ঢাকা, রোববার 25 October 2020, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

মহামারীতে বিদেশে কর্মসংস্থানে ধস

সংগ্রাম অনলাইন: চলতি বছরে বিদেশে সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কোভিড-১৯ এর কারণে অগাস্ট পর্যন্ত আট মাসে মাত্র এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

মহামারীর মধ্যে বিদেশে চাকরির বাজার কতটা সঙ্কুচিত হয়েছে সোমবার তা মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে মহামারীকালে গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও জানানো হয়।

পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৯ সালে সাত লাখ এক হাজার জনের বিদেশে কর্মসংস্থানের টার্গেট করা হলেও সাত লাখ ১৫৯ জন চাকরি নিয়ে বিদেশ যায়।

“২০২০ সালে বিদেশে কর্মসংস্থানের টার্গেট ছিল সাড়ে সাত লাখ। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে গত জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে।”

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত চার লাখ ছয় হাজার ৯৬২ জন বাংলাদেশে কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জনকর্মী দেশে এসেছেন জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, এরমধ্যে ২৮ হাজার ৫৮৬ জন ট্রাভেল পাস নিয়ে ফেরত এসেছেন। এদের পুনরায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

“আমাদের প্রায় এক কোটির মত মানুষ বাইরে থাকেন বা কাজ করেন। বড় সংখ্যক লোকজন ট্রাভেল করেন।”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৭৪ জন বিদেশ থেকে আসেন। এদের এয়ারপোর্টে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে রেকর্ড ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাওয়া গেছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, যেটা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

“আমরা কোভিড-১৯ কারণে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা একটা ভালো দিক।”

আনোয়ারুল বলেন, সৌদি আবরে যাওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন, উনারা আশ্বাস দিয়েছেন আকামার মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে, যাতে সবাই যেতে পারে।

“পাশাপাশি আকামা পরিবর্তন করার একটা ব্যবস্থা করার রিকুয়েস্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কারণ অনেক দেশ থেকে অনেক উদ্যোক্ত চলে গেছেন। যেখানে চাকরি করত সেখান থেকে যেন উনারা অন্য কোথাও যেতে পারেন। কারণ আমাদের বেশিরভাগ লোকই বেসরকারি সেক্টরে চাকরি করেন।”

আরো বেশি করে বিমান বা সৌদিয়ার ফ্লাইট অ্যালাও করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং যারা বিদেশে গেছেন তাদের কীভাবে আরও ভালোভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায় বা কীভাবে আরো দেশে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় সে বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অষ্টম পর্বে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অষ্টম পর্বে সম্প্রসারণের প্রস্তার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মোট সাত পর্বে ৩৭ জেলার ১২৮টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে দুই লাখ ৩০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরমধ্যে দুই লাখ ২৮ হাজার ১২৯ জনকে অস্থায়ী কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

নতুন করে অষ্টম পর্বে এই কর্সসূচি সম্প্রসারণে ৪৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

২০১০ সালের ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কুড়িগ্রাম থেকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ