মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ ও তারেক ৫ দিনের রিমান্ডে

তারেক ও মাহফুজ

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসের গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত সর্বশেষ আসামী মাহফুজুর রহমান মাসুমের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে শাহপরাণ থানা পুলিশ তাকে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এদিকে এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় একে একে সকল আসামী গ্রেফতার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিণীর ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্দ্রানীল ভট্টাচার্য আদালতে মাসুমের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবুল কাশেম ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথম দিনের মতো গতকালও আদালতে আসামী পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরআগে সোমবার সিলেট জেলা ডিবি ও কানাইঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে হরিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তবে আটক মামলার ২ নং আসামী তারেকুল ইসলাম তারেককে গতকাল আদালতে হাজির করেনি পুলিশ।
ঘটনার শুরু থেকেই সিলেটের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আস্থা রেখেছিলেন সিলেটের মানুষ। সেই আস্থার প্রতিফলন ও দিয়েছেন তারা। এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গৃহবধূ ধর্ষনের ঘটনায় একে একে সকল অভিযুক্তদের আটকের পর প্রশংসায় ভাসছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী । ঘটনার পর জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করতে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ ও র‌্যাব । পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে সিলেট জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি করে পুলিশ । ফলে ছাতক,কানাইঘাট,জৈন্তাপুর, হবিগঞ্জ, দিরাই সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আলোচিত ধর্ষন মামলায় অধিকাংশ আসামীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা। একই সাথে অভিযুক্তদের দ্রুত সময়ের মধ্েয আটক করতে মাঠে নামে র‌্যাব ৯। তারাও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের আটক করে প্রশংসিত হচ্ছেন।
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এজাহাভুক্ত আসামী তারেকুল ইসলাম তারেককে (২৮) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় গতকাল বুধবার বিকেলে মহানগরের শাহপরান থানা-পুলিশ তাকে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
রিমান্ড শুনানিকালে আসামীর পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেননি জানিয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষে স্বপ্রণোদিত হয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নিলেও আসামীপক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।
সর্বশেষ তারেককে রিমান্ডে নেয়ার মধ্য দিয়ে এই ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত ছয় আসামীর সকলকেই পাঁচদিন করে রিমান্ডে পেলো পুলিশ। এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুজনকেও ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার তারেকুল ইসলাম তারেককে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকালে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন যুবক জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামী করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
গত সোমবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে আসামী সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় এবং পরদিন মঙ্গলবার একই আদালতে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন আহমদ ও আইনুদ্দিনেরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ