ঢাকা, শুক্রবার 30 October 2020, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আদালতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ

সংগ্রাম অনলাইন : সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ওই ঘটনা আদালতকে জানালেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

আজ রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে রাতে কী ঘটেছিলো তার বর্ণনা দেন তিনি।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরে পুলিশ ওই গৃহবধূকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি আদালতে ওই রাতের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত তার জবানববন্দি লিবিবদ্ধ করে।

 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকালে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন যুবক জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

এদিকে, গণধর্ষণের ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় রবিবার সকালে প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুরকে সুনামগঞ্জের ছাতক সীমান্ত এলাকা থেকে এবং অর্জুন লস্করকে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ছাতক খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ছাতক থানার এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাইফুরকে গ্রেপ্তার করে।

অপরদিকে সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা সীমান্ত এলাকা থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মাধবপুর থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম দস্তগির।

এর আগে এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী।

মামলার অপর ৪ আসামি হলেন- মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। মামলার অপর তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার দিন গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ