শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বড় জয়ে ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে নাজমুল হোসেন একাদশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে বড় জয়ে ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে নাজমুল হোসেন একাদশ।  টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে ১৩১ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে নাজমুল একাদশ। গতকাল দলটি পেয়েছে দ্বিতীয় জয়। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট দলটির। অপর দল দৃুটি পয়েন্ট ২ করে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আফিফ হোসেন ধ্রুব, মুশফিকুর রহিম এবং ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৬৪/৮ রান করে শান্তর দল। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ ওভারেই ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। মিরপুরে এদিন টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নাজমুল একাদশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ৪ বলে ৮ রান করা সৌম্যের বিদায়ে বিপর্যয়ের শুরু। দলীয় রান তখন মাত্র ১৩। অধিনায়ক শান্তও পারেননি ভালো কিছু করতে। দলীয় ২৭ রানে মাত্র ৩ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। দুটি উইকেটই নেন রুবেল হোসেন। প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো মাঠে নামা পারভেজ হোসেন ইমন দারুণ শুরুর প্রত্যাশা জাগিয়েও ব্যর্থ হোন। সুমন খানের বলে দলীয় ৩১ রানে ফেরেন তিনি। তার আগে ২১ বলে ৪ চারে করেন ১৯ রান। ৮ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে দলের বিপর্যয় এড়াতে লড়াই শুরু করেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবং আফিফ  হোসেন ধ্রুব। নিশ্চিত শতক হাতছানি দিচ্ছিল এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু নার্ভাস নাইন্টিজে সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাঁটা পড়ে ফিরেন আফিফ। 

ফেরার আগে ১০৭ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে ৯৮ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে মুশফিকের সঙ্গে গড়েছেন ১৪৭ রানের বিশাল জুটি। আফিফ শতকের আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেও আগের ম্যাচের ফর্ম এই ম্যাচেও টেনে নিয়ে এসেছেন মুশফিক। আরেকটি ফিফটির দেখা পেয়েছেন এই লিটল মাস্টার। দেখে শুনে খেলা মুশফিক ফিফটি ছুঁয়েছেন ইবাদত হোসেনকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। ম্যাচে মুশফিকের সেটিই ছিল প্রথম বাউন্ডারির মার। তবে ফিফটি ছুঁয়ে ফিরেছেন তিনিও। এরপর ইরফান শুক্কুর এবং তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে এগুতে থাকে নাজমুল একাদশ। এই দুই ব্যাটসম্যান ৭ ওভারে ৭০ রানের জুটি গড়েন। যেটি ভাঙে হৃদয় ২৭ রান করে ফিরলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরফানের ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ঝড়ো ৪৮ রানে ভর করে নাজমুল একাদশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬৪/৮। মাহমুদউল্লাহ একাদশের হয়ে রুবেল ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া ইবাদত ৬০ রানে ২ উইকেট এবং সুমন ৫২ রানে ১ উইকেট নেন। জবাবে খেলতে নেমে শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। দলটির সাত ব্যাটসম্যান দুই অঙ্ক স্পর্শ করলেও বিশ রানের বেশি করতে পেরেছেন মাত্র দুইজন। তার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ রান করা নুরুল হোসেন সোহান অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান এসেছে লিটনের ব্যাট থেকে। এছাড়াও মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন ১৩ রানে করে। মাহমুদুল হাসান করেছেন ১১, সাব্বির ১০ এবং মেহেদি মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। দলীয় ১০০ রান ছোঁয়ার আগে মাহমুদউল্লা ছোট জুটি গড়েন। এই জুটি ভাঙতেই ১২ রানের মধ্যে শেষ তিন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। নাজমুল একাদশের হয়ে নাসুম আহমেদ এবং আবু জায়েদ রাহী নেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়াও তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ  নেন ২ উইকেট। ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা আফিফ পেয়েছেন ম্যাচসেরা এবং সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ