ঢাকা, রোববার 25 October 2020, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, সংবিধান নেই : মির্জা ফখরুল

সংগ্রাম অনলাইন: বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘আজকে আমাদের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যিনি গণতন্ত্রের পতাকা তার সমস্ত রাজনৈতিক জীবনে তুলে ধরেছেন, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি নির্বাসিত হয়ে আছেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

মঙ্গলবার বিকেলে রামু ট্র্যাজেডি’র ৮ বছর উপলক্ষে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধদের শুভ মধুপূর্ণিমার আগে রাতে রামু-উখিয়া-পটিয়াবাসী বৌদ্ধদের ওপর এ জঘন্যতম ঘটনা সংঘটিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন,‘আমাদের ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দূর করতে হবে, যারা কারাগারে আছেন তাদের বের করতে হবে। একটা মুক্ত স্বদেশ, মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। আসুন আমরা সবাই দল-মত-বর্ণ নির্বিশেষে সেই লক্ষ্যে কাজ করি।’

রামুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন,‘রামুর ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তারই একটা প্রতিফলন। বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, সংবিধান নেই। কোনো মানুষেরই এখানে অধিকার নেই। সেটা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হোক, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী হোক, ইসলাম ধর্মাবলম্বী হোক, কারোই কোনো অধিকার এখানে নেই।’

‘এককথায় এখন এটা পুরোপুরিভাবে গণতন্ত্রবিহীন একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদীও বলি না। আজকে সমস্ত বিশ্বেই আমার কাছে মনে হয় যে, একটা নষ্ট সময় যাচ্ছে। আজকে কর্তৃত্ববাদীতা, অন্যের অধিকার হরণ করা, অন্যের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা-এটা একটা প্রবণতা বেড়েই চলেছে প্রতিদিনই।’

তিনি বলেন,‘যারা ক্ষমতাশালী, যারা পরাক্রমশালী তারা নিজেদের সম্পদকে টিকিয়ে রাখবার জন্যে তারা অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, তারা রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।’

‘ঠিক একইভাবে আজকে বাংলাদেশেও একটা শক্তি যে শক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে, আমাদের দেশের মানু্ষের অধিকারগু্লোকে হরণ করেছে এবং আমাদের যে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের যে মূল চেতনা ছিলো সেই চেতনাকে ধবংস করে দিয়েছে।’

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন,‘দুঃখ হয়, যে আওয়ামী লীগ দাবি করে যে তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, স্বাধীনতার চেতনা তারা ধারণ করে, তারা দাবি করে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের শক্তির মূল হচ্ছে তারা। দুর্ভাগ্যক্রমে যখনই তারা ক্ষমতায় আসে অথবা জোর করে দখল করে তখনই দেখা যায় যে, অন্যের অধিকারকে হরণ করে, অন্যের কথা বলার স্বাধীনতা সব কিছু তারা হরণ করে নিয়ে যায়।’

‘মূল কারণটাই হচ্ছে যে, তারা তাদের যে রসায়ন আছে, ইনার ক্যামেস্ট্রি, সেই রসায়নে কাজ করে এক মেরু অদ্বিতীয়া-আমি ছাড়া আর কেউ নেই।’

রামুর ঘটনাসহ সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলার নানা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘দেখবেন যে, আওয়ামী লীগ যখনই এসেছে ক্ষমতায় তখনই এই প্রবণতা বেড়ে গেছে। দেখা যায় যে, হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কখনো নিরাপদ বোধ করেনি, তাদের সম্পদ দখল করে নেয়া হয়েছে।’

‘পাকিস্তানিরা শত্রু সম্পত্তি আইন করেছিলো। সেই আইনটা এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এখানে কিন্তু আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে অধিকারগুলো, সেই অধিকারগুলোকে নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা তারা করেনি। এদের একটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আছে। মুখে বলবে তারা বলবে সব সময় যে, আমরা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ আমরা রক্ষা করি। তাদের দ্বারাই তাদের নেতাদের দ্বারা তাদের সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুদের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘আমাদের এখানে গণতন্ত্র নেই, জনগনের শাসন নেই, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংবিধান নেই। ওই জায়গায় এসে আমাদের ধরতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের এজিএমে বলেছিলেন, আজকে দেশ ও জাতির জীবনে যে সংকট উপস্থিত এই সংকট বিএনপির নয়, খালেদা জিয়ার নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, এটা আজকে সমগ্র জাতির।’

‘সেই সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে হলে একাত্তর সালে যেভাবে সমস্ত জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলো, স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছিলো। আজকে সেইভাবে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরকে এই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করে সরাতে হবে, জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সংগঠনের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অপলেন্দু দাস অপু‘র সঞ্চালনে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্তু কুমার কুন্ড, দীপেন দেওয়ান, অর্পনা রায় দাশ, দেবাশীষ রায় মধু, সুশীল বড়ুয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, তরুণ দে, মিল্পন বৈদ্য প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ