মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

যুবলীগ-ছাত্রলীগ আর সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ক্ষমতাসীন আ’লীগ টিকে আছে -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : এই সরকারের সাথে জনগণ নেই মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দুই ঠ্যাংক বা পায়ের ওপর নির্ভর করে আছে। একটা হচ্ছে যুব লীগ-ছাত্র লীগের সশ্বস্ত্র সন্ত্রাসী, আরেকটা হচ্ছে তাদের সাজানো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বুধবার দুপুরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় দেশের আদালতকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কসাইখানায় পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে তারানা হালিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা খারিজের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে এই মামলা ওরা কখনোই টিকতে দেবে না। কারণ কোর্ট তাদের, আদালত তাদের। এই আদালতগুলোকে তারা (সরকার) কসাইখানায় পরিণত করেছেন বিরোধী দলকে দমন করার জন্য, শাস্তি দেয়ার জন্য।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা কুৎসা রটানোর জন্য নির্মিত নাটক ‘ইনডেমনিটি’ গণমাধ্যমে প্রচারের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। জাসাসের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা  আমিনুল ইসলাম, জাসাসের আহসান উল্লাহ চৌধুরী, লিয়াকত আলী, শাহরিন ইসলাম শায়লা, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, আজিজমূল তৌহিদ, মীর সানাউল হক, জাহিদুল আলম হিটো, জাকির হোসেন রোকন, মিজানুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, এই সরকার ডিক্টেটর নয়, নাতসীবাদের পর্যায় চলে গেছে। ডিক্টরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে পতন করা যায় কিন্তু নাতসীবাদকে পতন করতে হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো একটা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে-এরকম একটি বিষয়ের প্রয়োজন হয়। ফ্যাসিবাদ ও নাতসীবাদ-এদেরকে ঠেকাতে গিয়ে কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিলো। মামলাটি দায়েরের জন্য ছড়াকার আবু সালেহকে ‘সাংস্কৃতিক বীর’ বলে অভিহিত করেন রিজভী।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউরু রহমানকে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করে ‘ইনডেমনিটি’ নাটক নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ছড়াকার আবু সালেহ‘র দায়ের করা মামলা গত মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ সহকারি জজ মো. আশিকুজ্জামান খারিজ করে দেন।
রিজভী বলেন, এই সরকারের সাথে জনগন নেই। দুই ঠ্যাংক বা পায়ের ওপর নির্ভর করে আছে তারা। একটা হচ্ছে যুব লীগ-ছাত্র লীগের সশ্বস্ত্র সন্ত্রাসী, আরেকটা হচ্ছে তাদের সাজানো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ওই পরজীবীদের যদি আমরা প্রতিহত করতে না পারি দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে না, স্বাধীনতা থাকবে না। এখন বলা হয় প্রয়াণ দিবস। আমরা ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি মৃত্যু দিবস। আমরা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কেউ মারা গেলে তাকে মরহুম বলে। এখন প্রয়াত বলা হয়।
তিনি বলেন, এটা খুব সুক্ষèভাবে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনগুলো বিস্তার লাভ করাচ্ছে। কার স্বার্থে করছে তা নিশ্চয় জানেন? কোন সংস্কৃতিকে অঙ্গীভূত করার জন্য এই সরকার এবং তাদের অনুগত সংস্কৃতিজীবীরা কলাম লেখকরা এই কাজটি করছে সেটা আপনারা স্পষ্টভাবে জানতে চান। ওরা আমাদের দীর্ঘদিনেরে যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এটাকে ধবংস করে, অন্য কোনো দেশের  সাংস্কৃতিক অনুসঙ্গ বানাতে চান, এর অঙ্গীভুত বানাতে চান। সেই কারণে আজকে তারা এই কাজগুলো করছে। রিজভী বলেন, আমি সরকার ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বলতে চাই, আপনারা তো সরকারের আছে নির্ভয়ে আপনারা এটা করতে পারছেন। আর বিরোধী দল কথা বললে এটা আপনারাও জানেন যে, এদেরকে মিথ্যা মামলায় হয় কারাগার না হয় গুম হতে হয়। এই সাহসে আপনারা করছেন।
রিজভী বলেন, সরকারের পেছনে জনগন নেই। আমাদের পেছনে জনগন আছে। আমাদের পেছনে জনগন আছে বলেই আজকে এতো অত্যাচার, এতো উৎপীড়নের পরেও আমরা আমাদের কন্ঠ মিশ্রিত আওয়াজ তুলি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সেই আওয়াজ সারা দেশে উচ্চকিত হয়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া আমার নেতা জিয়া, তার নামেই তো আন্দোলিত টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া- এই আওয়াজ আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। কলঙ্ক লেপন করবেন জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে, আওয়াজ বন্ধ হবে না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, পেঁয়াজ ধরা যাবে না, লবন ধরা যাবে না, তেল, চাল, ডাল প্রত্যেকটা জিনিসের দাম এতো বেড়েছে যে, মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এখন এখান থেকে নজর সরাতে হলে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কিছু খিস্তি খৈল করতে হয়। জিয়াউর রহমানের কোনো অপরাধ হতো না যদি মাত্র সাড়ে তিন বছরের পরিচর্চার মধ্য দিয়ে বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দল তিনি প্রতিষ্ঠা না করে যেতেন। তাহলে এই জিয়াউর রহমানকে আওয়ামী লীগ বীরউত্তম বলতো, এই জিয়াউর রহমানে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষক বলতো, এই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা বলতো, এই তারেক রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষকের পুত্র বলতো। কিন্তু সেটা বলতে পারছে না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বি তো বিএনপি। বিএনপির বয়স ৪২ বছর, আওয়ামী লীগের বয়স ৭২ বছর। জনপ্রিয়তার সমান তালে পাল্লা দিয়ে ৪২ বছরের রাজনৈতিক দল তাদেরকে টেক্কা দিচ্ছে জনপ্রিয়তায়।
যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, হিমালয় পর্বতের সামনে দাঁড়িয়ে তার উচ্চতা তার বিশালত্বকে হিংসা করে যদি কেউ হিমালয় পর্বতকে গালি দেয় তাতে হিমালয় পর্বতের কিছুই যায় আসে না। সেক্সপিয়ারকে নিয়ে তার নাটকে নিয়ে যে কেউ সমালোচনা করতে পারেন তাতে সেক্সপিয়ার বা তার নাটকের কিছুই যায় আসেনা। আপনি মহিমা নিয়ে সেক্সপিয়ার বেঁচে থাকবেন, তার নাটক বেঁচে থাকবে। ঠিক তেমনভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তাকে ছোট করবার যত চেষ্টাই করেন, আপন মহিমায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মনের মধ্যে যে জায়গা করে নিয়েছেন সেই জায়গা থেকে সরানোর ক্ষমতা কারো নেই।
ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত সংস্কৃতি কর্মীদের হুশিয়ারি করে তিনি বলেন, নাটক যখন শুরু করেছেন, নাটক কিন্তু বাংলাদেশে সামনে অনেক হবে। আপনারা মিথ্যা ঘটনা নিয়ে নাটক বানিয়েছেন। সামনে সত্য ঘটনা নিয়ে নাটক হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ