বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ক্রসফায়ারকে সরকার ক্ষমতায় থাকার পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে -ভিপি নুর

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে সিলেটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত ঘৃণ্য গণধর্ষণ ও খাগড়াছড়িতে তরুণী ধর্ষণসহ সকাল ধর্ষণের বিচার ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চতকরণের দাবিতে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদ ও গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্রসফায়ারকে সরকার ক্ষমতায় থাকার একটি পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা বলেছেন যারা ধর্ষণের সাথে জড়িত তাদের আমরা ক্রসফায়ার দিতে চাই। আমি বলবো, আপনাদের মতলব ভালো না। ক্রসফায়ারের নাম করে আপনারা এ পর্যন্ত তিন হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই একদম নিরাপরাধ নিরীহ মানুষ। মূলত এই ক্রসফায়ারকে ক্ষমতায় থাকার একটি পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত পদযাত্রা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে এসব কথা বলেন। এরপর ভিপি নুরের নেতৃত্বে প্রতিবাদী পদযাত্রা নিয়ে মৎসভবন, শাহবাগ, টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় পদযাত্রায় থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বিভিন্ন ধরনের সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়।
নুর বলেন, একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, সর্বশেষ সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনা ঘটলো। কিন্তু ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না। আমরা খুব লজ্জিত হই যখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ধর্ষণের ঘটনা কোন দেশে না ঘটে। এসব কথা বলে বাংলাদেশে ধর্ষণের বৈধতা দিতে চায়।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী নেই মন্তব্য করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আরও বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বলেছে, স্বাধীনতাবিরোধী যারা তারা ছাড়া অন্যকেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয় তবে তাদের বিচারের দাবিতে ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে। আমার প্রশ্ন আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী আছে? এসময় উপস্থিত সকলে উচ্চস্বরে বলে,‘নাই’। তখন নুর বলেন, তাহলে স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে যারা ধর্ষণকে বৈধতা দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। না হলে আমাদের মা-বোনেরা এদেশে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পাবে না।
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কিছুদিন আগে আইন ও শালিস কেন্দ্র বলেছে গত আট মাসে ৮৮৯ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ১১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই যে ১১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো কয়টি ঘটনার বিচার হয়েছে? তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিচারের দীর্ঘ সূত্রতা। যেখানে আইনে বলা আছে ৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে। কিন্তু এই ধর্ষণের বিচার হতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
নুর বলেন, যেই বিচার ব্যবস্থা একটি ঘটনার বিচার করতে দীর্ঘ সময় নেয়, সেই বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই। যে বিচার ব্যবস্থা মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারে না, সেই বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা ঘৃনা প্রকাশ করি। যেই বিচার বিভাগ একজন প্রধান বিচারপতিকে রক্ষা করতে পারেনা তাদের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। তিনি বলেন, টানা ১৪ বছর এই সরকার ক্ষমতায় আছে জনগণ পাচ্ছে খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন। জনগণ সুফল পায়নি সুফল পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লুটেরারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ