মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কৃষ্ণাঙ্গ নারী হত্যায় পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত কিনা জানার অপেক্ষায় কেনটাকি

২৩ সেপ্টেম্বর, রয়টার্স, বিবিসি : মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় গুলীতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী নিহতের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কেনটাকির লুইভিলের বাসিন্দারা।

২৬ বছর বয়সী ব্রেওনা টেইলরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শহরটিতে টানা কয়েক মাস ধরেই তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে; ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিবাদকারীদের একটি গোষ্ঠী লুইভিলে সশস্ত্র বিক্ষোভও দেখিয়েছে।   

পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করা হবে কিনা, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যানিয়েল ক্যামেরনের ঘোষণার আগে মঙ্গলবার শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র গ্রেগ ফিশার বলেছেন,  ‘সম্ভাব্য অরাজকতা’ ঠেকাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সাধারণত যেসব সড়কে বিক্ষোভ দেখায় পুলিশকে প্রয়োজনে সেসব সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

“আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের পর বিক্ষোভকারীরা যদি জড়ো হন, তাহলে তারা যেন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকারের চর্চা করতে পারেন তার জন্য সুযোগ ও জায়গা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আমরা সব ধরনের ঘটনার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেন সবাইকে নিরাপদ রাখা যায়,” বলেছেন ফিশার। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করা বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছে, তা জানেন বলেও দাবি করেছেন লুইভিলের এ মেয়র। 

শহরটির কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে অসংখ্য স্থানে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে; কেন্দ্রীয় আদালতভবনও বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ ছুটির সব আবেদন বাতিল করেছে। বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনে ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হবে অভ্যন্তরীণ এক নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে লুইভিল কুরিয়ার-জার্নাল। গত মঙ্গলবার শহরটির পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রবার্ট শ্রোয়েডার বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই অ্যাটর্নি জেনারেলের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।  “আমরা সব ধরনের গুজবই শুনছি। আমরা সবাই জানি, কিছু একটা আসছে। কিন্তু কী আসছে, তা জানি না,” বলেছেন তিনি। 

কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশির জানিয়েছেন, বিক্ষোভ সহিংসতার আকার ধারণ করলে তিনি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনেও প্রস্তুত। 

চলতি বছরের ১৩ মার্চ রাতে নিজের ফ্ল্যাটে বয়ফ্রেন্ড কেনেথ ওয়াকারের সঙ্গে সিনেমা দেখার সময় দরজায় টোকার শব্দ পান ব্রেওনা। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সেসময় ওই ফ্ল্যাটে মাদকবিরোধী একটি অভিযান শুরু করেছিল। 

পুলিশের কাছে খবর ছিল ব্রেওনার সাবেক বয়ফ্রেন্ড, মাদক ব্যবসায়ী জামারকাস গ্লোভার এই ঠিকানা ব্যবহার করেই বিভিন্ন প্যাকেজ আদান-প্রদান করেন। এক বিচারকের দেওয়া ‘নো নক’ পরোয়ানার ভিত্তিতেই তারা ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানে নামে। গ্লোভারের নাম পুলিশের খাতায় থাকলেও ব্রেওনার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল। গ্লোভারই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে এমনটা মনে করে ওয়াকার তার নিবন্ধিত বন্দুক দিয়ে গুলি চালালে এক পুলিশ সদস্য আহত হন; তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে মাত্রই বিছানা থেকে নেমে আসা ব্রেওনা হলওয়েতে লুটিয়ে পড়েন। তার শরীরে ৫টি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে বলে মৃত্যুসনদে লেখাও হয়েছিল। 

অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্রেট হ্যানকিনসন নামে একজনকে জুনে বরখাস্ত করা হয়। দুইজনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হলেও পরে তাদেরকে প্রশাসনিক দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হয়েছে। মার্চে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানের ঘটনায় সব মিলিয়ে ৬ কর্মকর্তার ভূমিকা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে লুইভিল কুরিয়ার-জার্নাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ