বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

রায়হানের শরীরে ১১১ আঘাতের চিহ্ন

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশী নির্যাতনে নিহত রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম

সিলেট ব্যুরো : নয় দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার একজন আসামীকেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে নিহত রায়হানের পরিবার। এর মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে কটিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এসএমপির কতোয়ালী থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদের মৃত্যুর ৮দিনের মাথায় তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়াস্থ গুলতেরা মঞ্চিলে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন রায়হানের মা সালমা বেগম। পরে ৬টি দাবি পেশসহ ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন স্থানীয় মুরুব্বি শওকত আলী।
সিলেটে কর্মরত ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, রায়হান আহমদ হত্যায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হরতাল ও সড়ক অবরোধসহ দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
দাবিগুলো হচ্ছে- ১. রায়হান হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি, ২. রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর ভূঁইয়াসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার, ৩.পলাতক এসআই আকবর ভূঁইয়াকে গ্রেফতারে আইজিপির নির্দেশ,
৪.পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, ৫.নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন ও ৬. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার না করলে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনকি সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিসিকের প্যানেল মেয়র ১ তৌফিক বকস লিপন, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান ও ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাস, কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ ও কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ প্রমুখ।
এসএমপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যার ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি বলেন সিলেটে গৃহবধূ গণধর্ষণের স্বীকার হওয়ার পর কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি এসএমপি পুলিশ। গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও জেলা পুলিশ। এক্ষেত্রে কোন কৃতিত্ব নেই এসএমপি পুলিশের।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, রায়হান হত্যার পর পর সকল মানুষ তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। অথচ এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ একবার তার পরিবারের খোঁজটা পর্যন্ত নিতে আসেনি। পরবর্তীতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বরাবর যোগাযোগ করে চাপ সৃষ্টি করলে তাদের পক্ষ থেকে রায়হানের পরিবারকে দেখতে আসেন। এর আগে তারা কেউ আসেননি।
গতকাল রোববার সকালে নিহত রায়হানের বাড়িতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।  
এসময় তিনি কোতোয়ালী থানার ওসির সেলিম মিয়ার সমালোচনা করে বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটার পরও ওসি তার ছুটি আরোও বৃদ্ধি করেছেন।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন মায়ের আকুতি শুনবেন। কারণ তিনিও একজন নারী, একজন মা। উনার সদয় নির্দেশনায় এমসি কলেজের ঘটনায় অপরাধীরা যে ভাবে দ্রুত আইনের আওতায় এসেছে রায়হান হত্যাকারীরাও ঠিক একই ভাবে আইনের আওতায় আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ