সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

গত চার বছরে ফুটবলে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে ---নাবিল আহমেদ এমপি

 স্পোর্টস রিপোর্টার : এক যুগ ধরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে আছেন কাজী নাবিল আহমেদ এমপি। টানা দুই মেয়াদে ছিলেন জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান। তার সময়ে জাতীয় দলের সাফল্য যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। তবে নাবিলের চোখে গত চার বছরে ফুটবলে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বাফুফে নির্বাচনে আবারও সহসভাপতি পদে নির্বাচন করবেন আহমেদ এমপি । 

কাজী নাবিল  আহমেদ বলেন  তিন মেয়াদে তিন রকমের কাজ হয়েছে। সব মেয়াদে আমরা কাজ করে গেছি। প্রতিটি মেয়াদে আমাদের বেশ কিছু পজিটিভ-নেগেটিভ আছে। কোনো একটি মেয়াদকে আলাদা করে সফল বলার সুযোগ নেই। তবে বিগতে চার বছরে সবচেয়ে বেশি সফলতা আছে।

তিনি বলেন গত চার বছরে ফেডারেশনের কার্যক্রমগুলো মানুষের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- আমাদের লিগ এবং খেলাগুলো হয়েছে। এখানে আমাদের নতুন একটি পেশাদার দল এসে বেশ কিছু আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সে দলটি হলো বসুন্ধরা কিংস। আমাদের প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগগুলো নিয়মিত হয়েছে। তা ছাড়া আমাদের বয়সভিত্তিক ছেলে ও মেয়েদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সাফল্য আমরা পেয়েছি। সবচেয়ে বড় পাওনা হলো আমাদের জাতীয় দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সুযোগ করে দিতে পেরেছি। সেখানে নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে আবারও আমরা দেখতে পারছি অনেক পজিটিভ রেজাল্ট আসতে শুরু করেছে।

কাজী নাবিল  বলেন এই চার বছরে প্রথমেই হোঁচট খেয়েছিলাম ২০১৬ সালে ভুটানের কাছে পরাজয়ের পর ২০১৮ সালে নতুন করে পরিকল্পনা হাতে নিলাম। তখন থেকেই আমরা সাফল্য পাচ্ছি। গত দুই বছরের মধ্যে আমরা কাতারের যুব দলকে হারিয়েছি। সবাই দেখেছেন যে, আমরা এএফসি বাছাইপর্বেও ম্যাচে ভারতের সঙ্গে একটা জেতা ম্যাচ ড্র করেছি। আমরা কাতার ও ওমানের কাছে হারলেও লড়াই করেছি।

আমি মনে করি, অবশ্যই আমাদের ভালোমানের খেলোয়াড় আছে। সেই খেলোয়াড় আছে বলেই আমরা জিততে পারছি। গত ৮-১০ বছরে বিশেষ করে আমাদের মামুনুলসহ অনেক খেলোয়াড়কেই দেখেছি। নতুন স্ট্রাইকারদের মধ্যে দৃষ্টি কেড়েছে জীবন। এ ছাড়া আরও অনেক খেলোয়াড় আমাদের আছে, যারা ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। অবশ্যই সত্তর-আশির দশকের মতো যেরকম স্টার প্লেয়াররা তৈরি হয়েছিল, এখন সেই রকম খেলোয়াড় হয়নি। এ ব্যাপারে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে।

না হওয়ার কারণ আমরা যেভাবে আন্তর্জাতিক সাফল্য পেতে চেয়েছিলাম, সেভাবে আমরা পাইনি। যদিও ইতোমধ্যে সাফল্য পাওয়া শুরু করেছি। যখনই আমাদের জাতীয় খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে পারবে, তখনই তারা আমাদের দেশের মানুষের মন জয় করতে পারবে। তখন তাদের খেলা মানুষ বেশি করে দেখবে। তখনই স্টার প্লেয়ারের জন্ম হবে।

কাজী নাবিল  বলেন আমরা যদি নির্বাচনে জিতে আসতে পারি এবং আমি যদি আবারও ন্যাশনাল টিমের দায়িত্ব পাই, তাহলে এমনভাবে কাজ করব যাতে করে আমাদের র‌্যাঙ্কিংকে ১৮৭ থেকে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। সেটা করতে গেলে অবশ্যই অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। আমরা ধারাবাহিকভাবেই খেলার মধ্যে ছিলাম; করোনার কারণে সেখানে ছেদ পড়ে গেছে। সেটা শেষ হলে আমরা সেই পরিকল্পনামাফিক আবারও ম্যাচ খেলব। তখন র‌্যাঙ্কিং আরও ভালো অবস্থানে আসব বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

গত কয়েকবারই কিন্তু ছোটখাটো দুর্ভাগ্যের কারণে আমরা সাফে বঞ্চিত হয়েছি। সামনে সাফের খেলা। বর্তমানে আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি, আশা করি সাফে ভালো করতে পারব।

তিনি বলেন অবশ্যই সমালোচনা করার অধিকার আছে। কাজ করলেই সমালোচনা থাকবে। আমরা আমাদের কাজ করে যাব। যারা সমালোচনা করছেন আশা করি তারা আমাদের কাজের মধ্যে অনেক পজিটিভ জিনিস খুঁজে পাবেন। তারা আমাদের গঠনমূলক উপদেশ দিয়ে আরও সাহায্য করতে পারবেন। কাজী নাবিল  বলেন যে কোনো নির্বাচনই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এবারের নির্বাচনটা আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। যারা সহসভাপতি পদে নির্বাচন করছেন, তারা সবাই যোগ্য। তারা অনেকে ফুটবল ফেডারেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের যারা কাউন্সিলর আছেন, তারাই বিচার করবেন, কাকে নির্বাচিত করলে ফুটবলের জন্য ভালো হবে। সবার জন্যই আমার শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ