বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনাঞ্চলে ফসলের পোকামাকড় দমনে ‘আলোক ফাঁদ’ জনপ্রিয় হচ্ছে

খুলনা অফিস : আলোক ফাঁদ, ধানের পোকামাকড় দমনের একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে কৃষক অতি সহজেই দমন করতে পারছেন ক্ষতিকর সব পোকামাকড়। ফলে ফসলও ফলছে ভালো। যে কারণে রূপসাসহ খুলনাঞ্চলে ‘আলোক ফাঁদ’ প্রযুক্তি ক্রমান্বয়েই কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কৃষকদের সূত্রে জানাগেছে, সন্ধ্যার পর ধান ক্ষেত হতে পঞ্চাশ থেকে একশ’ মিটার দূরে ফাঁকা জায়গায় বাঁশের তিনটি খুঁটি ত্রিকোণাকার করে মাটিতে পুঁতে মাথার অংশ একত্রে বেঁধে দিতে হয়। এরপর মাটি থেকে আড়াই থেকে তিন ফুট উপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে খুঁটির তিন মাথার সংযোগস্থলে রশির সাহায্য ঝুলিয়ে দিতে হবে। এর নিচে একটি বড় আকারের প্লাস্টিকের গামলা বা পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখা হয়। সন্ধ্যার পর মাঠজুড়ে যখন অন্ধকার নেমে আসতে থাকে তখন আলোক ফাঁদের আলোর ঝলকে আকৃষ্ট হয়ে ধান ফসলের বিভিন্ন পোকামাকড় এ পাত্রে চলে আসে।
বর্তমানে ধান ক্ষেতে বৈদ্যুতিক বাল্বের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের আলোক ফাঁদও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এভাবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে ধান ফসলের মাঠে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয় পূর্বক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতি অল্প খরচে তৈরি আলোক ফাঁদ অন্ধকার রাতে দেখতে দৃষ্টিনন্দনও বটে। এতে খরচ কম হয় এবং পরিবেশবান্ধব। তাই ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও দমনে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি রূপসার কৃষকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ