শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

একাদশে অনলাইন ক্লাসে নানা বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস: করোনাকালীন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তা চারদিকে। বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যদিয়েও একাদশ শ্রেণীর অনলাইন ক্লাস শুরু সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ। রোববার থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষা বর্ষের প্রথম পাঠদান। শিক্ষকরা তেমন কোন সমস্যার মুখোমুখি না হলেও বিড়ম্বনায় পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শহরের তুলনায় পিছিয়েই রইলো গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, করোনার মধ্যেই অনলাইনে ভর্তি সম্পন্ন করেছে কলেজগুলো। করোনাকালীন সময়ে অনলাইন ক্লাস চালু থাকায় নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরও বরণ করা হলো অনলাইনেই। ক্লাসের প্রথম দিনেই যাওয়া হলো না ক্যাম্পাসে। ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন পরিস্থিতিতে পরিচিত হতে হয়েছে শিক্ষকদের সাথে। নেই কোন নবীনবরণ অনুষ্ঠানও। শিক্ষকরা কলেজের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ি নিচ্ছেন তাদের ক্লাস। স্মার্ট ফোনের অভাবে কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে আগে থেকে যোগাযোগ না থাকায় অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে এই ক্লাস থেকে। বঞ্চিত হলেও কলেজের নির্দিষ্ট অনলাইন পেজে ওই ক্লাস পরে দেখারও সুযোগ রাখা হচ্ছে নবীন এই শিক্ষার্থীদের জন্য।

সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রা উপজেলার গোলখালী গ্রামের ঐশী মঞ্জুর খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। অধীর আগ্রহ নিয়ে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অনলাইন ক্লাসে বসেছিল সে। কিন্তু অধ্যক্ষের বক্তব্য টুকু ছাড়া কিছুই দেখতে পায়নি ঐশী। সে কারণে রীতিমতো কান্না শুরু করে এসএসসিতে এ+ প্রাপ্ত বিজ্ঞান বিভাগের এ মেধাবী শিক্ষার্থী। অনলাইন জটিলতার কারণেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাকে।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শ্রেণীকক্ষে পাঠদানকালে অনেক জটিল বিষয় শিক্ষকদের সাথে আলোচনা বা প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে সে সুযোগ না থাকায় পাঠদানের সব বিষয় বোঝার উপায় নেই। ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে টিচার শুধু লেকচার দিয়েই যাচ্ছেন, ল্যাপটপ বা মোবাইল স্কীনে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে বোরিং লাগছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার কারণে ভিডিও বার্ফিং হওয়া অনলাইন ক্লাস দেখতে সমস্যায় পড়েছে অনেকেই। শহরের কলেজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাধিক স্মার্টফোন থাকলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন সংকটে। প্রত্যেকের হাতে নেই পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা।

সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের নবীন শিক্ষার্থী আহনাফ তুনান বলেন, কলেজ জীবনের শুরুই প্রযুক্তি ভিত্তিক অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে। কারও সাথে কোন দেখা নাই। তবে নতুন এই অভিজ্ঞতা জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের নবীন শিক্ষার্থী ইখতিয়ার হোসেন বলেন, শহরের কলেজগুলোতে অনেকে গ্রাম থেকেও ভর্তি হয়। তবে অনলাইন ক্লাসের এই সুবিধা তারাও পাচ্ছে। অনেক কলেজে ভর্তির সময় কলেজের অনলাইন আইডি ও রুটিন দেওয়া হয়েছিল। আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের নবীন শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন অভিজ্ঞতা স্মরণীয় মূহুর্ত। অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে তাদের পড়ালেখা এগিয়ে যাবে। সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর টি এম জাকির হোসেন বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনে ক্লাস আগে থেকে চালু রয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ কলেজ জীবনের শুরুতেই পেয়েছে। এই ক্লাসের মাধ্যমে তাদের অনলাইনে পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়বে। সরকারি সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রফেসর অভিজিৎ চন্দ্র বসু বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা করোনাকালীন সময়ে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকবে না। খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (অব.) প্রফেসর ড.  সৈয়দা লুৎফুন নাহার বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসে কিচ্ছু হবে না। গুটি কয়েক শিক্ষার্থী হয়তো অনলাইন ক্লাসে সংযুক্ত হবে; তবে উপকারের চেয়ে অপকারটাই বেশি হবে। এক ঘন্টা ক্লাসের নামে সারাদিন মোবাইল হাতে নিয়ে প্রযুক্তি অপব্যবহারটাই করবে উঠতি বয়সের এসব শিক্ষার্থীরা। প্রযুক্তির অপব্যবহারে মেধা-মননের চরম ক্ষতি হবে। নৈতিক চরিত্রেরও অধঃপতন হতে পারে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। তিনি আরও বলেন, কয়জন শিক্ষার্থী প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করবে? বহির্বিশ্বকে দেখাতেই নামে মাত্র অনলাইন ক্লাস শুরু করা হলো, যে আমরাও পারি! বহির্বিশ্ব আর বাংলাদেশ এক নয়।  মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তো একটি বছর লেখাপড়া বন্ধ ছিল। প্রয়োজনে এই মহামারিতেও দুই বছর বন্ধ থাকবে। কিছুই তো করার নেই। তবে অনলাইন ক্লাসে এ জাতির কোন উপকার হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ। তিনি খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজের পরিচালনা পর্যদেরও সদস্য। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুনর রশীদ বলেন, আপদকালীন এই সময়ে অনলাইনে ক্লাস বর্তমান সরকারের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কলেজ অনুযায়ি নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা রুটিন রয়েছে। তার ভিত্তিতে এই ক্লাস চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ