বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য গণফোরামের শীর্ষ ৮ নেতা বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১২ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মোস্তফা মহসিন মন্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ ৮ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি গঠনের পর এটিই কমিটির প্রথম সভা।
সভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হবে। গণতন্ত্র শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না, মানুষকে অধিকার ভোগ করে দেয়ার সুযোগ আমাদের তৈরি করে দিতে হবে। আমি বলতে চাই- আপনারা জেলায় জেলায় দলকে সংগঠিত করুন, দলে তরুণ ও নারীদের সংখ্যা বাড়ান। দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ করুন এবং গণফোরামের নীতি-আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরুন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষ সবাই সচেতন হলে আমাদের সংবিধানের যে লক্ষ্যগুলো আছে- গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার আছে সেগুলো বুঝানো মানুষকে এবং বুঝিয়ে সেগুলোকে যেন কার্যকরভাবে মানুষ নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারে। আমাদের যে লক্ষ্য-আদর্শ আছে এটার মধ্যে দেখবেন যে, সংবিধানের যে মূল লক্ষ্য-আদর্শ আছে তা আরো ভেঙে বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে। যাতে সংগঠন শক্তিশালী হলে দেশে সত্যিকার অর্থে আমরা গণতন্ত্রকে আরো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়তে পারবো।
গণতন্ত্রের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জনগন দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করার মধ্য দিয়ে কিন্তু আমাদের যে আকাংখিত দেশ-সমাজ- এখানে কার্যকর গণতন্ত্র থাকবে, এখানে মানুষের মধ্যে বৈষ্যম থাকবে না, নারী পুরুষদের মধ্যে অধিকারের দিক থেকে বৈষ্যম থাকবে না। সেই জিনিসগুলো শুধু কাগজে থাকলে চলবে না, এগুলোকে মানুষের চিন্তাধারার নিয়ে আসা গেলে মানুষ সচেতন হবে। তখনই বলা যা্বে যে, আমরা পুরোপুরি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি মানুষকে-এদেশে গণতন্ত্র থাকবে, দেশে মানুষের মধ্যে সামাজিক বৈষ্যম থাকবে না। এসব নিয়ে কার্যকরভাবে সবাই যেন কাজ করে গেলে সেই সমাজে সেই দেশে আর্দশ যেটা সামনে রেখে গণফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সেই বাস্তবে রুপান্তরীত করলে দেশ-সমাজ উপকৃত হবে, আমাদের যে স্বাধীনতার লক্ষ্য সেটাকে আমরা বাস্তবে রুপান্তরীত করতে পারবো।
দলের সদস্য বৃদ্ধির ওপর তাগিদ দেন গণফোরামের সভাপতি। তিনি বলেন, সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। এই সদস্য শুধু নামকা ওয়াস্তে চাঁদা নেয়ার জন্য নয়, যাদেরকে সদস্য করা হবে তাদের সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা দেখেছি, জেলা জেলায় নেতারা বলেছেন, অনেক মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছেন গণফোরামের সদস্য হওয়ার জন্য। এটা খুব ভালো লক্ষন।
এই সভায় আহবায়ক কমিটির ৭০ সদস্যসহ ১৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।আহবায়ক কমিটির সদস্য সাংসদ মোকাব্বির খানের সভাপতিত্বে এই সভায় সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, আওম শফিক উল্লাহ, মহসিন রশিদ, সুরাইয়া বেগম, জানে আলম ও মোশতাক আহমেদ মূল মঞ্চে ছিলেন। সভায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শুনান কমিটির সদস্য মোশতাক আহমদ।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, এই সভা বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় সংগঠনকে শক্তিশালী, গতিশীল  ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত করছে। দলীয় শৃঙ্খলভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা কারণে এই ব্যাপারে পাঠানো শোকজের জবাব না দেয়ার কারণে জনাব মোস্তফা মহসিন মন্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী ও জগলুল হায়দার আফ্রিককে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সভা গ্রহন করছে। একইভাবে পূর্বে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত মো. হেলালউদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। এই সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও মহানগর গণফোরামের হারুন তালুকদার দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এসব সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না। পরে সভার সভাপতি সংসদ সদস্য মোক্তাদির খান বলেন, একজন সমর্থন করেনি। বাকীরা হাততালি দিয়ে এসব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। এসব সিদ্ধান্ত পাস হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ