বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

এলজিএসপি প্রকল্পের ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকাল গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (এলজিএসপি-৩) ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। জালালপুর ইউপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (সোনালী ব্যাংক, শাহজাদপুর শাখা, চলতি হিসাব নং- ৪২১৩৫৩৩০০৮৯৫৫) থেকে এ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনা ফাঁস হলে ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তিনি বাদি হয়ে ইউপির সদ্য সাবেক সচিব এস এম জিয়াউল করিম (৪১) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে এনায়েতপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদসহ সোনালী ব্যাংক শাহজাদপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হাসান জুয়েল, ইউপি সচিব শুভজিৎ রায় ও মহিলা ইউপি সদস্য সাহেলা বেগমকে সাক্ষী করা হয়েছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টম্বর দুপুরে বাদি ইউপি পরিদর্শনকালে হিসাবে অসঙ্গতি লক্ষ করেন। পরে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইউপির ব্যাংক হিসাবে মোট বরাদ্দের ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকার মধ্যে মাত্র ৮ টাকা জমা আছে। গত ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ এ দুই অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে দুই কিস্তিতে মৌলিক থেকে বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা সাবেক সচিব এস এম জিয়াউল করিম অজ্ঞাত লোকদের সহায়তায় বিভিন্ন সময় ১২৯টি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে ওই শাখায় সাবেক সচিবের নিজ নামীয় সঞ্চয়ী হিসাবে (নং-৪২১৩৪৩৪১৩৩৯০১) স্থানান্তর করেছেন।
বাদী অভিযোগের অনুলিপি প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্মসচিব), সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পৌঁছে দেন।
ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ইউপি চেয়ারম্যান এবং মহিলা সদস্যকে আসামী না করে সাক্ষী করায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে সাবেক সচিব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, জাল স্বাক্ষরের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পরই টাকা দেয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মাতিনের অভিমত, সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চেকে স্বাক্ষরকারী ইউপি চেয়ারম্যান ও মহিলা ইউপি সদস্য কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।
এনায়েতপুর থানার ওসি তদন্ত রাকিবুল হুদা জানান, অভিযোগ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত পাবনা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ইউএনও শাহ্ মোহাম্মদ সামসুজ্জোহা বলেন, এলজিএসপির কাজে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ