ঢাকা, সোমবার 26 October 2020, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষ বিদায়

সংগ্রাম অনলাইন: প্রায় অর্ধ শতকের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি, সহকর্মী, বন্ধু-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, আইনজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে ফুলেল শ্রদ্ধায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

তার আগে বেলা সাড়ে ১১টায় সেখানেই তার জানাজা হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব আবু সালেহ মো. সলিমুল্লাহ।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমবেতদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “মাহবুবে আলম নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে গেছেন আইন পেশা ও আইনজীবীদের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষার জন্য। সেই দায়বদ্ধতা রক্ষা করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তবে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যদি কারো কোনো ধরনের পাওনা থেকে থাকে তাহলে তার (মাহবুবে আলমের) কন্যা আইনজীবী শিশির কনার সাথে, অথবা আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।”

মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কোনোভাবে যদি আমার বাবার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার বোন আইনজীবী সমিতির সদস্য, তার প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমার আর কিছু বলার নাই।”

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো করা হয় মাহবুবে আলমের কফিনে।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেলের কফিনে। 

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি ফুলেল শ্রদ্ধায় বিদায় জানান মাহবুবে আলমকে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে বসেনি।

সকালে ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চের কাজ শুরু হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা ব্যথিত। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আদালত বসছে না।”

প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমপ্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমশ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “মাহবুবে আলমের আদর্শেই তরুণ আইনজীবীরা পেশাদারী হয়ে উঠবেন। তার আদর্শ আইনজীবীদের পদ দেখাবে।”

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, “মাহবুবে আলমের আদর্শ ও পেশাদারিত্ব অনুসরণীয়। আইন পেশায়, আইনজীবীদের মধ্যে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।” 

জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাহবুবে আলমের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থনে। সেখানেই তাকে শায়িত করা হয়।

আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, হাই কোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ছাড়াও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কয়েকজন এবং মাহবুবে আলমের দুই ছেলেমেয়ে দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবে আলম। তার বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর ৬ মাস। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে নেওয়া হয়।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ পান। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবে আলম। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনাও করেন তিনি। -বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ