শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না পাঠাতে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে- পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে ইউএনএইচসিআর-সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে চাপ রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, রোহিঙ্গারা সেখানে গেলে ভালো থাকবেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশে আসতে পারেন। আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গতকাল রোববার ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা রাখাইনে যেভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ভাসানচরে গেলে সেভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এছাড়া ভাসানচরে বাঁধ দেয়া হয়েছে। সেখানে এখন কোনো পানি ওঠে না। তাই ভাসানচরে গেলে কোনো সমস্যা হবে না। সেটা একটা সুন্দর জায়গা। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও ওয়েবাসাইট বন্ধ করে দিয়েছে- এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, এটা মিয়ানমার সরকারের ব্যাপার আমাদের কিছু বলার নেই। তবে আমরা খোলামেলা, আমরা তাদের কোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করিনি।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আগামী বছরের ১৭ বা ২৬ মার্চ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আসতে পারেন। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনের বছর ১৭ ও ২৬ মার্চ দুটি বড় উৎসব। আমরা চাই, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসুন। আমাদের বিজয় ভারতেরও বিজয় এবং এটি একসঙ্গে উদযাপন করা উচিত। তারা এ বিষয়ে সম্মত। শুধু বাংলাদেশে হবে না, অন্য দেশের রাজধানীতেও যৌথভাবে উদযাপন করা হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এটি ১৭ তারিখের দিকে হতে পারে। ভারত ১৬ ডিসেম্বর বৈঠক করতে চেয়েছিল কিন্তু ওইদিন আমরা যথেষ্ট ব্যস্ত থাকবো। সে কারণে উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটি তারিখ ঠিক করবো।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা আলাপ করলাম সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে। যদিও আমাদের সীমান্ত বাহিনীর প্রধানরা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ড হবে না, কিন্তু হচ্ছে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ছোট বিষয় কিন্তু এ প্রসঙ্গটি বারবার উঠে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত স্বীকার করলেন, দুই পক্ষেই ঝামেলা আছে। এয়ার বাবল শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি চালু হলে পররাষ্ট্র সচিব ভারতে যাবেন। তবে আমার বক্তব্য হলো, স্থল ও ট্রেনের মাধ্যমে মানুষের যাতায়াত চালু করা। কারণ আমাদের অধিকাংশ লোক গাড়িতে যায়।
ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ৫ অক্টোবর ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। ঢাকায় যোগ দেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই প্রথম বৈঠক। বাংলাদেশে ভারতের ১৭তম হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন বিক্রম দোরাইস্বামী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৯২ ব্যাচের কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ