বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ঝুঁকিমুক্ত নন করোনায় আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপসর্গ যেমনই হোক, তাকে ‘ঝুঁকিমুক্ত’ বিবেচনার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা। বয়স, শারীরিক স্থূলতাসহ বিভিন্ন কারণে তার জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা মনে করছেন, ৭৪ বছর বয়সী ও ১১০ কেজি ওজনের ট্রাম্পের আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহে উপসর্গ কম থাকলেও পরবর্তী সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা ভালো আছেন এবং আশা করছেন ট্রাম্প দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় সুস্থ থাকলেও বয়স, শারীরিক স্থূলতাসহ বিভিন্ন কারণে তার ঝুঁকি রয়েছে।
মার্চে মেডিক্যাল সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মৃত্যুহার ১.৪ শতাংশ হলেও সত্তরের কোটায় যাদের বয়স, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ৮.৬ শতাংশ। চীন থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়।
মেলবোর্নভিত্তিক সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের চিকিৎসক ব্যারি ডিক্সন বলেন, ট্রাম্পের যদি নিউমোনিয়া হয়, তবে তার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কিংবা হৃদরোগীদের করোনাজনিত মৃত্যুহার বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কারণ।
ডিক্সন বলেন, ‘করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন, কেউ যদি প্রচণ্ড ধূমপায়ী হন, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগ থাকে, তবে ঝুঁকি বাড়ে। আমাদের জানামতে ট্রাম্পের শরীরের ওজন বেশি, তার বয়সও বেশি। আর এগুলো উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
এ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, প্রথম সপ্তাহে সাধারণত করোনা আক্রান্তদের মধ্যে খুব সামান্য উপসর্গ থাকে। দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের শরীরে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে, নাও পারে। সুতরাং, প্রথম অবস্থায় উপসর্গ কম থাকলেও পরে যে অবস্থার অবনতি হবে না, তা বলার সুযোগ নেই। এক সপ্তাহে কারও অবস্থার উন্নতিও হতে পারে আবার কারও অবস্থার খুব দ্রুত অবনতি হতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানকে ডিক্সন বলেন, ‘করোনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই কোনও কোনও রোগীকে লক্ষ করলে দেখতে পাবেন তাকে ভালো বা সুস্থ দেখাচ্ছে। আমরা পরামর্শ দেবো, এসব রোগীকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখার জন্য। তাদের যদি শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে তাদের হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহে রোগীর অবস্থা ভালোও হতে পারে আবার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনেক বেশি খারাপও হয়ে যেতে পারে। খুব দ্রুতই অবস্থার অবনতি হয়, যেমনটা আমরা বরিস জনসনের (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী) ক্ষেত্রে দেখেছি।’
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার কলিগনন ট্রাম্পের বিষয়ে বলেন, ‘তিনি যদি ঠিকমতো হাঁটতে ও শ্বাস নিতে পারেন, তবে চাইলে বাড়িতে থাকতে পারেন তিনি। তবে পাঁচ থেকে সাত দিন পর সাধারণত অবস্থার অবনতি হয়ে থাকে। সুতরাং তিনি কীভাবে শ্বাস নিচ্ছেন এবং তাকে কেমন দেখাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। আমার পরামর্শ থাকবে, এখন তার হার্ট ও ফুসফুসের অবস্থার দিকে যেনও খেয়াল রাখা হয়। আর তা দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি বাড়িতে থাকবেন নাকি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন।’
তবে আশার কথাও শুনিয়েছেন কলিগনন। তিনি জানান, যত দিন যাচ্ছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে তাদের জানাশোনা বাড়ছে। আর তাতে মহামারির প্রথমদিকের সময়ের তুলনায় কিছুটা হলেও এখন মৃত্যুহার কমছে।
তিনি বলেন, ‘ভাইরাস সম্পর্কে আমরা আগের চেয়ে বেশি কিছু জানতে পেরেছি। আর সে কারণে মানুষকে আগের তুলনায় ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ