বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান এনে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে -ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার: ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান এনে সরকারের আইন সংশোধন ‘জনগণের সাথে প্রতারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল শনিবার দুপুরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের বুঝানোর জন্য এই সরকার একটা আইন করেছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমরা আপনাদেরকে বলতে চাই, এই মৃত্যুদণ্ড আগেই ছিলো নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে। এখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে এক‘শ উপরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী জেলে মধ্যে রয়েছে। গত ১২ বছরে মাত্র চারজনের ফাঁসি হয়েছে। যদি মৃত্যুদণ্ড না থাকবে তাহলে এই আইনে মৃত্যুদণ্ড পেলো কোথায় থেকে? অতএব এটা আমাদেরকে সরকার যেকোনভাবে বুঝানোর জন্য চেষ্টা চালায়। সরকার জনগণের সাথে  প্রতারণা করে ধর্ষণ ইস্যুকে সরিয়ে দিতে চায়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে এই মানব্বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা সাফা, মহিলা দলের নেওয়াজ হালিমা আরলি, নিলোফার চৌধুরী মনি, অপর্না রায়সহ মহানগর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, মৃত্যুদণ্ড এর কোনো সমাধান নয়। যেদেশে বিচার নাই, সেখানে মৃত্যুদণ্ড কিভাবে হবে। যেখানে বিচারহীনতা যেদেশে, যেখানে বিচার হয়, সেখানে দলীয়করণ করা হয়েছে। আজকে দলকে যা বলা হয়, সরকার থেকে যা বলা হয় তাই বিচারের রায় প্রতিফলিত হয়। আমাদের সামনে এটার প্রমাণ রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না। কিন্তু তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সরকারের ইঙ্গিতে, সরকারের নির্দেশে।
তিনি বলেন, আমি বলতে চাই, এই অনৈতিক সরকার যতদিন থাকবে এদেশের মানুষ বিচার পাবে না, এই অনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে এদেশে হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, প্রতারণা-এসব কখনো শেষ হবে না। আজকে আমাদের সকলকে দলমত নির্বিশেষে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে একটি জনগণের সরকার দেশে প্রতিষ্ঠা করা, একটি জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠা করা তাহলে একমাত্র এতো অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন-অনৈতিক কাজ বাংলাদেশ থেকে দুরীভূত করা যাবে। আমাদের জরুরি প্রয়োজন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা। আজকে আপনাদের কাছে আবেদন জানাতে চাই, শুধু প্রতিবাদ করলে চলবে না, এই প্রতিবাদের শক্তিকে প্রতিরোধে শক্তিতে আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করে এই ফ্যাসিবাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। আগামী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই লুট, এই দুর্নীতি, এই দখল, এই ধর্ষণ, এই খুন-গুম সবকিছুর মদদাতা এবং তাদের যারা পৃষ্ঠপোষক তারা হচ্ছে বর্তমান সরকার। আজকে আমরা প্রতিবাদ করবো কার কাছে। যারা অনৈতিক সরকার, তারা কখনো বিচার করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ