সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনার উপকূলের মোবাইল পানি শোধনাগারগুলো অচল পড়ে আছে

খুলনা অফিস : খুলনার উপকূলের মোবাইল পানি শোধনাগারগুলো কাজে আসছে না। অচল অবস্থায় পড়ে আছে খুলনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ এ পানি শোধনাগারগুলো। অন্যদিকে খাবার পানির সংকটে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা উপজেলার তিন ইউনিয়নসহ সাতক্ষীরার দু’টি উপজেলার দুর্যোগ কবলিত মানুষ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভান্ডার শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুল হাসান বলেন, ২০১৫ সালে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ৩০টি পানি শোধনাগার গাড়ি দেওয়া হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে। যেকোন দুর্যোগ বা আপদকালীন সমস্যা মেটাতে এসব গাড়িগুলো ওইসব এলাকায় পাঠানো হয়। ১৫ টি গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ১৫টি গাড়ি অধিদপ্তরের গ্যারেজে রাখা আছে। একটি শোধনাগারে ৫/৬শ’ লিটার পানি শোধন করা যায়। উন্নত প্রযুক্তির হওয়ায় এখানে প্রায় ৬শ’ পিপিএম লবণ পানি মিষ্টি করা সম্ভব হয়। এক লিটার পানি শোধনে খরচ হয় মাত্র ৫০/৬০ পয়সা। তিনি বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় গাড়ি অনুযায়ী চালক বা অপারেটর নেই। ৩০টি গাড়ির জন্য চালক আছে মাত্র ৪ জন এবং অপারেটর আছে ৬জন। প্রকল্পের আওতায় হওয়ায় তারা ঠিকমত বেতনও পান না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গাড়ি পাঠালেও চালক বা অপারেটর পাঠানো যায় না। তিনি আরও বলেন, দাকোপ এবং সাতক্ষীরার আশাশুনিতে দু’টি শোধনাগার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কয়রার উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী, সদর ইউনিয়নের একটি অংশ, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, চাকলা ও গোকুল নগর, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তীব্র পানি সংকটের মধ্যে রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহ করতে এসব এলাকার মানুষদের কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়।
কয়রার দক্ষিণ বেতকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর রহমান বলেন, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং, আংটিহারাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর দুরান্ত থেকে নৌকায় করে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। পুকুরসহ মিষ্টি পানির আঁধার সব নষ্ট হয়ে গেছে আম্পানের পর পরই। সরকারের সহযোগীতায় বিভিন্ন স্থানে পানি ধরে রাখার ড্রাম দেওয়া হচ্ছে। তবে বৃষ্টি শেষ হয়ে যাওয়ায় পানির সংকট আরও বেড়েছে।
পানির সংকটের বিষয়ে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, হাজতখালী, কাঠমারচর, গাজিপাড়া এলাকায় খাবার পানি নেই। এসব এলাকার মানুষ এখনও জোয়ারের পানিতে ডোবে আর ভাটায় জাগে। দুর থেকে পানি সংগ্রহ করে তাদের পিপাসা মেটাতে হচ্ছে।
অপরদিকে আম্ফান তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যতম এলাকার মধ্যে সাতক্ষীরার দাতিনাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, দুর্গবাটি ও কাশিমাড়ী আর গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কিছু এলাকায় খাবার পানির সমস্যা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কাশিমাড়ী, গোলাখালী ও দাতিনাখালী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একটু খাবার পানির জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন হঠাৎ করে পানি দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে। না হলে ৫/৭ কিলোমিটার দূর থেকে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে।
দাতিনাখালী গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান, আম্পানে বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা লবণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে কিছু মানুষ পানি দিত। মাঝখানে বৃষ্টি শুরু হওয়াতে তারা আর পানি দিচ্ছে না। ফলে আবার সেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আমাদের।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোশাররফ জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পান আঘাত হানার পর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়। খাবার পানির আঁধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে আমরা ওই সব এলাকার টিউবওয়েলগুলো মেরামত করে দিয়েছিলাম। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ আনুসঙ্গিক ব্যববস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। অস্থায়ীভাবে ভ্রাম্যমাণ পানি শোধনাগার দিয়েছিলাম। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব ভারি গাড়িগুলো সেখানে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, উপজেলা সদরে একটি গাড়ি রাখা হয়েছিল তবে এখন আর সেখানে কোন গাড়ি নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ