সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট তথ্যবহুল নয় কেন

শাবলু শাহাবউদ্দিন : ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এ আমার অহংকার-এখনই সময় দায় মোচনের’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ‘ফরেন ডেলিগেটরা এখানে এলে যখন উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক হয়, তখন আমি তাঁদের বলি আমাদের ৮৪টি বিভাগ, ১১টি ইনস্টিটিউট, প্রায় ৬০টি গবেষণাকেন্দ্র, ১৪০টি অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো শুনে তাঁরা অবাক হয়ে যান। তাঁরা বলেন, “ইটস আ হিউজ অ্যান্ড ম্যাসিভ ইউনিভার্সিটি।” আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার, শিক্ষার্থীরা ১২ টাকায়, ১৫ টাকায় পড়ে ইটস অ্যামেজিং, রেকর্ড। এত শিক্ষকের বিদেশি ডিগ্রি আছে। এগুলো শুনে তাঁরা (বিদেশি প্রতিনিধি) বলেন, “এগুলো তো তোমাদের ওয়েবসাইটে দেখি না।”
“এগুলো তো তোমাদের ওয়েবসাইটে দেখি না” এই কথাটি কতটুকু বিস্ময়কর! বর্তমান দুনিয়া ডিজিটাল দুনিয়া। বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর হতে যাচ্ছে। সেই বাংলাদেশে কী না বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অবাক হতে হয় বাংলাদেশের বিদ্যাপীঠ নিয়ে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং অনেক দূর। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংস ২০২১’ শীর্ষক এই র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাবি ও বুয়েটের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কত নম্বরে, তা উল্লেখ করেনি কিউএস। বিশ্ব যে সংস্থাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ranking করে, তারা নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যের উপর। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যে সকল তথ্য দেয়া থাকে তার উপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন world ranking খুব খারাপ অবস্থা করে তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার্থীদের আগমন আপনা আপনি কমে যায়।
এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের উপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জন্য যোগাযোগ করে থাকেন। এমনকি বিভাগীয় প্রধান অথবা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।
সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে ঢুকে বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারলাম, বিষয়টি খুব লজ্জাকর হলেও সত্য। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ কোন মাধ্যমে নেই। যদিও কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের সাধারণ পরিচয় দেয়া আছে এবং ইমেইল এড্রেস দেয়া আছে, অনেক সময় দেখা যায় ইমেইল এড্রেস ভুল, এমনকি ইমেইল করার পরে তেমন কোন রেসপন্স পাওয়া যায় না। বিষয়টি খুব দুঃখজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ কোন তথ্য বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। যেমন; ধরুন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের অনুপাত, পড়াশোনা পদ্ধতি, পড়াশোনা মান, ক্যারিয়ার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা, গবেষণার চিত্র, প্রফেসর লেকচারার হিসাব, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, গ্রন্থাগারের বিষয়াদি ইত্যাদি।
এর আগে এমনও দাবি উঠে যে বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র নকল কী না তা পরীক্ষা করার জন্য কোন মেশিন নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি এই যে, শিক্ষার্থীরা বাংলায় গবেষণাপত্র লিখে জমা দেন যা পরীক্ষা করবার মত কোন যন্ত্র তাদের নেই। যার ফলে প্রায় আশি শতাংশ গবেষণাপত্র থাকে নকল।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস করে, ডিজিটাল যুগে মানুষ হয়ে এ কথা কোনমতে মেনে নেয়া যায় না যে বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট তথ্যবহুল নয়। কেন তথ্যবহুল নয় এই প্রশ্ন মনে উঠতেই কষ্ট হয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনেক আগেই উচিত ছিল এই বিষয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিশ দেয়ার। অনতিবিলম্বে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটগুলো তথ্যবহুল না করা হয় তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের শিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে যাবে। এখন উচিত এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ হওয়া এবং যথারীতি ব্যবস্থা নেওয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ