মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

আ’লীগ সরকার দুর্নীতি অনাচারসহ বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক একেএম ওয়াহেদুজ্জামান এপোলোকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি এবং সিলেট এমসি কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে ন্যাক্কারজনক নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

# পথ-ঘাট থেকে মেয়েদের তুলে নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সোনার ছেলেরা -মান্না
# দেশ ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে -রুহুল আমিন গাজী

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেভাবে দুর্নীতি-অনাচার ছড়িয়ে পড়েছে তাতে এই সরকারের লজ্জা ঢাকতে তাদেরকে কয়েকটি মাস্ক মুখে লাগানো দরকার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার শুধু কোভিডে না, আরো কয়েকটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেভাবে দুর্নীতি-অনাচার ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সরকারের লোকজন যারা রাজনৈতিক দল করেন তাদের উচিত দুর্নীতি বিরোধী আরেকটা ভাইরাস প্রতিরোধকারী মাস্ক পরা।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে এম ওহায়েদুজ্জামান এ্যাপেলোকে চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং এমসি কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় এই মানববন্ধনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহদুদুর রহমান্ মান্না, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্য জোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী,  সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শামীমুর রহমান শামীম, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, অতি সম্প্রতি নারী নির্যাতন যেভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সেই নারী নির্যাতনের যে ভাইরাস সেটা থেকে বাঁচার জন্যও এই সরকারের লোকজনের আরেকটা মাস্ক পরা উচিত। এই তিনটা মাস্ক পরলে তারা এই ভাইরাস থেকে কিছু অনুধাবিত হবেন আর লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য মুখটাও ঢেকে রাখতে পারবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের গাড়ির চালকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এদেশের দুর্নীতি-অনাচার আজ যে অবস্থায় চলে গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে, আমরা ডিজি হতে চাই না, ডিজির ড্রাইভার হতে চাই। এই বিশ্বের সবচেয়ে তিনজন ধনী ড্রাইভারের মধ্যে বাংলাদেশে একজন আছে।
জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ক্ষমতাসীনরা ‘ইনডেমনিটি’ যে নাটক তৈরি করেছে তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা এই মিথ্যা নাটক তৈরি করেছেন তাদেরকে শহীদ জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই, আপনারা তো কিছুই না, আপনাদের থেকে কত বড় বড় নেতারা, আপনাদের কত বড় বড় ওস্তাদরা বছরের পর বছর শহীদ জিয়া সম্পর্কে, বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে, তারেক রহমান সম্পর্কে কত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কি লাভ হয়েছে তাতে? জনগণ কী শহীদ জিয়াকে ভুলে গেছে, জনগণের যে শ্রদ্ধা তার প্রতি সেটাকে কী কমাতে পেরেছেন আপনারা, না বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা কেেম্ছ। যদি কমতো তাহলে আপনারা উঠতে বসতে, চলতে ফিরতে, শয়নে স্বপনে তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতেন না।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতায় বলেছেন, উনি জনগণের আরো সেবা করতে চান। আমি বলতে চাই, ১২ বছর সেবা করেছেন। পথঘাট থেকে মেয়ে মানুষ তুলে নিয়ে যায় আপনার সোনার ছেলেরা। গত সোমবারও চট্টগ্রামে দুইটা ধর্ষণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে হয়েছে। আপনি আমাদেরকে মাফ করে দেন। আর আওয়ামী লীগের সেবা চাই না। আর আপনার সেবা চাই না। আপনি জনগণের রায় নেন, ভোট দেন, গদি থেকে নেমে চলে যান। জনগণ নিজেদের মুক্তির পথ খুঁজে নেবে। আসুন এই আওয়াজ তুলি, এই সরকার আর না। যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবে তার  স্বপক্ষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, আন্দোলন গড়ে তুলি।
মান্না আরও বলেন, এদের (ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন) হাতে দেশের মা-বোন নিরাপদ নয়। ফেইসবুকের মধ্যে খালি পোস্টারে লেখায় সয়লাব হয়ে গেছে। স্ত্রীকে নিয়ে, প্রেমিকাকে নিয়ে কোথাও যদি বেড়াতে যান, আগে খোঁজ নেবেন ওইখানে ছাত্র লীগ আছে কিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সেখানে যান মানুষের জীবন নিরাপদ নয়। এই করোনায় কত মানুষ বেকার হয়ে গেছে, মানুষের কাজ চলে গেছে। তাদের পেটে ক্ষুধার আগুন। আর আপনারা সবাই এই ফ্লাইওভারের পিলার দেখাচ্ছেন, পদ্মসেতুর স্পেন দেখাচ্ছেন। ওটা দিয়ে খিদে যায়? উন্নয়ন মানে জীবন সুখকর হবে, জীবন সুন্দর হবে, জীবন নিরাপদ হবে। আমি আমার ইচ্ছামতো মনের মত প্রকাশ করতে পারবো, লিখতে পারবো, বলতে পারবো, কথা বলতে পারবো-বাংলাদেশের এর কোনটাই নাই। মান্না বলেন, কারণ যারা ক্ষমতায় আছে তারা জনগনের কথায় আসেনি, ২৯ ডিসেম্বর ৩০ তারিখের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে চলে গেছে। ডাকাতরা এখন ক্ষমতায়। এই ডাকাতদের সরাতে হবে। সেজন্য আজ সমস্ত মানুষের কাছে বলি, কোনো মানুষ মানুষের স্ত্রী, মানুষের বোন মানুষের মা যদি তার বয়স কম হয় তিনি নিরাপদ নন। কোনো পঙ্গু মানুষ কাঁদলেও যে সরকার আছে তারা তাকায় না, তাদের জন্য রাষ্ট্র-সরকার এগিয়ে আসে না।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশ মনুষ্য বসবাসের  অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কারো জান-মাল ইজ্জতের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। আজ ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা মা-বোনের ইজ্জত কেড়ে নিচ্ছে। সরকার বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে মানুষকে গুম, খুন করছে। আজকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা (সরকার) দখল করে নিয়েছে এবং সেটা দখল করেছে শুধু বন্দুক-পিস্তলের জোরে টানা ক্ষমতায় থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। আজকে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রবিহীন একটা ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরুতে হবে। এদেরকে সরাতে হবে, জনগণকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই মুক্তি দিতে হলে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হলে বিএনপিকে আজকে দেশের সমস্ত মানুষকে, সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একদিকে দলীয় বিবেচনায় অযোগ্যদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে মেধাবী ও বরেণ্য শিক্ষকদের ভিন্নমত প্রকাশের কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোরশেদ হাসান খানের চাকরিচ্যুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করা ছাত্র। অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক মার্কস পেয়ে পাস করেছেন। তিনি জাতির হীরের টুকরো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হীরে ফেলে ভাঙ্গা কাঁচ আজ আঁকড়ে ধরছেন। এতে নিজেকে ও জাতিকে কেবল ক্ষত-বিক্ষত করা যাবে। ভালো কিছু পাওয়া যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের আহবায়ক সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার দল আজকে সারাদেশে ধর্ষক লীগে পরিণত হয়েছে। আমরা যেমন বন্য প্রাণীদের জন্য অভারণ্য তৈরি করি, অভারণ্যের মধ্যে বন্য প্রাণীরা ঘুরে বেড়াবে। তেমনি ধর্ষক লীগের জন্য প্রত্যেক শহরে নিষিদ্ধ এলাকা করে দেয়া হোক। যাতে সেই নিষিদ্ধ এলাকাতেই তারা তাদের দুষ্কর্ম করে। জনগণের লোকালয়ে যেন আমরা এই বন্য প্রাণীদের দেখতে না পাই-এই অনুরোধ আমি রাখছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ