ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 October 2020, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

অনিয়মের অভিযোগে পাবনা উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: নানা অনিয়মের অভিযোগে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘেরিয়া) আসনের উপ-নির্বাচন বর্জন করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে তিনি নিজেও ভোট দেননি। 

আজ শনিবার দুপুর ১২টায় তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি এই অনিয়ম ও অভিযোগের কথা জানান।

বিএনপি প্রার্থীর হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনও সেন্টারে বিএনপির এজেন্ট দিতে দেওয়া হয়নি।আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে তিনটি মামলা দায়ের করে তাদের এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। এখানে কোনও নির্বাচনই হচ্ছে না। 

আজ সকালে ভোট শুরু হলেও ভোটার ছিল বেশ কম। এ আসনে ভোটে দাঁড়িয়েছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী রেজাউল করিম।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বিএনপির প্রার্থী হাবিব এই নির্বাচনে জিততে আসেননি। তিনি বাণিজ্য করতে এসেছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি প্রথম থেকেই ষড়যন্ত্র করছিলেন। তাদের কোনও প্রচার-প্রচারণাও ছিল না। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তিনি এই নির্বাচন বাতিল চাইছেন।

এসএম কামাল আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথাও বিএনপি কিংবা হাবিব সাহেবের কোনও কর্মীকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়নি। হুমকি-ধমকির প্রশ্নই আসে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি, মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নির্বাচন কমিশন তথ্য মতে, পাবনা-৪ ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া আসনে দুই উপজেলা, দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৪টি, মোট ভোটার তিন লাখ ৮১ হাজার এক শ’ ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ জন।

পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা যাওয়ায় পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ২ এপ্রিল তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২৫ বছর আসনটি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব টানা দু’বার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ