বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দেশে রান্নার কাজে এখনো সনাতন পদ্ধতি নির্ভরতা ৮০ ভাগ গৃহে

সরদার আবদুর রহমান : দেশে বর্তমানে গৃহস্থালীর কাজে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ প্রচলিত পুরাতন পদ্ধতির জ্বালানি ব্যবহার করে। পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা পায় ১১ দশমিক ২ ভাগ এবং সিলিন্ডার গ্যাস (এলপিজি) পায় ৬ দশমিক ৪ ভাগ। বিভাগওয়ারি হিসাবে পাইপ ও সিলিন্ডার গ্যাসের সুবিধায় এগিয়ে আছে ঢাকা ও চট্টগাম বিভাগ। এর অনেক পিছনে রয়েছে বরিশাল ও রংপুর বিভাগ।
সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ-এর এক যৌথ জরিপের পর ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এতে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক, নারী ও শিশু শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয় এই জরিপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
সমীক্ষায় শহর ও গ্রামে এবং দেশের বিভাগসমূহে সিলিন্ডারযুক্ত এলপিজি, পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রথাগত ও পুরনো পদ্ধতির জ্বালানি, বায়োগ্যাস প্রভৃতি পদ্ধতির ব্যবহারের বিষয়ে উপাত্ত তুলে ধরা হয়। শহর ও গ্রামের প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার গৃহের উপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে শহরের গৃহের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৭শ’ প্রায় এবং গ্রামের ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি। একনজরে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে প্রথাগত জ্বালানি ব্যবহারকারী গৃহের শতকরা হার ৭৯ দশমিক ৪ ভাগ, পাইপ লাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় ১১ দশমিক ২ ভাগ, এলপিজি ব্যবহৃত হয় ৬ দশমিক ৪ ভাগ এবং অবশিষ্ট ৩ ভাগ ব্যবহার হয় কেরোসিন চুলা, ইলেকট্রিক স্টোভ, বায়োগ্যাস প্রভৃতি।
সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরে সিলিন্ডারযুক্ত এলপিজি ব্যবহার করে ১৭ দশমিক ১ ভাগ ও গ্রামে ৩ দশমিক ৬ ভাগ। পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয় শহরে ৩৮ দশমিক ৭ ভাগ ও গ্রামে ৩ দশমিক ৬ ভাগ। প্রথাগত জ্বালানি (কাঠ-খড়, ঘুঁটা-গুঁড়া, পাতা-পাটশলা ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয় শহরে ৪১ দশমিক ২ ভাগ ও গ্রামে ৯০ ভাগ। বাকি অন্যান্য প্রকার জ্বালানি ব্যবহার করে শহর ও গ্রামের গৃহবাসীরা।
বিভাগওয়ারি সমীক্ষায় দেখা যায়, সিলিন্ডারযুক্ত এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই হার ঢাকা বিভাগে ১০ দশমিক ৪ ভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ দশমিক ২ ভাগ, খুলনা বিভাগে ৬ দশমিক ৭ ভাগ, রাজশাহীতে ৪ দশমিক ৮ ভাগ, মোমেনশাহী বিভাগে ৩ দশমিক ৯ ভাগ, বরিশাল ২ দশমিক ৯ ভাগ, সিলেটে ২ দশমিক ৫ ভাগ এবং রংপুর বিভাগে ২ দশমিক ৫ ভাগ।
পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের বেলায় বেশি সুবিধা পাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। আর বেশি পিছিয়ে রয়েছে খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ। এই হার সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে শতকরা ৩০ দশমিক ১ ভাগ, চট্টগ্রামে ১৩ দশমিক ৪ ভাগ, সিলেটে ৯ দশমিক ২ ভাগ, মোমেনশাহীতে ৩ ভাগ, রাজশাহীতে ২ দশমিক ৮ ভাগ, বরিশালে ০ দশমিক ২ ভাগ খুলনায় ০ দশমিক ১ ভাগ এবং রংপুর বিভাগে ০ দশমিক ১ ভাগ।
প্রথাগত জ্বালানি তথা কাঠ-খড়, ঘুঁটা-গুঁড়া, পাতা-পাটশলা ইত্যাদি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় রংপুর ও বরিশাল বিভাগে। এই হার বরিশালে ৯৫ দশমিক ৪ ভাগ, রংপুর বিভাগে ৯৪ দশমিক ৩ ভাগ, খুলনায় ৯২ দশমিক ১ ভাগ, রাজশাহী বিভাগে ৯১ দশমিক ১ ভাগ, সিলেট বিভাগে ৮৬ দশমিক ৪ ভাগ, মোমেনশাহী বিভাগে ৮৫ দশমিক ১ ভাগ, চট্টগ্রামে ৭৩ দশমিক ৩ ভাগ এবং ঢাকা বিভাগে ৫৭ দশমিক ৪ ভাগ।
স্বল্পব্যয় ও পরিবেশ উপযোগী হিসেবে পরিচিত বায়োগ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে নানান পরীক্ষা-নীরিক্ষা এবং প্রকল্প তৈরির কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা দেখা গেলেও বাস্তবে তাতে তেমন অগ্রগতি এই সমীক্ষায় দেখা যায়নি। এই ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রগতি মাত্র ০ দশমিক ১ ভাগ। দেখা যায়, বিভাগীয় পর্যায়ে মাত্র বরিশালে সর্বাধিক ০ দশমিক ৬ ভাগ এবং চট্টগ্রামে ০ দশমিক ২ ভাগ ব্যবহৃত হয়। সিলেট ও মোমেনশাহীর অবস্থান একেবারে শূন্য।
ইলেকট্রিক স্টোভ ব্যবহারের প্রবণতা সর্বাধিক রংপুর বিভাগে শতকরা ২ ভাগ। আর মোমেনশাহীতে ০ দশমিক ৯ ভাগ, ঢাকায় ০ দশমিক ৮ ভাগ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় ০ দশমিক ৬ ভাগ, সিলেটে ০ দশমিক ৫ ভাগ এবং বরিশালে ০ দশমিক ৪ ভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ