বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার আজারবাইজানের

১ অক্টোবর, আল জাজিরা, ইয়েনি সাফাক : আজারবাইজানের ভূখ- থেকে আর্মেনীয় বাহিনী প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে বাকু। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে নিজ দেশের এমন অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

ইলহাম আলিয়েভ বলেন, আমাদের একটাই শর্ত। আর তা হচ্ছে আর্মেনীয় বাহিনীকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে আমাদের ভূখ- ছাড়তে হবে। আর্মেনিয়া সরকার এই শর্ত মেনে নিলে সংঘাত ও রক্তপাতের অবসান ঘটবে। এতে করে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

এর আগে বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে চলমান সংঘাত নিরসনে আলোচনার জন্য রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। রবিবার শুরু হওয়া এই সংঘাত বৃহস্পতিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশগুলোর একটি সামরিক জোটের সদস্য রাশিয়া। যে জোটে আর্মেনিয়া রয়েছে এবং দেশটিতে একটি রুশ সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। অবশ্য আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া, উভয় দেশের কাছেই অস্ত্র সরবরাহ করে মস্কো। আর মুসলিম দেশ আজারবাইজানকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।

এদিকে যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে রাশিয়া ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা সব পক্ষকে বিশেষ করে মিত্র দেশ তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যুদ্ধবিরতি ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সম্ভাব্য সবকিছু করার জন্য। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পশিনিয়ান বুধবার বলেছেন, রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজানের সঙ্গে আলোচনা যথার্থ হবে না। পশিনিয়ান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, ‘তুমুল লড়াইয়ের এই সময়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও রাশিয়ার মধ্যে সম্মেলনের কথা বলা একেবারে অযথার্থ। আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি প্রয়োজন।’

আজারবাইজানি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও রাশিয়ার মধ্যস্থতার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাশিয়ান টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন কারাবাখ তাদের ভূখ-। তাহলে আমরা কোন ধরনের সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবো?

কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখ- হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত।নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে জানা গেছে। নতুন করে সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

পাশে তুরস্ক পাকিস্তান আফগানিস্তান: আজারবাইজানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তিন দেশই মনে করে আজারবাইজানের ভূখ-ে আর্মেনীয় দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে। এমন অবস্থানের জন্য বুধবার দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো সমর্থন দেওয়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম । গত বুধবার দেওয়া ভাষণে ইব্রাহিম আলিয়েভে বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। তবে আমাদের সামরিক বাহিনীর বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

এর আগে আজারবাইজানের ভূখ-ে আর্মেনীয় দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান জানান এরদোয়ান। একইসঙ্গে সর্বশক্তি নিয়ে আজারবাইজানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। অন্যদিকে বিদ্যমান সংঘাত থেকে তুরস্ককে দূরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আর্মেনিয়া। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। আঙ্কারার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ-তার প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এরদোগান বলেন, আর্মেনিয়া কর্তৃক কারাবাখ দখলের মাধ্যমে এ অঞ্চলে যে সংকট শুরু হয়েছিল অবশ্যই তার অবসান ঘটাতে হবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আর্মেনিয়াকে অবশ্যই অবিলম্বে আজারবাইজানের ভূখ- ছাড়তে হবে। এর মাধ্যমেই এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। টুইটারে এরদোগান লিখেছেন, দখল ও নির্মমতার বিরুদ্ধে বিশ্বকে আজারবাইজানের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এ সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখ- হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে জানা গেছে। নতুন করে সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ