বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

আল্লামা সৈয়দ আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া (র:) -মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী

গত ১২ নবেম্বর উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল মাশায়েখ হাফিজ মাওলানা সৈয়দ আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়ার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০১ সালের এই দিনে হযরত শায়খে কৌড়িয়া ইন্তিকাল করেন। আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম (বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের) চেয়ারম্যান, ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের কেন্দ্রীয় মুরববী, আমীরে জমিয়ত শায়খে তরিকাত উস্তাদুল উলামা, ক্বাইদে মিল্লাত হযরত শায়খে কৌড়িয়া (রহ.) ইসলামী রাজনীতির অঙ্গনে স্বীয় মুর্শিদ স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ কুতুবে আলম আওলাদে রাসূল (স.) শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুছাইন আহমদ মদনী (র.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জমিয়তের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকেই তাঁর রাজনীতির সূচনা। হযরত মদনী (র.)-এর একনিষ্ঠ সহচর হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেন। আযাদী আন্দোলনে ব্যর্থ হবার পর আলেম সমাজ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ১৮৬৬ ঈসায়ীর ৩০ মে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য দ্বীনিশিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদের সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা, তাই দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান ১৮৭৮ খৃস্টাব্দে ‘‘ছামারাতুত তারবিয়াহ’’ ও ১৯০৯ খৃস্টাব্দে ‘‘জমিয়তুল আনসার’’ নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। অতঃপর তিনি ‘আযাদ হিন্দ মিশন' নামক একটি বিপ্লবী পরিষদ গড়ে তোলেন এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেন। ইংরেজদের কথামত শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান ও মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) সহ তাঁর কয়েকজন সহচরকে মক্কার শরীফ হোসাইন গ্রেফতার করে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়। ফলে তিন বছরের অধিককাল তাঁদের মাল্টা দ্বীপের বন্দিশালায় ইংরেজদের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। আমাদের আলোচিত ব্যক্তিত্ব শায়খে কৌড়িয়া (র:) উল্লিখিতদের সংগ্রামী উত্তরসূরি। শায়খে কৌড়িয়া ১৯০১ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথের কৌড়িয়া পরগনার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের গমরাগুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ মাওলানা সৈয়দ আববাস আলী (র:)। উল্লেখ্য যে, শায়খুল হিন্দ (র:) এর রেশমি রুমাল আন্দোলন ব্যর্থ হবার পর উপমহাদেশের আলেমসমাজ সশস্ত্র আন্দোলনের পথ পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেন। এই লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ১৮ নবেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত কনফারেন্সের শেষ দিনে মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মাওলানা আহমদ সাঈদ দেহলভীসহ ২৫ জনকে নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ গঠিত হয়। মুফতি কেফায়েতুল্লাহ সাহেব প্রথম সভাপতি ও মাওলানা আহমদ সাঈদ নাযেম নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালে শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান ও শায়খুল ইসলাম মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী মাল্টার বন্দিত্ব হতে মুক্তি পান। ভারতবর্ষে ফিরে এসে শায়খুল হিন্দ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ১৯২০ খৃস্টাব্দের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সভায় সভাপতিত্ব করেন। ইতোমধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কী খেলাফতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মাওলানা মুহাম্মাদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীর নেতৃত্বে ভারতবর্ষে খেলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে। হযরত শায়খুল হিন্দের পৃষ্ঠপোষকতায় জমিয়তের আন্দোলন চলতে থাকে। সর্বভারতীয় উলামায়ে কেরামের একক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তার প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকেই অর্থাৎ ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারির বৈঠকে ইংরেজদের কবল হতে ভারত উপমহাদেশের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার দাবি করে। অপরদিকে ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইয়ে উমেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের পক্ষ হতে ভারতের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয় ১৯৩০ সালে। আর ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু তারা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার দাবি করে ১৯৪০ সালে। ১৯৫১ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উদ্যোগে সিলেটে এক উলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নদভী। সম্মেলনে ইসলামী শাসনতন্ত্রের খসড়া পেশ করা হয়। অতঃপর ১৯৫১ সালে করাচীতে আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নদভীর সভাপতিত্বে সকল দল-মতের উলামায়ে কেরামের এক ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামী শাসনতন্ত্রের ঐতিহাসিক ২২ দফা মূলনীতি প্রণীত ও অনুমোদিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ছিলেন শর্ষিনার পীর মাওলানা নেছার উদ্দিন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় মাওলানা আতহার আলী প্রথমে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে ও পরে সভাপতি হিসেবে জমিয়তের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সারা দেশে সামরিক শাসন জারি করেন এবং ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ূব খান ক্ষমতা দখল করেন। দেশে সামরিক আইন থাকায় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ‘‘নিজামুল উলামা’’ নামে অরাজনৈতিক সংগঠন কায়েম করে কাজ চালিয়ে যান। আইয়ূব খান কর্তৃক জারিকৃত শরীয়তবিরোধী মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ইতোমধ্যে মাওলানা আহমদ আলী লাহোরী ইন্তিকাল করেন এবং হাফিজে হাদীস মাওলানা আব্দুল্লাহ দরখাস্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ূব খান সামরিক আইন তুলে নিলে জমিয়ত পুনরায় তৎপরতা শুরু করে এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ দরখাস্তীকে সভাপতি ও মাওলানা গোলাম গাওছ হাজারভীকে সাধারণ সম্পাদক করে জমিয়তের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। আইয়ূব খানের একনায়কতন্ত্র ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জমিয়তের নেতৃবৃন্দ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে লাহোর মুচী দরওয়াজায় পাকিস্তানের উভয় প্রদেশের প্রায় ৫ হাজার উলামায়ে কেরামের এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে প্রথম দিনে কাউন্সিল অধিবেশন হয় ও হাফেযে হাদীস মাওলানা আব্দুল্লাহ দরখাস্তী জমিয়তে উলামার সভাপতি ও মুফতী মাহমুদ সাহেব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জমিয়ত নব উদ্যমে কাজ শুরু করে। এসব আন্দোলনের সাথে শায়খে কৌড়িয়ার নিবিড় সম্পৃক্ততা ছিল। তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে সিলেটের উলামা মাশায়েখদের এক সভা সিলেট হাওয়া পাড়া মসজিদে ১লা নবেম্বর ১৯৬৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খলিফায়ে মদনী হযরত মাওলানা বশির আহমদ শায়খে বাঘা (র.)কে পৃষ্ঠপোষক, মাওলানা রিয়াসত আলী রানাপিংগীকে সভাপতি, শায়খে কৌড়িয়াকে সহসভাপতি ও মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথীকে সাধারণ সম্পাদক করে সর্বপ্রথম সিলেট জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ ১৯৬৬ সালে ঢাকার নবাব বাড়িতে উলামায়ে কেরামের এক সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে পূর্বপাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১লা মে লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জমিয়তের কাউন্সিলে আল্লামা দরখাস্তীকে আমীর, হযরত শায়খে বাঘাকে নায়িবে আমীর ও মুফতী মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক এবং মোমেনশাহীর মাওলানা আরিফ রববানীকে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। অতঃপর ৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার ইডেন হোটেলের সম্মুখস্থ মাঠে অনুষ্ঠিত জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশনে পীর মোহসেন উদ্দীন আহমদ দুদু মিয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭১ সালে আগস্ট মাসে পীর সাহেব সভাপতির পদ হতে ইস্তফা দিলে জমিয়তের পৃষ্ঠপোষক খলিফায়ে মদনী মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আইয়ূবখানের পতনের পর ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচন দেন। জমিয়ত উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উক্ত নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামই কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিক সংখ্যক আসন লাভ করে। জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মুফতী মাহমুদ সীমান্ত প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর জেনারেল ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর হত্যাকারী সিদ্ধান্তের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার অনিবার্য পরিণতিতে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের পর বাংলাদেশ মুক্ত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ইসলামী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নিষিদ্ধ হয়নি। তবে ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল ইসলামী রাজনৈতিক দল বেআইনি ঘোষিত হলে জমিয়ত তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডও বন্ধ করে দেয়। স্বাধীনতার পর বন্ধ ঘোষিত মাদরাসাসমূহ খুলে দেবার ব্যাপারে শায়খে কৌড়িয়া ও জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে যাত্রাবাড়ী দারুল উলূম মাদানিয়ায় অনুষ্ঠিত এক উলামা সম্মেলনে মাওলানা শায়খ তাজাম্মুল আলী জালালাবাদীকে সভাপতি ও মুফতী আহবারুজ্জামান হবিগঞ্জিকে সাধারণ সম্পাদক করে জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ গঠন করা হয়। অতঃপর ২৯ অক্টোবর ১৯৭৪ সালে যাত্রাবাড়ী দারুল উলুম মাদানিয়ায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মজলিসে আমেলা গঠন করা হয়। ২৫, ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে পাটুয়াটুলি জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মাওলানা আযীযুল হককে সভাপতি ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পুনর্গঠন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা সমূহকে একটি বোর্ডের আওতায় আনার জন্য মাওলানা রেজাউল করীম ইসলামাবাদীকে আহবায়ক করে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। মাওলানা ইসলামাবাদী ১৯৭৮ সালে শায়েস্তা খান হলে কওমী মাদরাসা সমূহের এক সম্মেলন আহবান করেন। উক্ত সম্মেলনে ‘‘বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়্যাহ আল-আরাবিয়্যাহ বাংলাদেশ’’ নামে বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা বোর্ড গঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর জমিয়ত নেতৃবৃন্দের সক্রিয় সহযোগিতায় হযরত হাফেজ্জী হুজুর ১৯৮১ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। হাফেজ্জী হুজুরের আহবানে জমিয়ত সাময়িকভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থগিত রেখে হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বে খেলাফত আন্দোলনের সহিত রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এক্ষেত্রেও শায়খে কৌড়িয়ার অবদান বিরাট। ১৯৮৪ সালে জমিয়তের এক সম্মেলনে খেলাফত আন্দোলন হতে জমিয়তের সমর্থন প্রত্যাহার করা হয় ও মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় শুরু করা হয়। ২৮ মার্চ ১৯৮৮ সালে জামেয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদরাসায় অনুষ্ঠিত জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশনে মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি, মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে সহ-সভাপতি ও সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। অতঃপর ২৫ নবেম্বর ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশনে মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি, মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমীকে নির্বাহী সভাপতি ও মুফতী মুহাম্মাদ ওয়াক্কাসকে মহাসচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত করা হয়। ১৯ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমী ইন্তেকাল করেন। ১৯৯৬ সালের ৩০ নবেম্বর ও ১লা ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি, মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে নির্বাহী সভাপতি ও মুফতী মুহাম্মাদ ওয়াক্কাসকে মহাসচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত করা হয়। ২৩ ও ২৪ জুন ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়াকে সভাপতি, মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথীকে নির্বাহী সভাপতি ও মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মহাসচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। ২০০১ সালে শায়খে কৌড়িয়া ইন্তিকাল করার পর মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথীকে সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ২০০৫ সালে শায়খে বিশ্বনাথী ইন্তিকালের পর খলিফায়ে মদীন আল্লামা আব্দুল মোমিন শায়খে পুরানগাঁও সভাপতি নির্বাচিত হন। ইসলামকে মানবজীবনের পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উপলব্ধি করতেন বলে শায়খে কৌড়িয়া রাজনীতিকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করতেন। হক্ক-হক্কানিয়তের জন্য আজীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তৎকালীন জমিয়তে উলামার বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করতে পরপর ৩ বার কারা বন্দি হন। বৃটিশ সরকার তাকে দীর্ঘ ৬ মাস গ্রেফতার করে রেখে ছিল। দেশ বিভাগের প্রাক্কালেও তিনি ৩ মাস কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে আরও ১ মাস কারাবরণ করেন। ১৯৬৪ সালে সিলেট জেলা জমিয়তের নায়বে আমীরের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জমিয়তের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালের ১৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান জমিয়তে উলামার সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ থেকে ২০০১ সাল (মৃত্যু) পর্যন্ত তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালের নাস্তিক মুরতাদ, তসলিমা নাসরিন, আহমদ শরীফসহ নাস্তিক-মুরতাদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তা মূলত আল্লামা শায়খে কৌড়িয়ারই পৃষ্ঠপোষকতার ফসল। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমীন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ