ঢাকা, মঙ্গলবার 20 October 2020, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

পিছিয়ে গেলো সিনোভ্যাক'র ভ্যাকসিন ট্রায়াল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে শিগগিরই শুরু হবে বলে কথা থাকলেও এ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিনোভ্যাক তাদের ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ কথা জানিয়ে ট্রায়ালে বাংলাদেশ সরকারকে ‘কো ফান্ডিং’ বা অর্থ সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছে। 

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, একটু সময় লাগলেও সিনোভ্যাকের ট্রায়াল বাংলাদেশে হবে। আর আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেই আশা করছেন তারা।

গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এ ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয়। আইসিডিডিআর’বির মাধ্যমে তারা এ দেশে ট্রায়ালের জন্য আবেদন করে। এরপর সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের অনুমতি পেতে সময় লাগে প্রায় একমাস। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও একাধিকবার দেশে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের কথা বলেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠিতে সিনোভ্যাক আর্থিক সহযোগিতার কথা জানায় আইসিডিডিআরবিকে। প্রতিষ্ঠানটি সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সিনোভ্যাকের সব শর্তের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে। যদিও শুরুতে সেটা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইসিডিডিআরবি) প্রটোকল অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হওয়ার কথা ছিল।

চিঠিতে সিনোভ্যাক জানিয়েছে, বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য ফান্ডিং ধরা ছিল। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে এবং অন্যান্য দেশে ট্রায়ালের জন্য ‘ফান্ড অ্যালোকেট’ করা হয়ে গেছে। তাই তারা আর্থিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান জানান, সিনোভ্যাককে তারা ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছেন এবং কোম্পানিটি অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। আইসিডিডিআরবি’র সঙ্গে মিলে কাজ করবে তারা। আইসিডিডিআরবি’র সঙ্গে ট্রায়াল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা কথা বলেছে। ট্রায়ালের সময় নিশ্চিত করে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখিত চিঠি দেওয়ার কথা সিনোভ্যাকের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, সামনে হয়তো বাংলাদেশে আরও ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে, কিন্তু চীনের এই ভ্যাকসিনের সুবিধা ছিল, তারা এখানে ট্রায়াল করলে বাংলাদেশের স্থানীয় কোম্পানিকে তাদের ভ্যাকসিনের টেকনোলজি দেবে। যাতে বাংলাদেশ সে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে, যেন দামটা মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে পারে।

একইসঙ্গে এক লাখ ১০ হাজার ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়ার শর্ত ছিল। যেটা অন্যান্য ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে হয়তো সম্ভব হবে না। কারণ সিনোভ্যাকের বেলাতে আইসিডিডিআরবি নিজস্ব উদ্যোগে যোগাযোগ করেছে-তাই সিনোভ্যাকের ট্রায়াল যদি বাংলাদেশে না হয়, তাহলে সেটা ‘লস’ হবে।

অন্যান্য যে কোনও ভ্যাকসিন কোম্পানিকে ডিক্টেড করা যাবে না, কিন্তু যেহেতু চীনের এই কোম্পানি তুলনামূলকভাবে নতুন, তাই আইসিডিডিআরবি সে সুযোগটা পেয়েছিল।

স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, সিনোভ্যাক বাংলাদেশ থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাচ্ছে। তবে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত দেইনি। তবে সিনোভ্যাক কিন্তু বলেছে, বাংলাদেশ কো ফান্ডিং না করলেও তারা ট্রায়াল করবে, সেক্ষেত্রে তারা সময় নেবে।

আগামী মাসে তাদের একটি প্রতিনিধি দল আসবে, তাদের সার্ভের পর হয়তো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সিনোভ্যাক। আর সিনোভ্যাকের সব শর্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে ইতোমধ্যে জানিয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, আগামী সপ্তাহের কেবিনেট মিটিংয়ে এসব কিছুর সিদ্ধান্ত হবে।

যে সাতটি প্রতিষ্ঠানে টিকার পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-১, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ইউনিট-২ এবং ঢাকা মহানগর হাসপাতাল।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ