বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ আনা হলেও সিইসি বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ।  একই সঙ্গে তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি অনিয়মের প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুর দুইটায় নির্বাচনী এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।  গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি এই নির্বাচনের প্রথম দিন থেকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।  এমনকি আমি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছি সেখানেও আমাকে বাধা দেয়া হয়েছে।  আমারতো জন্মগত অধিকার এ এলাকার কোনো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া এবং তাদের কাছে ভোট চাওয়া, দোয়া চাওয়া।  কিন্তু সেটাও আমাকে করতে দেয়া হয়নি।  আমরা যখনি গণসংযোগে গিয়েছি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে এবং তখনই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে।  আপনারা দেখেছেন দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দুই নারী এজেন্ট বোনকে অপদস্ত করে বের করে দেয়া হয়েছে।  এছাড়াও আরকে মিশন চৌধুরী স্কু্লে আমাদের আরেক নারী এজেন্টের ওপর হামলা করে বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তার গায়েও হাত দেয়া হয়েছে।  এ সময় প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রতি অভিযোগ তুলে বিএনপি প্রার্থী বলেন, প্রায় সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।  যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকেছে তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমরা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমরা এ অনিয়মে জর্জরিত অবৈধ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভাণ্ডারীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।  তিনি বলেন, নির্বাচনে কোথাও কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি।  আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। শনিবার দুটি আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি এ কথা বলেন।
ভোটারদের উপস্থিতি ও আগ্রহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে ভোট হয়।  এই খণ্ড নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কম থাকে।  এ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।  ২ বছর/আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন সেই জন্য হয়তো প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই।  পাশাপাশি করোনার একটি বিষয় তো রয়েছে।  এজন্য মানুষ আতঙ্কিত। মানুষ যেতে চায় না এ রকম একটা অবস্থা তো আছেই। এর মধ্যেও নির্বাচনের ট্রেন্ড ভালো।
নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে ছয়জন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।  ঢাকা-৫-এ আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ, গণফ্রন্টের এইচএম ইব্রাহিম ভূইঁয়া, জাতীয় পার্টির মীর আবদুস সবুর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান (সুমন মাস্টার) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নওগাঁ-৬-এ আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল), বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. খন্দকার ইন্তেখাব আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।  দুটি নির্বাচনেই বিপুল ভোটে সরকার সমর্থিত প্রার্থী জয় লাভ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ