বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে উঠছে ওমরাহ পালনের নিষেধাজ্ঞা

এএফপি, আরব নিউজ : অক্টোবর মাস থেকে আবার ওমরাহ হজ্ব করার সুযোগ উন্মুক্ত করছে সৌদি আরব।  যথাযথ সতর্কতা রেখে প্রথমে দেশটির নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে বিদেশিদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। সৌদি পত্রিকা ও ফরাসি বার্তা সংস্থা এই খবর দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার সৌদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি এবং ধর্মীয় এই আয়োজনের জন্য মুসলিম বিশ্বের আকাক্সক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়েকটি ধাপে ওমরাহ হজে¦র সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে।
সৌদি নাগরিকদের জন্য ওমরাহ হজ্ব পালনের সুযোগ চালু হবে ৪ অক্টোবর থেকে। তবে মোট ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ মানুষ ওমরাহে অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ প্রায় ৬০০০ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ হজ করতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ অক্টোবর থেকে ওমরাহকারীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তখন গ্র্যান্ড মসজিদের ধারণ ক্ষমতার ৭৫ শতাংশ খুলে দেয়া হবে। অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার হাজি হজে অংশ নিতে পারবেন। তৃতীয় ধাপে পহেলা নবেম্বর থেকে বিদেশীদের জন্য ওমরাহ করার সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। সেই সময় একেকবারে ২০ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ করতে পারবেন। দিনে মোট ৬০ হাজার মানুষ ওমরাহ করার সুযোগ পাবেন।
চতুর্থ ধাপে, যখন করোনাভাইরাসের ঝুঁকি আর থাকবে না, তখন গ্র্যান্ড মসজিদের কর্মকাণ্ড পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। 'আইতামার্না’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে ওমরাহ যাত্রীদের প্রবেশ ও দর্শনের ব্যাপারগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এই অ্যাপটি চালু করেছে। এটি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যগত তথ্য এবং হজযাত্রীদের ভ্রমণ সম্পর্কিত তথ্যাদি নজরদারি করা যাবে।
হজে¦ অংশ নিতে বা পবিত্র স্থানগুলোয় যারা যেতে চান, তাদের সবাইকে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ স্বাস্থ্য সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, মহামারির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিয়েই সৌদি আরবের ভেতরের ও বাইরের সবাইকে তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার সুযোগ করে দিতে চায়।

সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে সম্মত ভারত-চীন
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (অ্যাকচুয়াল লাইন অব কন্ট্রোল) অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দিল্লী ও বেইজিং। যৌথ বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সোমবার মলডোতে দুই দেশের সেনা পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছে।   
লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে মলডোতে সোমবার ভারত-চীন সেনা পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা প্রশমণের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়েছে বলে দুই দেশই যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে। তবে, ভারত-চিন বিরোধ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ওই বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণরেখায় সামরিক আক্রমনাত্মক আচরণে নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় তাই দু’দেশের সেনাস্তরে এই সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করা হয়েছে। লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনার আবহে সেপ্টেম্বরের শুরুতে মস্কোয় ভারত-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে পাঁচটি বিষয়ে সহমত হয়েছিলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সোমবার দিল্লী-বেইজিং সেনা স্তরের ষষ্ঠ বৈঠক হয় মলডোতে।
গত মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২১ সেপ্টেম্বর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে ভারত-চীন সেনাস্তরে আলোচনা হয়েছে। স্থিতাবস্থা ফেরানোর প্রশ্নে দু’দেশের রাজনৈতিক নেতারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করতে তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়ানো, আলোচনা ও পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেও রাজি হয়েছে দু’পক্ষ। সীমান্তে নতুন করে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হবে না বলে সম্মত হয়েছে দু’দেশ। কোনও দেশ এককভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পরিবর্তনের চেষ্টা করবে না কিংবা সীমান্ত পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না।’
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সেনা পর্যায়ে সপ্তম বৈঠকের জন্য রাজি ভারত ও চীন। দ্রুত তা হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও সেখানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এ ধরণের বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে, ভারত-চীন বিরোধপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। মলডোতে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন লেহতে নিয়োজিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৪ কর্পস বাহিনীর কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। চীনা দলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ শিনজিয়াং সামরিক অঞ্চলের কম্যান্ডার মেজর জেনারেল লিউ লিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ