সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ : সমস্যাও কম নয়

এম এ খালেক : স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় মুছে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হতে যাচ্ছে। এটা একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের নিশ্চিতভাবেই গর্বিত করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। যারা বাংলাদেশকে ‘টেস্ট কেস’ বলে উপহাস করতো আজ তারাও প্রশ্নাতীতভাবে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়নকে মেনে নিয়েছে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আবির্ভুত হওয়াটা এখন আর কোনো অলীক স্বপ্ন নয়, দিবালোকের মতো বাস্তব। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এটা নি:সন্দেহে আমাদের উৎসাহিত করে। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু শঙ্কারও জন্ম দেয়। আমরা এই অর্জন ধরে রাখতে পারবো তো? কারণ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু সুবিধা আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাবে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করছিল। এগুলো আর পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুল্ক মুক্ত জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছিল সেই ১৯৭৬ সাল থেকে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোট সুবিধা এবং পরবর্তীতে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছিল। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হবার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কোটা সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর সীমিত পরিসরে জিএসপি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছিল কিন্তু কয়েক বছর আগে সেই সুবিধাও স্থগিত করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো শুল্ক মুক্ত জিএসপি সুবিধা প্রদান করছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হবার পর বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত জিএসপি সুবিধা হারাবে। এর পরিবর্তে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন জিএসপি+ সুবিধা চালা করবে। কিন্তু সেই সুবিধা পেতে হলে যে সব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশের পক্ষে তা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া এই সুবিধা বাংলাদেশ কতটা ভোগ করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশে গ্রাজুয়েশনের পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সংস্থার নিকট থেকে ঋণ গ্রহণকালে উচ্চ সুদ প্রদান করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ অন্য ৪৭টি স্বল্পোন্নত দেশের মতোই তুলনামূলক স্বল্প সুদে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাচ্ছিল। এই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশকে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ বাংলাদেশ এতদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৬টি দেশ,কানাডা,যুক্তরাষ্ট্র,চিন এমন কি ভারত থেকেও বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছিল। এই বাণিজ্যিক সুবিধার কারণেই মূলত বাংলাদেশ এতদিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভালো করে আসছিল। কিন্তু এসব সুবিধা প্রত্যাহৃত হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মোটেও প্রস্তুত নয়। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে গ্রাজুয়েশন করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে তিনটি আন্তর্জাতিক মান বা সূচকের মধ্যে অন্তত দু’টিতে সাফল্য অর্জন করতে হয়। এগুলো হচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বা ভঙ্গুরতা সূচক। বাংলাদেশ মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত হার অনুযায়ী মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। এমন কি অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তাই এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবার পর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে সব সুবিধা হারাবে তার ধাক্কা সামাল দিতে পারবো তো? আমাদের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে বিএনপি শাসনামলে এম সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালে একবার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সব দিক বিবেচনা করে সেই উদ্যোগ বাতিল করা হয়। কাজেই এখন আমরা যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরুতে চাচ্ছি সেটা কতটা টেকসই হবে তা বিবেচ্য বিষয় বটে।
দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশ এখনো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত নয় বলেই মনে হচ্ছে। ইউএনডিপি’র আবাসিক সমন্বয়কারি কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশ উন্নযনশীল দেশের কাতারে চলে আসছে এটা অবশ্যই একটি ভালো সংবাদ। কিন্তু এ জন্য যে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক মুক্ত সুবিধা হারাবে। সেই অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করতে হলে প্রতিটি পণ্যের উপর গড়ে ৬দশমিক ৭ শতাংশ শুল্ক বাড়বে। এটা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে বছরে বাংলাদেশকে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার শুল্ক দিতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য ও সেবাকে বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৩০০টি পণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু একমাত্র তৈরি পোশাক শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আসে মোট রপ্তানি আয়ের ৯০ শতাংশ। রপ্তানি পণ্যের বহুমুখিকরণ অনেক পুরনো দাবি হলেও এর প্রতি কেউই তেমন একটা কর্ণপাত করছে না। আগামীতে বাংলাদেশ ভিয়েতনাম,ভারত এবং চিনের নিকট থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ যদি শুল্ক সুবিধা হারায় তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে বাধ্য। এখানে আরো একটি প্রসঙ্গ আমাদের মনে রাখতে হবে তাহলো,বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আহরিত হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা যদি নিজ দেশে পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে রপ্তানি করে তাহলে তাকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। কিন্তু সেই উদ্যোক্তা যদি বাংলাদেশে পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেগশে রপ্তানি করে তাহলে তাকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। এই সুবিধা কাজে লাগানোর জন্যই মূলত বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য কিছুটা আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠিও তাদের এখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করে। কিন্তু মূল বিষয়টি উন্নত দেশ থেকে জিএসপি সুবিধার সুবিধা ভোগ করা। বাংলাদেশি পণ্য যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জিএসপি সুবিধা বঞ্চিত হয় তাহলে বিদেশি উদ্যোক্তারা এখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী নাও হতে পারে। অর্থাৎ আগামীতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাবার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ আগামী মাসে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যে সব সুবিধা পেতো তা আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান যাচাই করা হবে। বাংলাদেশ যদি এই সময় টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে পারে তাহলেই কেবল চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাজেই আগামী ৬ বছর আমাদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ বলেন, আগামীতে বাংলাদেশকে সুশাসন প্রতিষ্ঠান প্রতি বিশেষ মনোযোগি হতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধনের উপর জোর দিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। মানব সম্পদ উন্নয়নে এনজিওদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সভায় জানানো হয়, ইতোপূর্বে যেসব দেশ এলডিসি’র কাতার থেকে বেরিয়ে এসেছে তাদের প্রায় সবাই ছোট দেশ এবং তাদের উৎপাদনশীলতা কম। এলডিসি দেশের তালিকা থেকে বের হবার পর তাদের প্রবৃদ্ধি যেমন কমেছে তেমনি রপ্তানি,বিদেশি সহায়তা এবং রেমিটেন্স প্রবাহও হ্রাস পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরই এখন মারাত্মকভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। দিন দিনই অবস্থার অবনতি ঘটছে। কোনোভাবেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো যাচ্ছে না। বর্তমান এসডিজি(সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। এসডিজি’র একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে উন্নয়নের সুফল থেকে কাউকে পিছনে ফেলে রাখা যাবে না। কিন্তু আমাদের দেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তার সুফল কি সবাই সমতা বা ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে? দেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে বলে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছিল। এতে বলা হয়, দেশে দুই দশক আগে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারের সংখ্যা ছিল ১২ শতাংশ।
এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে। কিন্তু এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান এটা কি বৈধ পথে হচ্ছে নাকি দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে হচ্ছে? স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এদেশের মানুষের মধ্যে বিত্তবান এবং বিত্তহীনের মাঝে বিরাট ব্যবধান বিদ্যমান ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য হীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিত্তবান এবং বিত্তহীনের মাঝে বৈষম্য অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা কি আমাদের কাম্য ছিল? বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুবিধা কি সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে? যদি সেটা না পারে তাহলে সে ধরনের প্রবৃদ্ধি আমাদের জন্য কতটা কাম্য হতে পারে? বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে অনেক কিছু নিয়েই আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভকারী করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশ যদি করোনা ভাইরাস জনিত ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারে তাহলে আগামীতে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের আশা নিরাশায় পরিণত হতে পারে। তবে আশার কথা এই যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় চলে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ এ বছর(২০২০) বিশে^র সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অজনকারি তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ মাথাপিছু জিডিপি অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতকেও পেছনে ফেলে দেবে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক নেতিবাচক ধরায় প্রবাহমান হলেও ইতোমধ্যেই সেগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। কাজেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল তা কেটে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ