বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সৌদি আরবে সপ্তাহে ২০টি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এখন থেকে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে ২০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ১০ টি ফ্লাইট সৌদি এয়ারলাইন্স, ১০ টি বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে দ্রুতই অধিক সংখ্যক প্রবাসী সৌদি ফিরতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এই ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানকে প্রাধান্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মালয়েশিয়ার ঢাকাস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। ব্রিফিংয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান এবং ইরাকের রাষ্টদূত ও প্রতিনিধি এবং মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ গত মঙ্গলবার মারা যাওয়ার কারণে অনিবার্য পরিস্থিতিতে কুয়েতের আমির ব্রিফিংয়ে থাকতে পারেননি।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব ছাড়া অন্য কোনো দেশে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সমস্যা নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরসঙ্গে এখন সপ্তাহে ১৭টি ফ্লাইট চলাচল করে। তারা এটাকে আরও বাড়াতে চান বলে জানান তিনি। যারা সৌদি আরব থেকে দেশে চলে এসেছিলেন কিন্তু ভিসার মেয়াদ আছে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে ফেরত নেওয়া হবে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছেন দুই মন্ত্রী। আর যারা গত মার্চ মাসে ভিসা পেয়েছিলেন কিন্তু মেয়াদ শেষ তাদের ভিসা রি-ইস্যু করতে হবে বলেও জানান তারা। তবে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ এবং কফিল (চাকরিদাতা) আর নিয়োগ দেবেন না তাদের বিষয়ে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এমন শ্রমিকদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫৩ জন উল্লেখ করে তাদেরকে ভিন্ন কফিল বা বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা দেশেই কোনো কর্মকংস্থানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন এ কে মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, যারা কফিলের অনুমতি না পাওয়ায় সৌদিতে যেতে পারছেন না, তাদের বিকল্প চাকুরী খোঁজা দরকার। এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে করোনার কারণে ১ লাখ ৫৭ হাজার প্রবাসী ফিরে এসেছেন।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, যে সব প্রবাসীরা সৌদি আরবে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর আগে, একইদিনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সৌদি আরব, কাতার ও ইউএইসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের ভিসা, আকামা জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে বসেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে সৌদি প্রবাসী কর্মীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তাদের পুনরায় যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর শত শত সৌদি প্রবাসী কর্মীর ভিসা, আকামার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি ও সৌদি যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট পাওয়ার আশায় রাজপথে আন্দোলন করছেন হাজার হাজার সৌদি প্রবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ