রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দেশব্যাপী রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: যত্রতত্র রাস্তা নির্মাণ বন্ধে পরিকল্পিত উপায়ে দেশব্যাপী রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এদিকে ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রোজেক্ট (ডিসিএনইউপি) প্রকল্পের জন্য ৫টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ মোট চারটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩ টাকা।
গতকাল বুধবার অনলাইনে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় হয় এটা আপনি কোথায় পেয়েছেন? গতকাল একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী অন্য একটা বিষয়ে অবজার্ভেশন রেখেছেন সেটা হচ্ছে, আপনারা রাস্তাঘাট তৈরিতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু রাস্তাগুলোর কোয়ালিটি মেনটেইন করতে হবে। তিনি মেনটেইনের দিকে নজর দিতে বলেছেন। নতুন রাস্তা করে আপনারা দেশের ফসলি জমি নষ্ট করে দিচ্ছেন।
মুস্তফা কামাল বলেন, হয়তো তিন কিলোমিটার সেভ করতে গিয়ে পুরো রাস্তা ফসলি জমি দিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটাকে আরও জোরদার বা অর্থবহ করার জন্য সারাদেশে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। বর্তমানে দেশে কী পরিমাণ রাস্তা আছে, আর আগামী ১০, ২০ বা ৫০ বছরে কত রাস্তা করতে হবে এ মাস্টারপ্ল্যানে সেগুলো থাকবে। মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য আজকে কমিটির বৈঠক থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য একটি কমিটি করতে বলা হয়েছে। আমরা দেখি কীভাবে কী করা যায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুরো সরকারের অ্যাক্টিভিটিজগুলো সমন্বয় করে। তাই এটার দায়িত্ব আমাদের ওপর পড়েছে।
এদিকে দেশে খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল কোনো কথা বলেননি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অতিরিক্ত রাস্তা নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জমি সুরক্ষা করতে হবে। বেশি রাস্তা নির্মাণ করলে পানি চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা নিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাস্তা নির্মাণ করা যাবে না। এই ধরনের মানসিকতার বাইরে আসতে হবে।
এদিকে ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রোজেক্ট (ডিসিএনইউপি) প্রকল্পের জন্য ৫ টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ মোট চারটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩ টাকা।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, সভায় অনুমোদনের জন্য মোট চারটি প্রস্তাব এবং বাতিলের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদিত ৪টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৩৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৮০৪ টাকা এবং ঋণের পরিমাণ বিশ্বব্যাংক এবং দেশীয় ব্যাংক হতে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৯ টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রোজেক্ট (ডিসিএনইউপি) প্রকল্পের জন্য ৫ টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো (১) দোহা ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লিমিটেড (২) জাংগলিম আর্কিটেক্ট কো. লিমিটেড, কোরিয়া (৩) দেব কনসালটস লিমিটেড, বাংলাদেশ (৪) ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং লিমিটেড এবং (৫) তানিয়া করিম এন.আর খান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৬৪২ টাকা।
তিনি বলেন, আজকের সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দুইটি প্রস্তাব ছিলো। দুইটি প্রস্তাবই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে "ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক এর কুষ্টিয়া শহরাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের পূর্ত কাজ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জহিরুল লিমিডেটকে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৪১ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৪ টাকা।
সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অপর প্রস্তাবে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার)-ইব্রাহিমপুর ফেরীঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ত কাজ সম্পাদনে ১টি মাত্র দরপত্র জমা পড়ায় ক্রয় প্রস্তাবটি বাতিলের জন্য উত্থাপন করা হলে আমরা বাতিল করে দিয়েছি। আর নতুনভাবে ক্রয়কার্য পুনঃপ্রক্রিয়া করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে৷ প্রস্তাবটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮২ হাজার ১০৭ টাকা। সভায় অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন এর অধীন ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর জন্য ৩০ হাজার মেট্রিকটন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৭ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক মুনতাজাত, কাতার হতে ২৫ হাজার মে.টন (১০%+) ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৬১ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ৯৩৭ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ