শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

দুই চোখ উপড়ে এবং ঘাড় ভেঙে মাদরাসা ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় মাদরাসা ছাত্র রবিউল ইসলামের দুটি চোখ নষ্ট করে, ঘাড় ভেঙে ও শরীরের একাধিক স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহত রবিউলের বাবা মো. আকবর আলী।
উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রহমাননগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও স্থানীয় লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রবিউল ইসলাম (১১) ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় গাংগের পাড় এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।
কিন্তু সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করান। সোমবার রাতে রবিউলের মামা শওকত আলী বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পরদিন ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের বাল্লার ব্রিজের সেতুর একটি ডোবায় রবিউল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানায়, বছর খানেক আগে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান (৪৫) ও আব্দুল কাদিরের (৫০) ধানক্ষেতে চলে যায় গোয়াহরি গ্রামের আব্দুল হামিদের গরু। এ সময় ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদির গরুকে ধরে পা কেটে দেন। বিষয়টি দেখেছিল রবিউল ইসলাম। সাক্ষী হিসেবে সে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় রাস্তায় পেয়ে রবিউল ইসলামকে মারধর করতেন ছাদিকুর রহমান। ৭ অক্টোবর মুরিকোনা হাওরে গরুর ঘাস কাটতে গেলে রবিউলকে ছাদিকুর রহমান মারধর করেন। এ নিয়ে ৮ অক্টোবর রহমাননগর গ্রামের গণি মিয়ার বাড়িতে আরেকটি সালিশ বৈঠক হয়।
ওই দিন বৈঠক শেষে ছাদিকুর রহমান রবিউল ইসলামকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। হুমকি দেয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় রবিউল ইসলাম খুন হয়। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর নিহতের বাবা আকবর আলী বাদী হয়ে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে মামলার আসামি উপজেলার করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের ওসি শামীম মুসা বলেন, এ ঘটনায় মাজেদা বেগম নামের একজন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ