মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বাড়ির পাশের ধানের জমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপন করবেন কেন? -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন থেকে সরকারের নেওয়া সব উন্নয়ন প্রকল্পের ডকুমেন্ট ইংরেজিতে নয়, বাংলায় তৈরি করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই উন্নয়ন প্রকল্পের সবকিছু বুঝতে পারে।  একইসঙ্গে ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের সময় সব তথ্য বাংলায় নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
একনেক বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষি জমি ও বসতবাড়িতে কোনও শিল্পকারখানা না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যবসা করতে চান বা শিল্প করতে চান, তাহলে শিল্প এলাকায় যান। বাড়ির পাশের ধানের জমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপন করবেন কেন? আমরা উৎসাহ দেবো, আপনারা শিল্প এলাকায় এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। সেখানে আপনারা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন। গ্যাস, রাস্তা, ব্যাংক সব পাবেন।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নৌপথের বর্জ্য অপসারণে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। যেখানে সেখানে শিল্প স্থাপন করা যাবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে হবে- যেখানে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ রাস্তাসহ সবধরনের সুবিধা রয়েছে।’ পাশাপাশি নদীর পাড় দখলমুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নদীর পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে কচুরিপানা মুক্ত করে নদী ড্রেজিং করতে হবে।
এদিকে ’জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৭৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৬২৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ১৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আজকের একনেক বৈঠকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো  নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং’ প্রকল্প এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ভৈরব নদ পুনঃখনন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প ও ‘নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখীল, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন শীর্ষক’ প্রকল্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ