বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

আজ বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে লেবার পার্টি। এবারের প্রতিপাদ্য ”রুখো আগ্রাসন-হটাও দুঃশাসন”। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেককাটা, আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা, প্রতিনিধি সভা। এ উপলক্ষে দেশবাসী ও দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান।
১৯৭৪ সালে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে লালবাহিনী, রক্ষীবাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লুটপাট, অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে জাতীয় নেতা মরহুম মাওলানা আবদুল মতীনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ লেবার পার্টি। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিব মাত্র ১৩ মিনিটের সংসদে রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করে লেবার পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দেয়। ১৯৭৭ সালে সালে শহীদ জিয়াউর রহমান রহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ দিলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৯৭৭ সালের ২২ অক্টোবর মাওলানা আবদুল মতীন ও মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুর্নজীবন ফিওে পায়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৭ মে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠিত হলে- মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ন্যাপ, শাহ আজিজুর রহমানের মুসলীম লীগ, বিচারপতি সাত্তারের জাগদল, মাওলানা মতীনের লেবার পার্টি, কাজী জাফরের ইউপিপি ও তফসিলি জাতি ফেডারেশন জোটের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
মাওলানা মতীনের মৃত্যুর বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসেন সাবেক ছাত্রনেতা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি লেবার পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে গণমুখী ও শক্তিশালী করতে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও উপজেলায় কার্যক্রম ছড়িয়ে দেন। তার নেতৃত্বে ২০০৮ সালে অসাংবিধানিক জরুরি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে ব্যাপক কর্মসূচী পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী চেতনায় সমমনাদল হিসাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও অংশগ্রহণ করে। ২০১২ সালে ১৮ এপিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট (বর্তমানে ২০ দলীয় জোট) গঠিত হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি অন্যতম শরিকদল হিসাবে জোটের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকারের জুলুম নির্যাতন নিপীড়ন ও লুটপাটের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল মিটিং, হরতাল অবোরোধসহ সকল কর্মসূচীতে লেবার পার্টি সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ ফরিদ, মাহবুব খালেদ, আলাউদ্দিন আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী চলমান আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে জেল-জুলুম, মিথ্যা মামলা নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড অব্যহত রেখেছে। লেবার পার্টি নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে ধর্ম-কর্ম-সাম্যবাদের চেতনায় উমর-ই সাম্যবাদের আলোকে শোষনমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক জনকল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক সৃষ্টিতে কাজ করছে। শুধু ক্ষমতার হাতবদল নয়, খাই খাই লুটপাটের রাজনীতির বাইরে সুস্থ ধারার আদর্শিক পরিবর্তন চায় বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
কর্মসুচী : ২২ অক্টোবর দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রুখো আগ্রাসন-হটাও দুঃশাসন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবর্গ অংশ নেবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ