সেই প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আপনাদের কী মনে হয়? এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান...যেখানে যেখানে খুলেছিল অধিকাংশ জায়গায় সেখানে বন্ধ করার পর্যায়ে আছে। “ যেহেতু শীতকাল নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা আছে সব জায়গায়, বিশেষজ্ঞ মহলও বলছে। সে কারণে আমাদের কোভিড বিষয়ক যে জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে আমরা তাদের সাথেও আলাপ-আলোচনা করব।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন মনে করব যে আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই বা খুবই সামান্য, হয়তো বা যে রিস্কটুকু নেওয়া সম্ভব, সে রকম একটা অবস্থায় যদি যায়, তখন আমরা খুলতে পারব। সেটি কবে হবে সেটি আমাদের কারো পক্ষেই এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।”
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে।
এই পরিস্থিতিতে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা যে হবে না, সে কথা সরকার আগেই জানিয়েছিল। আর এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা হবে বলেও ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক স্তরে ষ্ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও এবার হবে না। পরীক্ষা ছাড়াই সব শিক্ষার্থীকে পরের শ্রেণিতে তোলা হবে।
শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণের জন্য ৩০ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করে শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে, তার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়নও হবে। তবে সেই মূল্যায়নের প্রভাব তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার ক্ষেত্রে পড়বে না।
“এই মূল্যায়নটার মাধ্যমে যেন কোনো চাপ সৃষ্টি করা না হয়। এই মূল্যায়ন শুধুমাত্র আমাদের বোঝার জন্য যে শিক্ষার্থীদের কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো পরের ক্লাসে কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করব।”
এসএসসি-এইচএসসির প্রস্তুতি নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী :
আগামী বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সেজন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এবার কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তা জানাতে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন এমন একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যে, খুব বেশি সামনে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। এসএসসির জন্য কি হবে, আগামী এইচএসসির জন্য কি হবে, সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে আবারও আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে কথা বলতে হবে।
“তবে সকল শিক্ষার্থীকে আমি বলব যাদের সামনের বছর এসএসসি ও এইচএসসি আছে, তারা অবশ্য অবশ্যই নিজেরা নিজেদের...সবার কাছে বই আছে, যতদূর সম্ভব অনলাইনে অ্যাকসেস করবেন। সমস্ত ক্লাসগুলো আছে আপনারা আপনাদের পড়াশোনাগুলো চালিয়ে যান। কারণ পরীক্ষা যদি কিছুদিন পরেও হয়, সময়মত হয়ত করার আমরা চেষ্টা করব, সময়মত হলে তো হলই, না হলে যদি কিছুদিন পরেও হয় তাহলেও কিন্তু পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে আপনাদের প্রস্তুতিটি ভালোভাবে নিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”
দীপু মনি বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী বছর করোনা পরিস্থিতি আরও অনেক ভালো অবস্থায় থাকবে ইনশাল্লাহ, তখন এই পরীক্ষাগুলো নেওয়া যাবে। যারা পরীক্ষার্থী তাদের অনুরোধ করব আপনারা দয়া করে আপনাদের পড়াশোনাগুলো চালিয়ে যাবেন।”
তবে সংবাদ সম্মেলনের শেষে আরেকজন সাংবাদিকের প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আশা করি সময়মত সব পরীক্ষা হবে. তবে তা নির্ভর করবে কোভিড পরিস্থিতির উপর। এই মুহূর্তে অনুমান করা সম্ভব নয় ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে বা মার্চের পরীক্ষা মার্চে হচ্ছে কিনা।”
গত বেশ কয়েক বছর ধরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। কোনো কারণে ১ ফেব্রুয়ারি বা ১ এপ্রিল সরকারি ছুটি থাকলে পরীক্ষা একদিন পিছিয়ে যায়।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা বাদে অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। মহামারির কারণে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ