বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১
Online Edition

ধর্ষণের নির্মম শিকার

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে সন্তানদের আটকে রেখে একজন গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বরিশালে পরকীয়ায় জড়িয়ে গণধর্ষণের শিকার একজন গৃহবধূ লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে ছোট বোনকে ধর্ষণে বাধা দেয়ায় গার্মেন্টকর্মী বড় বোনকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালা মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বগুড়ায় মেয়ের ধর্ষকদের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন অসহায় এক বাবা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তরুণীকে ধর্ষণ ও তার বাবাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামী শামীম আহমদের মামা আবদুল খালিছের (৪৮) বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে আব্দুল খালিছের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী কর্মঅক্ষম। এজন্য বিয়ের পর থেকে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি থাকছেন গৃহবধূ। এ সুযোগে গ্রামের প্রভাবশালী আবদুল খালিছ গৃহবধূকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ৩ এপ্রিল রাতে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন খালিছ। বিষয়টি লোকলজ্জায় কাউকে জানাননি তিনি। এরই মধ্যে আবদুল খালিছ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গৃহবধূর ঘর থেকে কৌশলে ভোটার আইডি কার্ড, বিয়ের কাবিননামা ও জমির কাগজপত্র এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরে এসব জিনিস আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে। ৯ অক্টোবর রাতে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে সন্তানদের এক ঘরে আটকে রেখে গৃহবধূকে আবারও ধর্ষণ কওে সে। জগন্নাথপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আলোকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা: বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দলবেঁধে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণের ঘটনায় লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক গৃহবধূ (১৭)। সোমবার সকালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা। গৃহবধূর ভগ্নিপতি আবু বক্কর জানান, তিন মাস আগে ভাষানচর ইউনিয়নে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। স্বামী ঢাকায় থাকায় আন্ধারমানিক এলাকায় সে বাবার ঘরে থাকতো। এ সময় তার সঙ্গে হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউশিয়া গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের বাবুর পরকীয়া প্রেম হয়। রোববার রাতে মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় বাবু তার বন্ধু রাজীবের ঘরে ডেকে নেয় ওই গৃহবধূকে। এরপর বাবু, রাজীব ও তাদের আরেক বন্ধু নাজমুল তাকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য পরান ভূঁইয়া সোমবার সকালে শালিস বৈঠক বসিয়ে ধর্ষকদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে গৃহবধূকে পরিবারের জিম্মায় দেয়। এ ঘটনায় লজ্জায় ঘরে গিয়ে ওই গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহরাজ হায়াৎ বলেন, দুপুরে নিয়ে আসার পর এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি ওই গৃহবধূর। তার হাতে আঁচড়ের চিহ্ন আছে, তাকে প্রাথমিকভাবে স্যলাইন পুশ করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়ে তিনি এখনো অবহিত নন। তবে জ্ঞান ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে। হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এখনো অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা, বড় বোনকে ছুরিকাঘাত: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ছোট বোনকে ধর্ষণচেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বড় বোনকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছুরিকাঘাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে শিহাচর শাহজাহান রোলিং মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করায় সোমবার রাতে তাদের ভাড়া বাসায় হামলা করা হয়। আহত বড় বোনকে (২৫) রোববার রাতে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। এ বিষয়ে ওই বড় বোন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার ছোট বোনকে (১৫) এলাকার ১৬-১৭ বছরের দুই কিশোর উত্ত্যক্ত করে আসছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার সময় ওই দুজনসহ ১০-১৫ জন কিশোর আমাদের বাসায় আসে। তারা আমার ছোট বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে তারা চলে যায়। এই ঘটনায় রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করি। এই খবর পেয়ে রাতে আবার তারা বাড়িতে হামলা করে। তার ছোট বোনকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি এবারও বোনকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। এ সময় এক কিশোর আমার পেটে ছুরিকাঘাত করে দলবল নিয়ে চলে যায়।’ ওই কিশোরীর বড় বোন আরও বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে থানায় গিয়ে তথ্য গোপন করে জিডি করেছিলাম। জিডির বিষয়টি জীবন ও তার লোকজন জানতে পেরে সোমবার রাতে কয়েক দফা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। টিনের ঘর ও দরজা-জানালা কুপিয়েছে। জিডি তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। জিডি তুলে না নিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’ এ বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার অভিযুক্ত এক কিশোরের (১৭) একটি গণমাধ্যম থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংক কর্মচারী বাবাকে কুপিয়ে জখম : নড়াইলে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর বাবার সাহসিকতায় শ্লীলতাহানির হাত থেকে রক্ষা পেল এক স্কুলছাত্রী। গভীররাতে মেয়ের ঘরে হানা দেয়া গৃহশিক্ষক এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিঠু বিশ্বাস। তাকে প্রতিহত করতে গিয়ে মিঠুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন শিক্ষার্থীর বাবা কামরুজ্জামান। এ সময় মিঠুকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রোববার রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। একই উপজেলার সিঙ্গিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠু এর আগেও তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নিজ গ্রামের এক ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ও তার বোন এবং দাদীকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি মিঠু নিজের কুমতলব হাসিল করতে নিজ এলাকার দূরবর্তী তুলরামপুরে রাজ ছদ্মনামে ব্যাংক কর্মচারী কামরুজ্জামানের নবম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ের জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে এক পর্যায়ে সে ছাত্রীকে নানা কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করে। বিষয়টি তার বাবাকে জানালে মিঠুকে গৃহশিক্ষক থেকে বাদ দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠু শিক্ষার্থীর বাবার মোবাইলফোনে নানা হুমকিধামকির একপর্যায়ে সোমবার গভীর রাতে কৌশলে সায়মার ঘরে প্রবেশ করে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এসময় মেয়ের চিৎকারে কামরুজ্জমান মেয়েকে রক্ষা করতে ছুটে গেলে মিঠু নিজের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কামরুজ্জমানকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে মিঠুকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরসহ গ্রেফতার ২ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল গ্রামে কালা মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে কালা মিয়া ও তার সহযোগী আবু সাঈদকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। পরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূর করা মামলায় তাদের দুইজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়াইল গ্রামের ওই গৃহবধূর (১৯) স্বামী মাজার ভক্ত হওয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন মাজারে রাত্রিযাপন করেন। গত রোববার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কালা মিয়া তার সহযোগী পার্শ্ববর্তী থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদকে নিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ার পর সোমবার রাতে বড়াইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে কালা মিয়া ও আবু সাঈদকে আটক করে পুলিশ। নবীনগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্ত কালা মিয়া ও তার সহযোগী আবু সাঈদকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
ধর্ষকদের ফাঁসি চেয়ে একাই মানববন্ধন বাবার : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মেয়ের ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে একাই মানববন্ধন করেছেন হতদরিদ্র অসহায় এক বাবা। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও হাতে পোস্টার নিয়ে এক ঘণ্টা নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তিনি। তিনি স্থানীয় কারো সঙ্গে কথা না বললেও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে (১২) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আমি জীবিকার তাগিদে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করি। আমার মেয়ে গ্রামে তার দাদা-দাদির কাছে থাকতো। গত ৬ জুন রাত ১০টার দিকে আমার মেয়ে তার দাদার ঘরে টিভি দেখছিল। এ সময় তার দাদা-দাদি কেউ বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে আমার প্রতিবেশী উপজেলার রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের মজিদ শেখের ছেলে ফজল ও তার ছোট ভাই নয়ন ঘরে ঢুকে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। পুলিশ দুই ভাইকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ মামলায় ধর্ষক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামীপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে মেয়েটিকে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আসামীপক্ষ আমার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ