মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কবিতা

সিরাজ বিলাপ

সোলায়মান আহসান

 

আজ বড়ো মনে পড়ছে তোমার কথা

দেশের কথা মানুষের কথা ভেবে

জানি না আমরা পলাশী দেখবো নাকি

তা-রি গুঞ্জন তা-রি পাঁয়তারা এবে।

 

সন্ধির নামে দুরভিসন্ধি এসে

মানুষ যাদের বানায়নি শাসক রানী

তারাই মানুষ-ভাগ্যবিধাতা সেজে

শোনা যায় আজ মানুষের কাতরানি।

 

অসহায় মানুষ, অষ্টপ্রহর ভয়ে

ঘরের  ভেতর লুকায় নিজকে বাঁচাতে

কিন্তু এভাবে যায় না বাঁচা, ক্ষয়ে

গুমরে মরে বন্দিদশায় খাঁচাতে।

 

চারদিকে আজ দেখি বড়ো চোটপাট

চিনতে পারি না এসব কি উৎপাত

জগৎ শেঠ উঁমিচাদের ভাঁট

মীর জাফর রয়েছে তাদের সথে

 

সিরাজ। সিরাজ। আমরা কি আরবার

আরেক পলাশী দেখতে চলেছি হায়

দিন গুনে যাই এক এক করে আর

পরাজয়ের জিঞ্জির পড়ে পায়?

 

যদি না চাও পলাশী পরাভব

স্বাধীনতাহারা ফিলিস্তিনীর মতো

এখনই সময় দাঁড়াও সটান সব

ভুলে যাও যতো ভ্রান্ত মতামত।

 

সিরাজ! সিরাজ! তুমি আমাদের চোখ

তোমার জীবন ইতিহাস হতে শিক্ষা

আমরা নেবো না মীর জাফরের বুক

আমরা চাই না কারু করুণা ভিক্ষা।

 

সিরাজ! সিরাজ! বাঙলার জাগো সিরাজ

এবার দাঁড়াও পলাশীর প্রান্তরে

একতায় গড়ো সীমা প্রাচীর আজ-

মনোবল রাখো সাহস অন্তরে।

 

থাকবে তবেই পতাকা ও সম্মান

পারবে না যতো ঘষেটি বেগমেরা

পালাবে সদল হয়ে যাবে খান খান

চিনবে বিশ্বাবাঙালী কিসে সেরা।

 

বাকি সব অচ্ছুৎ

জাফর পাঠান

 

যাচ্ছে ডুবে বলো- অবলীলায় অবেলায় 

জানি সবি, কোন্ কুচক্রী  খেলছে  হেলায়।

 

গোমড়া মুখো আকাশ থাকে মুখ লুকিয়ে

 মেঘের অস্থিরতা- শানতি শঙ্খ ফুিঁকয়ে।

শত শার্দুল পা- যাচ্ছে শবদেহ মাড়িয়ে

 দেখেও  দেখছে না  কেউ- একটু দাঁড়িয়ে।

অবেলাতে  বেলা- চলে কাপুরুষের  খেলা

অনুদ্বলে অঢেল  দেহের- বসেছে  মেলা।

 

কালো কাপড়ে আবৃত- আসে অবৈধ যম

বলা  নেই কয়া  নেই- নিশিতে  নেয় দম।

মাটি খায় রক্ত গোস্ত, বায়ু খায় নিঃশ্বাস

 দিব্যি আয়েশে যম, নাই সত্তায় বিশ্বাস।

এমন কার ক্ষমতা- রাখে মৃত্যুকে ধরে

প্রায়শ্চিত্বকে এড়িয়ে, মরার আগে মরে!

 

তবু রক্তনেশায়- বুদ, কথায় অদ্ভুত

এক বনে এক বাঘ, বাকি সব অচ্ছুত।

 

 

সিজদা

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

 

নিজেকে করো খোদার  সেজদায় বিলীন, 

দিয়েছে আজান মসজিদ মুয়াজ্জিন।

 

খোদার রাহে আরাম রাতের  শেষে দাঁড়াও নামাযে

 শেষ আসমানে স্বয়ং খোদা এসে বলেন হাত  পেতে

 

কি চাইবে বান্দাহ তুমি চাও মন খুলে

আমি আছি তোমার হয়ে যাবো না তো ভুলে।

 

আমার তরে বাড়াও যদি এমনি মোনাযাত

আমি  তোমার আপন হয়ে বাড়িয়ে দিলাম হাত

 

সবই  দেবো যা চাইবে আমায় করো সিজদাহ,

আমি হবো বন্ধু তোমার মনে  রেখো সর্বদা।

 

 

নড়বড় পাঁজরের সাঁকো

মোজাম্মেল সুমন

 

কেঁদেছিলাম জন্মদিনে

হেসেছিলো পরিবার ও প্রতিবেশী সকল,

আমার হাসি আর আসে না

জীবনমুখী সুখগুলো আজ দুঃসময়ের দখল!

 

বেদনার নীল শিশির জমছে

বোবাকষ্টের অশ্রু পড়ছে দুটি নয়ন থেকে,

আলোয় বড্ড ভয়ডর লাগে

রঙিন স্বপ্নগুলো অন্ধকারে গেছে ঢেকে!

 

যতোবারই অশ্রু মুছি

ততোই অশ্রু ঝরে আমার দুটি নয়ন বেয়ে,

খুব ফ্যাকাসে লাগে জীবন

এই নিজেকে নিজে দেখি যখন একটু চেয়ে!

 

আমার বুকের পাঁজরগুলো

ভাঙা নড়বড় সাঁকোর মতো করে শুধু কাঁপছে,

চারিদিকে ঝাপসা দেখি

কঠিন সময় যেনো আমার বিষন্নতা মাপছে!

 

ভালোবেসেও অপ্রাপ্তির রূপ

এই জীবনকে তিলেতিলে শেষও করে দিচ্ছে,

বেকারত্ব ও দারিদ্র্য

অসহায়ের মতো কারাবন্দি করে নিচ্ছে!

 

এখন আমার নিশ্বাসগুলো

কেমন যেনো সর্বদা দম আটকে আটকে ধরছে,

যদিওবা থাকছি বেঁচে

সত্যি বলতে বেঁচে থাকার স্বাদ পুরোটাই মরছে!

 

ফিরছি না আর

আবু বকর ছিদ্দীক

 

সিন্ধুর উত্তাল কল্লোলে হারিয়েছে দিক

নিভু-নিভু রোশনাই তিমির গ্রাস

এখানে গোলাপের ঘ্রাণ  নেই

লেবুবাগে নিশাচর ঝিঁিঝঁ ডাকে না

 

মুমিনের প্রস্থান জান্নাতের নির্ঝর কাউসারে

এ পথ দুর্গম,সঙ্কটাপন্ন,কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত  দেহ

মুমিনের চাঁদতো আকাশের নীলিমায়

বসে থাকা কি তার শোভা পায়!

 

জীবনসমুদ্রে মায়ার প্রাকার

প্রস্থান  যেন বিষাদসিন্ধু! 

তবু শিউলিমালা,সুর্যমুখী,পুষ্প কমল;

তোর কাননে কি  ফেরা যায়!

 

স্ফটিক স্বপ্ন

রফিকুল ইসলাম

 

রোজ সন্ধ্যা নামে নিয়ম মাফিক-

কুয়াশা-চাদর ঢাকে নির্বাসিত রাতের বসতি, 

কাঁটাঝোপে নিভে আর জ্বলে বেগুনি রঙের 

জোনাকি দল। 

নক্ষত্রহীন আকাশের সিঁড়ি বেয়ে-

হামাগুড়ি দিয়ে উঠে  চাঁদ।

 

নৈঃশব্দ্যেরা জেগে থাকে রাতের প্রহরীর ঘুমে 

পাখিদের ঘুমে ডালে ডালে চুয়ে পড়ে  শরৎ 

শিশিরের ফোঁটা 

আর মুক্তা ছড়ায় বুনো ঘাসের গালিচায়। 

 

রাতের নরম সফেদ  আলোয় নীরব গাছেরা 

চুপ করে বসে থাকে সন্ন্যাসী ধ্যানে,

নিজের ছায়া ফেলে এসেছে শুকনো পাতার 

খসে পড়া হেমন্ত বাগানে।

 

অনন্ত সময় ভরে আনে আমার অনুভূতির 

পেয়ালা

ঘুঘুরঙ ধূসর আগুনতি শব্দহীন রাত 

স্ফটিকের মতো জ্বলজ্বল করে স্বপ্ন ,

মৃদু কম্পনে কাঁপে  পেয়ালা, 

সেখানে সুখ-দুঃখের অবশিষ্টাংশ এখনো আছে।

 

শরৎ প্রেম

সাজিয়া ইসলাম দিবা 

 

তুমি এলে শরৎের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে,

এলে অপরাহ্নে বহু প্রতিক্ষার পরে,

 

বৃষ্টিতে ভিজে হলো এক পলকে হলো দেখা,

কেটে গেলো যেন নিমিষেই সমস্ত  অপেক্ষা, 

যেন বৃষ্টির স্পর্শে রেইন লিলি ফুটেছে, 

আমার ঠোঁটের কোলে ইদের চাঁদ হাসছে,

মুখোমুখি দুজনে বৃষ্টিস্নাত অঙ্গনে,

 একটা শব্দ বললে তুমি আনমনে,

যেন শিউলি ফুলের মিষ্টি সুগন্ধে,  

ভরে উঠলো মন অপার  আনন্দে,

 

শরৎের শিউলী ফুলের মিষ্টি সুবাসে মিশে,

এভাবেই থেকো তুমি সারাজীবন  ভালোবেসে...।

 

প্রকৃতির কারুকার্য

হোসেন মোতালেব

 

সুনীল আকাশে হঠাৎ কালো মেঘের ঘনঘটা

অকস্মাৎ টিনের চালে ঝমাঝম বৃষ্টির শব্দ, 

নৌকার আগায় তোড়জোর বৃষ্টি,

পেছনটা শুকনো

প্রকৃতির বৈচিত্রেই এমনটি ঘটে ।

 

ঝিলে লাল সাদা শাপলার সমারোহ

মৃদু বাতাসে শাপলার পাতাগুলো দোল খায়

পানকৌড়ির ডুবসাঁতার আর হাঁসের কোলাহল,

বেতসবনে কখনো কখনো ডাহুকের ডাক

পাল তোলা নৌকায় মাঝি মাল্লার 

মায়াবী কণ্ঠের গানে

ব্যাকুল ব্যস্ত হৃদয়ে আকুলতা ফিরে আসে ।

 

পাড়ায় পাড়ায় তালের পিঠার মৌ মৌ গন্ধ

মুখ ভর্তি পান নিয়ে কৃষাণীর নকশী কাঁথার বুনন

জেলেরা জাল ফেলে ধরে রকমারি মাছ ।

 

শন শন বায়ুর শব্দে ঊর্মিমালা বয়ে বেড়ায়

শান্ত নদী-নালা, খালবিলে শরতের আবেশ,   

এ যেন প্রকৃতির এক নতুন কারুকার্য ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ