সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১
Online Edition

কোভিড-১৯-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে কাজ হারিয়েছে শতকরা ৯৬ ভাগ নারী

স্টাফ রিপোর্টার : কোভিড-১৯-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে শতকরা ৯৬ভাগ নারী র্কমসংস্থান হারিয়েছেন। যারা মূলত গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতা র্কমী, গার্মেন্ট শ্রমিক এবং নির্মাণ খাতে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং তাদের মাত্র সাড়ে আটভাগ র্মাচ মাসের পারিশ্রামিক পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এতথ্য উঠে আসে। ঢাকায় র্ভাচুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি থেকে মূলবক্তব্য উপস্থাপন করে কোস্ট ট্রাস্টের সালমা সাবিহা এতথ্য জানান। আজ আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। ইক্যুইটিবিডি আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’র সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় কমিটির সচিবালয় সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দর সঞ্চালনায় এবং শামীমা আকতারের সভাপতিত্ব করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় কমিটি সদস্য ফেরদৌস আরা রুমি, গ্রাম বিকাশ সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্না, বিএনএনআরসি পক্ষ থেকে প্রতিভা ব্যানার্জি, রংপুর থেকে মঞ্জুশ্রী সাহা , রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কৃমার গুহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আকবর হোসেন রংপুর প্রতিবন্ধি সংস্থা, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী, লক্ষিপুর থেকে সাবরিনা আকতার নির্বাহী পরিচালক ওয়াইজ, বিএনএনআরসির নির্বাহী প্রধান এএইচ এম বজলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
সালমা সাবিহা আরো জানান, গ্রামীণ নারীরা অবহেলিত, তাদের অবদান স্বীকৃত নয়। তাই গ্রামীণ নারীরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয় বেশি। এব্যাপারে তিনি আরোও  জানান,  শুধু মার্চ মাসেই বগুড়া, জামালপুর ও কক্সবাজার জেলায় ৬৪ টি ধর্ষণের ঘটনা ও তিন শতাধিক পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল মাসে ৪২৪৯ জন নারী বিভিন্ন প্রকার সহিংসতার শিকার হয়েছেন যার সিংহ ভাগই গ্রামীণ নারী। এসব তথ্য তুলে ধরে তিনি  নারীদের প্রতি যেকোন সহিংসতায় দ্রুত বিচার আইনে তা নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তিনি নারীর প্রতি যেকোন ধরনের সহিংসতায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তৈরি করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে বলেন, গ্রামীন নারীদের কাজকে মুল্যায়ন না করলে দেশ উন্নয়নের পথে এগুবে না। তারা কোভিড সময়ে কর্ম হারা নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নারীর প্রতি যে কোন ধরণের সহিংসতায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি তৈরি করতে হবে।
বক্তরা বলেন, গ্রামীণ নারীদের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় একসাথে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কোভিডকালীন নারীর প্রতি সহিংসতায় নারীদের পাশে থাকবো। উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে। গ্রামীণ নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধ গড়ে তোলা একার বিষয় নয়। জন প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার সহ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ নারীদের পিছনে রেখে সার্বিক নারী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ