ঢাকা, মঙ্গলবার 20 October 2020, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

আইসিডিডিআর-বি’র ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. তাহমিদ আহমেদ আইসিডিডিআর-বি’র নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।এর ফলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক এই স্বাস্থ্য গবেষণা ও সেবা সংস্থাটির ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম একজন বাংলাদেশি  নির্বাহী পরিচালক পেল।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানে হয়, আইসিডিডিআর,বি’র আন্তর্জাতিক বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ড. তাহমিদকে পরবর্তী  নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বুধবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর) আইসিডিডিআরবি'র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 

ড. আহমেদ ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী পরিচালক পদে প্রফেসর ক্লেমেন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০১৩ সাল থেকে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ড. তাহমিদ আহমেদ ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেখানকার নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর নিযুক্ত হন।এরপর স্বাস্থ্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।গবেষণা এবং শিশুর অপুষ্টি রোধ ও এর সহজ চিকিৎসা ব্যবস্থার সন্ধানে ড. তাহমিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তিনি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বুলেটরি পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলোজি অ্যান্ড নিউট্রিশন এবং ভারতীয় পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংস্থার পদক পেয়েছেন। ২০১৮ সালে পান ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ডেভেলপমেন্ট ট্রান্সফর্মারস পুরস্কার।

এদিকে, নিয়োগ পাওয়ার পর  ড. তাহমিদ আহমেদ কোভিড-১৯ বিষয়ে গবেষণাকে  সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার চলমান মহামারি রোধে এবং জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের অপরিসীম গুরুত্বকে  বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়।’ 

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ড. তাহমিদ বলেন, আইসিডিডিআর,বি’র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের বিষয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব নিয়ে আমরা কাজ করব।

ড. তাহমিদ আহমেদের পুষ্টি বিষয়ক গবেষণা এবং এর বাস্তবায়ন শিশুদের অপুষ্টি, যক্ষ্মা ও ডায়রিয়া চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। একইসঙ্গে তিনি শিশুদের তীব্র অপুষ্টি ও ডায়রিয়া চিকিৎসায় একটি প্রোটোকল তৈরি করেছেন, যার ফলে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও তিনি স্থানীয় উপাদান দিয়ে সহজে ব্যবহারযোগ্য (রেডি-টু-ইউজ) এক ধরনের খাদ্য তৈরি করেছেন, যা তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। অপুষ্টি, আন্ত্রিক রোগ ও মানসিক বিকাশের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি দেশে পরিচালিত ম্যালনিউট্রিশন-এন্টেরিক ডিজিজ (ম্যাল-এড) প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের প্রধান গবেষক ড. তাহমিদ।

আন্তর্জাতিক জার্নাল ও বইয়ে ড. তাহমিদের ৩৬০টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের শিশু পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের সংগঠন পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের (ক্যাপগান) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ