ঢাকা, মঙ্গলবার 27 October 2020, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে: মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিবৃতি

সংগ্রাম অনলাইন: চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সদ্য প্রয়াত মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে হাটহাজারী মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।  

বিবৃতিতে বলা হয়, শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু না। এরপরও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীনস্বার্থ উদ্ধারে আহমদ শফীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করা ও কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শাহ আহমদ শফী স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় মাদ্রাসার শুরা কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন। আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত। মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলনে কোনো শিক্ষক, বাইরের কোনো সংগঠন কিংবা ব্যক্তির উসকানির অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে বিবৃতিতে।  

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস চলছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্র–শিক্ষক সবাই সন্তুষ্ট।

বিবৃতিদাতারা হলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির প্রধান মুফতি আবদুস সালাম, সদস্য শেখ আহমদ এবং মাওলানা ইয়াহিয়া, প্রধান শায়খুল হাদিস এবং শিক্ষাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা শুয়াইব, মুফতি জসিম উদ্দিন, শিক্ষক কবির আহমদ, আশরাফ আলী নিজামপুরী, আহমদ দিদার কাসেমী, ফোরকান আহমদ প্রমুখ। 

ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ান আহমদ শফী। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় শুরা কমিটি। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ছাত্ররা ছয় দফা দাবিতে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ শুরু করেন। ওই সময় তাঁরা আনাসকে অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবি দেন। দাবি মেনে নেওয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতে শফীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

পরদিন মাদ্রাসাসংলগ্ন মসজিদে তাঁকে দাফন করা হয়। সেদিন রাতে মাদ্রাসার শুরা কমিটি শফীর পরিবর্তে মহাপরিচালক নির্ধারণ না করে মুফতি আবদুস সালামসহ তিন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করে।

এদিকে আহমদ শফীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আনাস মাদানীসহ অনুসারীরা অভিযোগ করে আসছেন, আন্দোলনের সময় ছাত্ররা আহমদ শফীর কক্ষ ভাঙচুর করেন। জোর করে তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগ নেন। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে যথাসময়ে হাসপাতাল যেতে দেওয়া হয়নি।

-শীর্ষনিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ