মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

দেশে এখনো অনুন্নত পায়খানা ব্যবহার হয় ১৩.৬ ভাগ গৃহে

স্যানিটেশন চিত্র। বামে: শহরে খোলা খাল-নালায় মলত্যাগ ও ডানে: গ্রামে অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যসম্মত স্লাবযুক্ত পিট ল্যাট্রিন -সংগ্রাম

সরদার আবদুর রহমান: দেশে এখনো অনুন্নত ও উন্মুক্ত পায়খানা ব্যবহৃত হয় ১৩ দশমিক ৬ ভাগ গৃহে। আর খোলা স্থানের খাল-নালায় মলত্যাগ চলে শহরে শতকরা ৪ দশমিক ৪ ভাগ এবং গ্রামে ২ দশমিক ৭ ভাগ পরিবারে। উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ। বরিশালে সাধারণভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্লাবযুক্ত পিট ল্যাট্রিন ব্যবহৃত হয়।
সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ-এর এক যৌথ জরিপের পর ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এতে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক, নারী ও শিশু শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয় এই জরিপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এশিয়ার যেকোন দেশের তুলনায় এমনকি বৃহৎ প্রতিবেশি ভারতের চেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অনেক এগিয়েছে। গ্রাম ও শহরের সর্ব পর্যায়ের মানুষ এখন এই উন্নত ব্যবস্থার উপর আস্থাশীল। কিন্তু নানান সামাজিক ও দারিদ্র্যগত কারণে এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতির জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।
উন্নত স্যানিটেশন সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাইপযুক্ত নিকাশী ব্যবস্থা, সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পিট ল্যাট্রিন, বায়ুচলাচলে উন্নত পিট ল্যাট্রিন, স্ল্যাব এবং কমপোস্টিং টয়লেটসহ পিট ল্যাট্রিন। অন্যদিকে অনুন্নত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ, ঝুলন্ত ল্যাট্রিন, স্লাবছাড়া পিট ল্যাট্রিন প্রভৃতি। এসব ব্যবস্থা ও পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৯টি গৃহের উপর জরিপ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে শহরে রয়েছে ৫৬ হাজার ৭০০টি এবং গ্রামে ২ লাখ ৪ হাজার ২৫৯টি গৃহ। উন্নত পায়খানা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাইপযুক্ত নিকাশী ব্যবস্থা শহরে ব্যবহৃত হয় ২৯ দশমিক ৫ ভাগ এবং গ্রামে ১ দশমিক ১ ভাগ গৃহে। পিট ল্যাট্রিন ব্যবহৃত হয় শহরে ১০ দশমিক ৭ ভাগ ও গ্রামে ১৮ দশমিক ৮ ভাগ। অনুন্নত ব্যবস্থার মধ্যে স্লাব ছাড়া পিট ল্যাট্রিন ব্যবহৃত হয় শহরে ৩ দশমিক ৭ ভাগ ও গ্রামে ৯ দশমিক ৬ ভাগ। ঝুলন্ত পায়খানা শহরে ব্যবহৃত হয় শহরে ০ দশমিক ৮ ভাগ এবং গ্রামে ২ দশমিক ৯ ভাগ।
বিভাগওয়ারি তথ্যে দেখা যায়, এখনো ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহৃত হয় সিলেট বিভাগে ৮ দশমিক ৪ ভাগ, রাজশাহী বিভাগে ৪ দশমিক ৫ ভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ৩ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ দশমিক ১ ভাগ। উন্মুক্ত নালা-নর্দমায় পায়খানা করে চট্টগ্রাম বিভাগে শতকরা ৫ ভাগ, ঢাকা বিভাগে ৪ দশমিক ৮ ভাগ, সিলেট বিভাগ ৩ দশমিক ২ ভাগ, রংপুরে ১ দশমিক ৩ ভাগ এবং রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ২ ভাগ। অপেক্ষাকৃত উন্নত পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভাগগুলোর মধ্যে পিট ল্যাট্রিন ব্যবহৃত হয় খুলনা বিভাগে ৩১ দশমিক ৭ ভাগ, রংপুরে ২১ দশমিক ৩ ভাগ, ময়মনসিংহে ১৯ দশমিক ৭ ভাগ, রাজশাহীতে ১৮ দশমিক ৭ ভাগ, ঢাকায় ১৫ দশমিক ৩ ভাগ, সিলেট ৮ দশমিক ৭ ভাগ এবং বরিশালে ৩ ভাগ। স্লাব ছাড়া পিট ল্যাট্রিন ব্যবহৃত হয় বরিশালে ২১ দশমিক ৭ ভাগ, চট্টগ্রামে ১১ দশমিক ৭ ভাগ, ময়মনসিংহে ১১ দশমিক ১ ভাগ, সিলেট ৭ দশমিক ৩ ভাগ, রাজশাহীতে ৭ দশমিক ১ ভাগ, ঢাকায় ৬ দশমিক ৪ ভাগ, খুলনায় ৪ দশমিক ৬ ভাগ এবং রংপুর বিভাগে ৩ দশমিক ৯ ভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ